চলতি বছরে ধারাবাহিকভাবে কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িংয়ের সহায়তা চেয়েছে। বোয়িং অধ্যুষিত বহরের নিরাপত্তা মান মূল্যায়ন করতে কমপক্ষে এক মাসের জন্য দুজন প্রকৌশলী পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বিমান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ইতোমধ্যেই তিনি নয়াদিল্লিতে বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া অফিসের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং গুরুতর কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, বোয়িংয়ের প্রকৌশলীরা এলে তাদের উদ্যম আরও বেড়ে যাবে।’
নিরাপত্তার মান, জবাবদিহি এবং পরিচালনার নির্ভরযোগ্যতা জোরদার করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
গত ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার জন্য ইতোমধ্যেই একটি চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিটি ফ্লাইটের ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং পরিচালনা প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে মূল কারণগুলো শনাক্ত করবে এবং কোনো অবহেলা বা ত্রুটির ক্ষেত্রে দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার জন্য ব্যাপক তদন্ত এবং কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
বিমান জানিয়েছে, এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কিছু সুপারিশসহ ফলাফল জমা দিতে বলা হয়েছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ঢাকা-আবুধাবি ফ্লাইটের শৌচাগারে ফ্লাশের ত্রুটির ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে দুজন কর্মকর্তাকে। সেই সঙ্গে একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রামে আরও একজন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিমান জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম, আবুধাবি, শারজাহসহ গুরুত্বপূর্ণ বহির্গামী স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত বিমানের চাকা মজুতের ব্যবস্থা করেছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চাকা প্রতিস্থাপন করা যায়। অতিরিক্ত চাকার জন্য ইতোমধ্যেই ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমান জানায়, জেদ্দায় টায়ার ফেটে যাওয়ার ঘটনার তদন্ত সংস্থাটির পরিচালকের (ফ্লাইট অপারেশনস) তত্ত্বাবধানে করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সংস্থাটির পরিচালক (প্রকৌশল ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা) এবং প্রধান প্রকৌশলীদের দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণের সরাসরি তত্ত্বাবধান আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করার জন্য ১৮ আগস্ট থেকে একটি বিশেষ রাত্রিকালীন রক্ষণাবেক্ষণ শিফট চালু করা হয়েছে।
বিমানের ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের একটি বিস্তৃত পর্যালোচনাও চলছে। যার মধ্যে রয়েছে কম্পোনেন্ট সার্ভিসেস প্রোগ্রাম (সিএসপি) তালিকা সংশোধন এবং প্রস্তাবিত খুচরা যন্ত্রাংশ তালিকা (আরএসপিএল) পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা।
বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকৌশলীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দক্ষতা এবং কারিগরি জনবল জোরদার করতে নতুন শিক্ষানবিশ মেকানিক নিয়োগ শুরু হয়েছে।