গত ১৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ৬৩৪ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)।
বেতনের দাবিতে গত বুধবার থেকে তারা আন্দোলন শুরু করেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওইদিন সকাল থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট (সিসিএইচএসটি) এর প্রধান কার্যালয় মহাখালীর বিএমআরসি ভবনে অবস্থান শুরু করেছেন।
এতে বৃহস্পতিবার (২৫সেপ্টেম্বর) ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা বেতন না পাওয়া পর্যন্ত বিএমআরসি ভবন ছাড়বেন না।
আন্দোলনকারীরা জানান, সিএইচসিপি-দের ১৩ হাজার ৯২৩ টি পদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে এবং পদ সৃজন করা হয়েছে। এতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) এর অনুমোদন আছে।
কিন্তু ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে সৃজিত পদের বিপরীতে কর্মরত ১৩ হাজার ২৮৯ জনকে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে বেতন-ভাতাদি দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ৬৩৪ জনকে বেতন-ভাতাদি দেওয়া হচ্ছে না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া মো. রাসেল শিকদার বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৭ টার দিকে বলেন, ‘আমরা বুধবার সকাল থেকে আন্দোলন করছি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতাদি প্রদান না করা হবে তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
জানতে চাইলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এক-দেড়শর মত আমাদের এখানে অবস্থান করছে। গতকালও আসছিলো। এই ৬৩৪ জন ১৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না। যারা সরকারী চাকরি করেন, তারা ১৫ মাস বেতন না পেলে তো তাদের অবস্থা খারাপ হওয়ারই কথা।’
তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার ৯২৩ জনের অনুমোদন আছে। কিন্তু আমাদের আগের এমডির সম্ভবত কোনো একটা ভুলের জন্য বা অন্য কোনো কারণে তখন ৬৩৪ জনকে বাদ দিয়ে ১৩ হাজার ২৮৯ জনকে বেতন দেওয়া শুরু হয়। তারা কাজও করছেন, অনুমোদনও আছে, তাদের বরাদ্দও আছে। কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না। যেখানে পদ সৃজন আছে, অনুমোদন আছে, সেখানে কেন এমন জটিলতা হয়েছে তা আমি ঠিক বলতে পারছি না।’
এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আসলে একেক জনের একেক মতের কারণে হয়তো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। আবার স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেই কারণে মন্ত্রনালয় হয়তো একটু ভয় পেয়েছে। নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু যা ই করুক, কমিউনিটি ক্লিনিক অন্য ফর্মে নিয়ে যাক। কিন্তু এই লোকগুলো তো থাকবেই। এখন যারা কাজ করছে, তাদের আপনি বেতন দেবেন না কেন? বেতনও আমাদের কাছে আছে। ওদের বেতনের টাকাও কিন্তু অর্থমন্ত্রনালয় দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের মন্ত্রনালয় (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।’
এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানা চেষ্টা করেও জানা সম্ভব হয়নি।
আরিফ সাওন/এসএন