ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

জাতিসংঘে যেসব বিষয় তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ পিএম
জাতিসংঘে যেসব বিষয় তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০ তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০ তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে তিনি কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন। এগুলো হলো রোহিঙ্গা সংকট, গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকা, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা।

এছাড়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনও স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না। দেশের গণতন্ত্র আর কখনও হুমকির মুখে পড়বে না।

তিনি বলেন, গত বছর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ তরুণসমাজ স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছিল। সেই অভ্যুত্থান বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের নতুন পথ খুলে দিয়েছে এবং সেই দায়িত্বই জনগণ তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।

সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা

ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাহী আদেশে সংস্কার চালানো সম্ভব হলেও তার সরকার বেছে নিয়েছে কঠিন পথ—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রক্রিয়া। এজন্য বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করতে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এর ফলস্বরূপ, গত জুলাই মাসে সব দল একযোগে ‘জুলাই ঘোষণা’র মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমে তাদের সময়বদ্ধ অঙ্গীকার করে।

ড. ইউনূস বলেন, এই অঙ্গীকারের কারণে আগামী নির্বাচনে যে দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার বাস্তবায়নে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সতর্ক করে বলেছেন, আট বছর পরও মায়ানমারে চলমান সংঘাত গোটা অঞ্চলের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে, যা এখনো কোনো সমাধানের দিকে যাচ্ছে না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রাখাইনে সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে জন্ম নেওয়া বঞ্চনা ও নিপীড়ন এখনো চলছে। বৈষম্যমূলক নীতিগুলো দ্রুত বাতিল করতে হবে।”

মায়ানমারের সব জাতিগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি এবং বলেন, রোহিঙ্গাদের সমান অধিকার নিয়ে সমান নাগরিক হিসেবে একীভূত করতে হবে।

একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বরাত দিয়ে তিনি জানান, “যদি দ্রুত নতুন অর্থায়ন না আসে, তবে মাসিক রেশন কমিয়ে প্রতিজনের জন্য মাত্র ৬ ডলার করা হতে পারে।”

এ সিদ্ধান্ত ক্ষুধা ও অপুষ্টিকে ভয়াবহ করে তুলবে এবং রোহিঙ্গাদের হতাশার পথে ঠেলে দেবে।

‘নবায়নের পথ কখনো হারায় না’—বাংলাদেশের অভ্যুত্থান নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এটি গত বছরের জেনারেশন-জেড নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর দ্বিতীয়বার তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখলেন।

তিনি বলেন, “গত বছর আমি এই মহিমান্বিত পরিষদে এমন এক দেশ থেকে আপনাদের উদ্দেশে কথা বলেছিলাম, যে দেশ সদ্য একটি জনপ্রিয় অভ্যুত্থানের সাক্ষী হয়েছে। আমি তখন আমাদের রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলাম।”

“আজ আমি জানাতে চাই, সেই যাত্রায় আমরা কতদূর এগিয়েছি। পৃথিবীর প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে প্রায় ৩ জন বাংলাদেশে বাস করেন। কিন্তু আমাদের গল্প শুধু সংখ্যা বা ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সাধারণ মানুষের অসাধারণ শক্তির স্মারক।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের গল্প গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বিশ্বের প্রতিটি জাতির মধ্যে আশা জাগায়—সংকট যত গভীরই হোক, সমাধান যতই অসম্ভব মনে হোক না কেন, নবায়নের পথ কখনো হারিয়ে যায় না।”

প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টা
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭১ লাখ বাংলাদেশি বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০১৯ সালে তারা দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, “তাদের অবদান শুধু বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য নয়, সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্বাগতিক দেশগুলোর জন্যও, যেখানে তারা উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করে থাকেন। অভিবাসন তাই উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী—আমাদের জন্যও ভালো, তাদের জন্যও ভালো।”

তিনি স্বাগতিক দেশগুলোকে আহ্বান জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।

গাজায় ‘সরাসরি গণহত্যা’ চলছে
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের এই মতের সঙ্গে একমত যে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা একমত যে আমরা এখন সরাসরি গণহত্যা ঘটতে দেখছি।”

তিনি যোগ করেন, “দুঃখজনকভাবে মানবতার পক্ষ থেকে আমরা যথেষ্ট কিছু করছি না এটি থামানোর জন্য। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্য শেষ করেছেন এই বলে, “আমাদের মনে রাখতে হবে, সামনের চ্যালেঞ্জগুলো কোনো একক দেশ একা মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, আজকের বিশ্বে যখন একটি দেশ সংকটে পড়ে তখন অন্যরাও এর ভুক্তভোগী হয়।’’

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন সংকট দেখা দেয়, তখন পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।” সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
রংপুরে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: খবরের কাগজ

আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। পদ্মা ব্যারাজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগির আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাস করানো হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারী জেলায় তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন যে আমি খুব শিগগির এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পেছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না এগোই তাহলে আমরা হোঁচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করব। প্রয়োজনে দু-চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন শিগগিরই এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজটা উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে তিনি তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির সদস্যসহ অন্যরা।

এদিকে লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘তিস্তা নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে। আমরা যদি পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তবে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাআল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হব।’ গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘উজানে গজলডোবায় যেভাবে পানির স্রোত আসছে, তারা তো তাদের গেটগুলো ওপেন করে দিয়েছে। এই খাড়া স্রোতের কারণে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং নদীভাঙন বিশাল আকার ধারণ করেছে। পানি এত ওভারফ্লো হচ্ছে যে, এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের সবদিক বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতীব প্রয়োজন। এটা শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আজ আমরা টেকনিক্যাল টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা শুধু আপনাদের দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখন এই কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব, তখন হয়তো ছয়-সাত বছর সময় লাগে যাবে। কিন্তু এর যে বেনিফিট আসবে তা এ অঞ্চলের মানুষ পাবে। এতে সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে।’ 

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ অন্যরা।

শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

এর মধ্যে বরিশাল  ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।

এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। 

পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। 

বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। 

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে। 

গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি। 

নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে। 

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাসস/এসএন

ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার
ছবি: সংগৃহীত

ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি (কায়রো, মিশর) শাখার উদ্যোগে মিশরের রাজধানী কায়রোর গ্র্যান্ড কনফারেন্স হল বুর্জ আল-তাতবিকিয়্যিনে ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব বাহরে শরীয়ত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ)-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগরিবের পর অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন পাক-ভারত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম আধ্যাত্মিক মারকাঝ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.)।


 
ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি মিশরের আহ্বায়ক সাইমুম আল-মাহদী আল-আযহারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মিশরের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব ফাদিলাতুশ শাইখ ক্বারী মোহাম্মাদ সাইদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সাইফুর রহমান আল-আযহারী। এ সময় আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেশের ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিবৃন্দ হযরত পীর সাহেব কেবলাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা, আরবী ও ইংরেজী ভাষায় ছারছীনা শরীফের খেদমত, শাহ মোহাম্মাদ মোহেব্বুল্লাহ (রহ.)-এর জীবনাদর্শ, তাজদিদি মিশনের কার্যক্রম, আধ্যাত্মিক অবদান এবং বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় তার বিপ্লবী ভূমিকা তুলে ধরেন।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ দেশের ছাত্র প্রতিনিধি, রুয়াসাউল ইত্তেহাদ, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ফিলিস্তিনি দাতা সংস্থা One Ummah Foundation, আল-আযহার স্টুডেন্ট ফোরাম, ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইত্তেহাদ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।

হযরত পীর ছাহেবকে উল্লেখিত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে মিশরের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি ছাত্রদের সংগঠন, ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা প্রধান শিহাবউদ্দিন আল-আযহারী সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। ভারতের ফুরফুরা দরবার শরীফের শাহ সাহেবগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে হুজুরকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। 

সকল সংগঠনের প্রধানগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে, শতাব্দী জুড়ে ছারছীনা শরীফের অবদানসমূহ তুলে ধরেন। ইত্তেহাদুল আরবের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মাদ মাখঝুমি, তাসাউফ চর্চা ও দ্বীন ইসলামের খেদমতে ছারছীনা দরবার শরীফের অবদানকে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ছারছীনা দরবার শরীফের বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সংস্থা হেমায়েতে ইসলাম বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে মিশরে অবস্থানরত উদ্বাস্তু ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনি মজলুম জনগোষ্ঠীর ২০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পীর ছাহেব হুজুর কেবলা আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে দ্বীনি শিক্ষা, আমল-আখলাক, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সুন্নতে নববীর আদর্শে নিজেকে উম্মাহর জন্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে ফিলিস্তিনসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে পরিশেষে দেশ-জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর  শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা মুনাজাত পরিচালনা করেন। 

এসএন/

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৯ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

তিনি বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

এসএন/

দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ কবলিত উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। গবেষণা সংস্থা ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও মানবসৃষ্ট পরিবেশগত অভিঘাতে উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ায় স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, উপকূলে দুর্যোগের পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এতে মানুষ কর্মহীন ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। জনগণের দাবি থাকা সত্ত্বেও নতুন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের এই সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মূল বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উপকূলের সংকট এখন শুধু দুর্যোগের বিষয় নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির প্রশ্ন। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।’

সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক এলাকা উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত।’ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেট পাস হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি ২১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন; ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ; টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার; প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানির নিশ্চয়তা; ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতানা শাপলাসহ অনেকে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন