কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘এখন স্বাস্থ্যকে অধিকার নয়, বাজারজাত পণ্য বানানো হয়েছে। টাকা থাকলে চিকিৎসা পাবেন, টাকা না থাকলে নয়।’
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ও স্বাস্থ্য আন্দোলন। এই অনুষ্ঠানে বিএনএ’র পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে জাতীয় নার কমিশন গঠনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘নার্সদের ডাক্তারি ব্যবস্থার অধীন একটা পেশা হিসেবে যে দেখা হয়, আমরা মনে করি এটা ভুল। এখান থেকে মুক্ত হতে হবে। নার্স সেবাটা স্বাস্থ্যসেবার একটা মৌলিক দিক। ফলে তাঁদের স্বাধীনভাবে এই পেশাকে চর্চা করবার সুযোগ–সুবিধা দিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন বিএনএর সহসভাপতি মাহমুদ হোসেন তমাল। উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপারসন জরিনা খাতুন, সহসভাপতি মনির হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশে স্বাস্থ্যসেবায় নার্সদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। অথচ উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী ও দক্ষ নার্সরা প্রাপ্য মর্যাদা, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং স্বাস্থ্য খাতের পুঁজিবাদী ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণে নার্সিং সেক্টর কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
বিএনএ সভাপতি ড. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে নার্সরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে নার্সদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে জনগণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক সংস্কার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে নার্সদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যে জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন না হলে, বিএনএ ও স্বাস্থ্য আন্দোলন বৃহৎ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
আরিফ সাওন/এসএন