ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রযুক্তির অপচ্ছায়া সড়কে ‘এআই ক্যামেরা’ ও অভিনব ডিজিটাল ডাকাতি বাবা দিবসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আমরা কি বাবা-মাকে হারাচ্ছি, নাকি তাদের সঙ্গে সময়ের সংযোগ হারাচ্ছি! ১০ দফা দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের মানববন্ধন সোমবার মোহভঙ্গের বাংলাদেশ: যখন বুঝলাম সর্বনাশ হয়ে গেছে অরণ্যের অন্ত্যজ কথা বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু ইরান ম্যাচে বেলজিয়ামের মূল ফোকাস নিজেদের খেলায়: গার্সিয়া কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ১৫ অক্টোবর দুই ছাড়েই সম্ভব সমঝোতা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৩ এএম
দুই ছাড়েই সম্ভব সমঝোতা

সমঝোতার প্রায় কাছাকাছি এলেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইস্যুতে এখনো আটকে আছে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এই দুটি ইস্যু হলো গণভোট ও পিআর পদ্ধতি (ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে আসন বণ্টন)।
 
বিএনপিসহ তার সমমনা দলগুলো নির্বাচনের দিনেই গণভোটের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনের আগে নভেম্বরে জুলাই সনদের বাস্তবায়নে গণভোট চাইছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো খবরের কাগজকে জানাচ্ছে, নির্বাচনের দিনে গণভোটে জামায়াতসহ দলগুলো রাজি হলে সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত ছাড় দিতে পারে বিএনপি। অন্যদিকে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নেওয়া হলে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনের আগে গণভোটের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে। তবে দুই পক্ষের এই ‘ছাড়ের’ বিষয়টি সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। জানা গেছে, গণভোটের বিষয়ে জামায়াতসহ দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে বিএনপির এখনকার অবস্থান হলো, তারা পিআর পদ্ধতিরই বিপক্ষে।

তবে দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হবে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো এতে যোগ দেবে।

যতদূর জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ সব দলই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। তবে স্বাক্ষরের আগে সব ইস্যুতে ঐকমত্য না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সরকারের কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে গণভোট কবে হবে সেই বিষয়টি সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে চায় ঐকমত্য কমিশন।

অবশ্য সমঝোতার জন্য আরও চার দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ওই আলোচনার ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য মধ্যপন্থি কয়েকটি দল কাজ করছে। ইতোমধ্যে দলগুলো অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদ প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে কিছুটা ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে আলোচনা আছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে দলটি ইতোমধ্যে অনেক ইস্যুতে ছাড়ও দিয়েছে। তবে গণভোটসহ অনেক ইস্যুতে অন্য দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে বিএনপি বিষয়টি প্রকাশ করেনি। সমঝোতার আগেই এ বিষয়ে আলোচনা তুললে দলগুলো আরও অনেক ইস্যু সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে তারা মনে করছে। ফলে ওই দলগুলোর কাছ থেকে ছাড়ের বিষয় বুঝে শেষ পর্যন্ত তারা ছাড়ের  কথা বিবেচনায় নেবে। সে ক্ষেত্রেও অন্য দলগুলোর ছাড় দেওয়ার মনোভাব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তারা দেখতে চাইছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘নভেম্বরে গণভোট সম্ভব কি সম্ভব না- এটা আলোচনার বিষয় না। আলোচনার বিষয় যতটুকু ঐকমত্য হবে তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যতটুকু ঐকমত্য হবে, তার মধ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। তার বাইরে তো প্রত্যেক দলের অনেক কিছু আছে, যেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিরও অনেক ইস্যু আছে যেখানে ঐকমত্য হয়নি। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, আমরা তো মেনে নিয়েছি। আর যে বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো আগামী নির্বাচনের পর সমাধান হবে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় বাকি আছে। এর আগে গণভোটের মতো মহাযজ্ঞ আয়োজন করা সম্ভব নয়। আগে গণভোট করার প্রস্তাব জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়াস হবে।

বিএনপির সূত্র জানায়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বিএনপি। গণভোটের ‘হ্যাঁ বা না’ ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাস্তবায়ন করবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে একই আয়োজন, একই অর্থ ব্যয়ে করা সম্ভব বলে মনে করে দলটি।

জানা গেছে, ৬টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে জুলাই সনদ। কিন্তু এই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। দুই ভাগে বিভক্ত দলগুলো। 

বিএনপির মতোই জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট দেওয়ার পক্ষে মত তুলে ধরে ১২-দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চে ৬ দল, বাংলাদেশ জাসদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, খেলাফত মজলিস। আর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অপ্রয়োজনীয়। অপর দিকে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। গণভোটের প্রশ্ন কী থাকবে, ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে- এসব প্রশ্নেও সুরাহা হয়নি।

১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হলে কোনো সমস্যা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের তিনটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভিন্ন দিনে গণভোট হলে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। এতে আটকে যেতে পারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। যদি কোনো কারণে ভোট বিপক্ষে যায় তাহলে ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
 
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই সনদের আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া বিষয়গুলোর সমাধান হওয়া জরুরি। আমি মনে করি, জুলাই সনদ নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না।
 
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এখন গণভোট অপ্রয়োজনীয়। ঐকমত্য বলতে যতটুকু সবাই একমত হয়েছি, এটাকে ঐকমত্য ধরে এগোলে সমস্যার সমাধনের পথ সহজ। যেগুলো এখন বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে তা বাস্তবায়ন করা দরকার এবং সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো আগামী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
 
তিনি বলেন, এর বাইরে গিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া এবং ঘোরতর দ্বিমতের বিষয়গুলো গণভোটের পদক্ষেপ নতুন সংকট তৈরি করবে। সনদ বাস্তবায়ন জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার। জনগণের ওপর সবাইকে ভরসা রাখতে হবে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠানে ঐকমত্য হলেও এখনো সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলের ভিন্নমত অব্যাহত আছে। আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে দেখেছি, উচ্চকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে পিআর যদি বিএনপি মেনে নেয় তাহলে সমাধান সহজ হবে। আমরা আশা করছি, শেষ মুহূর্তে হলেও বিএনপি এ ব্যাপারে নমনীয় হবে।’

নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত-এনসিপিসহ চার দল 
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলগুলো মনে করে, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা বিষয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট হতে পারে। অতীতে রেকর্ড আছে, বাংলাদেশে ১৯ দিনের ব্যবধানেও গণভোট হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানেও গণভোট হয়েছে। নভেম্বর মাঝামাঝি গণভোট হলে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরও এক মাস সময় পাবে সরকার। আর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সময় থাকবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট যারা করতে চাইছে তারা মূলত সংস্কার প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হলে জটিলতা তৈরি হবে। অনেক ভোটার বুঝতে পারবে না কোনটা জাতীয় নির্বাচনের ভোট, কোনটা গণভোট? নানা গোলযোগ সৃষ্টি হতে পারে।’

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুলাই সনদ স্থায়ী বাস্তবায়নের জন্য আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। নতুন সংবিধান প্রয়োজন। নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে জুলাই সনদের গুরুত্ব কমে যাবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রীয় অনেক প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা যাবে। এতে সংঘর্ষ-হানাহানিমুক্ত নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। তা না হলে আগের মতোই নির্বাচন হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘ছাড় দেওয়ার মনোভাব সব দলের থাকতে হবে। রাজনীতির আগের সিস্টেমের পরিবর্তন দরকার। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমের পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর- এমন কোনো কিছু ছাড় দেওয়া যাবে না।’

তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আশঙ্কা দেখছেন না সামান্থা শারমিন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন অসাধ্য অনেক কাজ শেষ করেছেন। আশা করছি, কমিশন বাকি কাজও শেষ করে জুলাই সনদের স্থায়ী সমাধান করবে। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সংস্কার হয়েছে কিন্তু স্থায়ী অনুমোদন না হওয়া জনগণ সুফল পায়নি।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘সনদের সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলো ঐকমত্য হয়েছে। কিছু প্রস্তাবে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু জুলাই বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। এখন সনদ বাস্তবায়নে আইনি প্রক্রিয়া ঠিক করবে সরকার। যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যর্থ হয় তাহলে এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে জুলাই সনদে আগ্রহ থাকবে না। অনিয়মের অভিযোগে কোনো ভোট কেন্দ্রে যদি ভোট বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কি হবে? জুলাই সনদে বাস্তবায়নে সরকার যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে আমরা ইতিবাচক ভাবে দেখব।’

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: খবরের কাগজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং আইনি যোগ্যতাই মুখ্য বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ’যিনি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবেন, তিনিই প্রার্থী হতে পারবেন। শর্ত পূরণ না করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।

রবিবার (২১ জুন) আগারগাওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টিই বিবেচ্য।

তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলীয় অঙ্গীকারনামার বিধান নেই। তবে বিধিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। কেউ শর্ত পূরণ না করে প্রার্থী হলে অথবা পরে অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।

বিধিমালা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন প্রয়োজন মনে করলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করতে মক ভোটিং ও রিহার্সালের আয়োজন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন, প্রশিক্ষণ, বাজেট ও অন্যান্য প্রস্তুতিও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

ইসি সচিব বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী সামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা নিয়ে কমিশনে কাজ চলছে। মতামত সংগ্রহ শেষে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা ঘিরে দালালচক্র ঠেকাতে অবৈধ কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের সহায়তা চেয়েছে ইসি। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও শেরেবাংলা নগর থানায় চিঠি দেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মে নির্বাচন ভবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করেছে পুলিশ।

এলিস/এসএন

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি কুয়ালামপুরে গেছেন।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় সফরসঙ্গীদের বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান।

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরে শ্রম বাজারকে গুরুত্বে রাখা হয়েছে।

এছাড়া কুয়ালামপুরের এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। 

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফর করবেন।

দেশটিতে দু’দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।

এসএন/

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু
হামে আক্রান্ত এক শিশু। ছবি: মাসুদ মিলন

হামের উপসর্গে নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩ শিশু হাসপাতালে এসেছে।

রবিবার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার এক জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১ জন।

আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৫৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭২ হাজার ৮৪৯ জন।

রিফাত/

প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অনুমোদন পেয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি আবেদনকারী। ইসির প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি নিবন্ধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। অন্যদিকে তদন্তে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনও আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৯টি এনআইডি স্মার্টকার্ড প্রিন্টের উপযোগী হয়েছে। এছাড়া ২২ হাজার ১৮টি স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনে পাঠানো হয়েছে।

দেশভিত্তিক আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩০ জন প্রবাসী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি এবং ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি।

এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যার সংখ্যা মাত্র ১২৬।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব স্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসীরা আবেদন, বায়োমেট্রিক প্রদান এবং এনআইডি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। স্টেশনগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।

প্রবাসীদের ভোটার হতে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়।

এলিস/রিফাত/

বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর অধীনে আয়োজিত বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদ লাইব্রেরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের আহ্বান জানান।’

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এমপি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ এবং জনগণ এর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যভিত্তিক সংসদ গঠনে বাজেট ডিব্রিফিং সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপরা, আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এলিস/রিফাত/