ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে সোনালি দিনের খোঁজে স্পেন একসময়ের দাতা এখন গ্রহীতা নীল হাঙরের নাবিক রায়ান মেন্দেস লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পেছনে যুদ্ধ, সামনে বিশ্বকাপ মরুর সাহস, উরুগুয়ের ইতিহাস দুর্দান্ত বেলজিয়ামের সামনে সালাহর মিসর নেদারল্যান্ডসকে জিততে দিল না জাপান প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে কুরাসাওয়ের কোচের বিশ্বরেকর্ড প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২
Nagad desktop

মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক-কারিগরি কাজ ৬৯ শতাংশ বেশি দরে পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক-কারিগরি কাজ ৬৯ শতাংশ বেশি দরে পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে কমলাপুর সেকশনের বৈদ্যুতিক-কারিগরি (ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেম- ইঅ্যান্ডএম) কাজ ৬৯ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি দরে পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মারুবেনি এলঅ্যান্ডটি। 

মেট্রোরেলের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজের জন্য ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি দ্বিতীয় সংশোধনী) কাজের জন্য ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজের জন্য ৬৫০ কোটি টাকা দাবি করে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে এত বেশি দরে কাজ করাতে অনীহা প্রকাশ করলে তাদের সঙ্গে দীর্ঘ দর-কষাকষির পর ঠিকাদারি কাজের বিল ৪৬৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। হিসাব কষে দেখা গেছে, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে এই দর ৬৯ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) মেট্রোরেলের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। ডিএমটিসিএল দর-কষাকষি করে ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করার কৃতিত্বও দাবি করছে।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। সেদিন উত্তরা-উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করে। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল শুরু করে। এ সময়ে মেট্রোরেলের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজ করেছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মারুবেনি এলঅ্যান্ডটি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজের জন্য ডিএমটিসিএল ২০১৮ সালের দরপত্র উন্মুক্ত করে। মেট্রোরেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাইকার সঙ্গে চুক্তির শর্ত হলো কেবল তাদের মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। জাইকা মনোনীত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টপকে এবার কাজ পেয়ে যায় মারুবেনি এলঅ্যান্ডটি। ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজ মূলত মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্টেশনের লিফট স্থাপন-প্রতিস্থাপন, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, কনকোর্স লেভেল ও পেইড জোনের এক্সেলেটর চলমান রাখার কাজ।

উত্তরা-উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশন পর্যন্ত ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে বড় কোনো আপত্তি ওঠেনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে। এখন মতিঝিল থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিষেবা বিস্তৃত করতে কাজ করছে ডিএমটিসিএল।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর রুটে ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের জন্য নতুন করে আর কোনো দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়নি। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপরই ভরসা রেখেছে ডিএমটিসিএল। তবে এ জন্য এই ঠিকাদারি কার্যক্রমের জন্য দর-কষাকষি করতে হয় মারুবেনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে। প্রথমে মারুবেনি ১৩৭ শতাংশ বেশি দর হাঁকায়। ডিএমটিসিএল এত বেশি দর দিতে রাজি ছিল না। তারা বিকল্প উপায় বা অন্য কোনো ঠিকাদারও নিয়োগ করতে পারছিল না। জাইকার সঙ্গে চুক্তির কারণে দরপত্র উন্মুক্ত করা যায়নি। 

পরে জাইকার মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মারুবেনি এলঅ্যান্ডটির সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে বসেন ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা। ২০২৩ সাল থেকে এই আলোচনা চলমান ছিল। দুই বছর পর ভারতীয় প্রতিষ্ঠান দর কমাতে রাজি হয়। 

উত্তরা-উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিষেবা বাস্তবায়িত হচ্ছে ডিএমটিসিএলের এমআরটি-৬ প্রকল্পের আওতায়। ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই পুরো পথে ইঅ্যান্ডএম কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা রয়েছে। শুধু ইলেকট্রিক্যাল কার্যক্রম নয়, একই সঙ্গে সিগনালিং ও টেলিকম পরিষেবাও এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরা-উত্তর থেকে মতিঝিল স্টেশন পর্যন্ত এই কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। 

দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডিএমটিসিএলের একজন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা যখন আরডিপিপি প্রণয়ন করি, তখন ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৮৪ টাকা। এখন তা উন্নীত হয়েছে ১২০ টাকায়। এ কারণে নির্মাতা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোও উচ্চমূল্যে দর হাঁকাচ্ছে। মেট্রোরেলের ইঅ্যান্ডএম কার্যক্রমের সব ইক্যুইপমেন্ট কিনতে হবে বিদেশ থেকে। এখানেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে।’ 

ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব খোন্দকার এহতেশামুল কবীর খবরের কাগজকে জানান, মারুবেবি এলঅ্যান্ডটির ইঅ্যান্ডএম কার্যক্রম নিয়ে ডিএমটিসিএলের অনেক আপত্তি ছিল। শুরুতেই তারা বিভিন্ন স্টেশনে যে ১০০টি কম্পিউটার দিয়েছিল সেগুলো ছিল মানহীন। তা ছাড়া বিভিন্ন স্টেশনে ইলেকট্রিক্যাল ও সিগনাল সিস্টেমের কাজেও তাদের গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড (নির্মাণকাজের ত্রুটি মেরামতে বেঁধে দেওয়া সময়) ছিল বলে তাদের ডেকে এনে সব কটি স্টেশনে পুনরায় কাজ করাতে হয়েছে। তারা মেট্রোরেলে নিম্নমানের জিনিস সরবরাহ করেছে। কিন্তু জাইকার শর্তের কারণে ডিএমটিসিএল তাদের ওপরই ঠিকাদারি কার্যক্রমের দায়িত্ব বহাল রাখে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিষেবা বিস্তৃতিতে কেন আবার এলঅ্যান্ডটির ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে খোন্দকার এহতেশামুল কবীর বলেন, ‘এলঅ্যান্ডটি এমআরটি-৬-এর পুরো রুটে ইঅ্যান্ডএম কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এখন নতুন কাউকে (ঠিকাদার) নিয়োগ দিলে তারা নতুন সিস্টেমে সব বদলে দিতে চাইবে। তখন নতুন ঠিকাদার আবার দর বাড়াতে পারে। তাই এলঅ্যান্ডটিকেই আবার কাজটা দেওয়া হয়েছে। ওরা দর-কষাকষির পর এখন একটা দরে রাজি হয়েছে। সে দরটা একটু বেশি। কিন্তু কাজের মানে কোনো গাফিলতি রাখা হবে না বলে কথা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।’

তিনি জানান, মতিঝিল থেকে কমলাপুর বর্ধিত মেট্রোরেল পথে ইঅ্যান্ডএম কার্যক্রম শেষ করলে ঠিকাদারি কাজের শর্ত হিসেবে ত্রুটিজনিত ক্ষতি সংশোধন করতে হবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকেই। এ জন্য তাদের অতিরিক্ত এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে।

আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা
ছবি: সংগৃহীত

একসময়ের মহাপ্রতাপশালী হিসেবে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ব্যাপক পরিচিত। যিনি বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময়ে অনেকের কাছেই ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। বলা হয়ে থাকে– বেনজীর আহমেদ সে সময়ের অনেক মন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর ছিলেন। সেই বেনজীর আহমেদ এবার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’ এর সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিদেশে পলাতক বা আত্মগোপনে থাকা অন্য আসামিরাও এখন আতঙ্কে ভুগছেন বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

রবিবার (১৪ জুন) ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের ‘রেড নোটিশ’ তালিকায় সারা বিশ্বের ৬ হাজার ৪৪২ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামির নাম, ছবি ও বয়সসহ প্রাথমিক তথ্য দেখা গেছে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি রয়েছেন ৫৯ জন। সাম্প্রতিক সময়ে এ তালিকায় নতুন মাত্র কয়েকজন যুক্ত হলেও অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ওই ওয়েবসাইটের রেড নোটিশের তালিকায় প্রদর্শিত হয়ে আসছেন।

যদিও এই রেড নোটিশের তালিকায় গতকাল পর্যন্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের নাম বা ছবি কোনো কিছুই দেখা যায়নি। তবে ইন্টারপোলের কাছে ‘অফিশিয়ালি’ বাংলাদেশ পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চেয়েছিল বলে জানা গেছে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের একজন এআইজি খবরের কাগজকে বলেন, ইন্টারপোলের পলিসি অনুসারে কিছু ক্ষেত্রে কোনো আসামির নাম বা ছবি তালিকায় না রেখে অপ্রকাশিত রাখা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তার নাম বা ছবি দেখা যায়নি।

এ কারণে দুবাইয়ে ‘বিপুল অর্থসম্পদ’ বিনিয়োগের তথ্য থাকা বেনজীর আহমেদ সেখানে গ্রেপ্তার হওয়ায় অন্য আলোচিত আসামিদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইন্টারপোলের তালিকায় থাকা বা পলাতক হিসেবে বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা গুরুতর ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার আসামিরা অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত বলে মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের আসামি যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে ভীতি বা আতঙ্ক কাজ করবে। অনেকেই যারা আত্মগোপনে রয়েছেন, তারা একই জায়গায় বেশি দিন থাকবেন না। তারা গ্রেপ্তার এড়াতে অবস্থান পাল্টাবেন–এগুলো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ধরনের (বেনজীর) আসামি যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, ক্ষমতার চেয়ারে বসে রাষ্ট্রকে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন– তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি। কেননা, শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা অন্যদের জন্য সতর্ক বার্তা বা শিক্ষণীয় হবে।

একই সঙ্গে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জায়গাগুলো আরও মজবুত হবে। ফলে বিদেশে গ্রেপ্তারেই যেন সবকিছু থমকে না থাকে। দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুসারে যথাযথ বিচার বা শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল এই প্রক্রিয়ার সার্বিক সুফল পাওয়া যাবে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা ক্ষমতার চেয়ারে বসে বেপরোয়া দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা বা অপেশাদার আচরণ করেন–এমন কর্মকর্তাদের জন্য সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তারের ঘটনাটি অবশ্যই শিক্ষণীয়।

যদিও এমন বিভিন্ন ঘটনা থেকেও অনেকে শিক্ষা নেন না। তার পরও পুলিশ, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রেই কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকারের জবাবদিহিমূলক কঠোর অবস্থান জারি রাখতে হবে। এতে সরকারের সঙ্গে জনগণের সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপি (মহাপরিদর্শক) আব্দুল কাইয়ুম খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিটি সরকারি চাকরিতে বা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত রুলস বা বিধিবিধান রয়েছে। কিন্তু অনেকেই সেটি মনে রাখেন না। চেয়ার পেলেই অনেকেই হয়ে যান লাগামছাড়া। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অপেশাদার আচরণ তাদের এমনভাবে বাড়তে থাকে, যা সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কিন্তু সবার মনে রাখা দরকার, কোনো চেয়ার বা ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। সেটা মাথায় রেখে শুধু পুলিশ কর্মকর্তা নন, যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে অসম্মানজনক পরিণতির শিকার হতে না হয়।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘রেড নোটিশ’ বা লাল সংকেতের তালিকাটি হচ্ছে–বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে এবং প্রত্যর্পণ, আত্মসমর্পণ বা অনুরূপ আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার করার একটি অনুরোধ। তবে রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মূলত অনুরোধকারী সদস্য দেশ বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল দ্বারা ‘ওয়ান্টেড’। সদস্য দেশগুলো কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের নিজস্ব আইন প্রয়োগ করে। অধিকাংশ রেড নোটিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ।

গতকাল পর্যন্ত ইন্টারপোলের রেড নোটিশের তালিকায় থাকা ৫৯ জন বাংলাদেশি হলেন–

রাজু ঢালি (৪২), মো. মিলন (৩৭), লিটন ব্যাপারী (৪৭), রবিউল ইসলাম রবিউল ওরফে আরাভ খান (৩৮), জাফর ইকবাল (৪৪), তানজিরুল (৪১), স্বপন (৩৪), নজরুল ইসলাম মোল্লা (৪৯), মিন্টু মিয়া (৪৭), ওয়াসিম (৪১), খোরশেদ আলম (৪৩), গিয়াস উদ্দিন (৫৬), অশোক কুমার দাস (৪৫), মিজান মিয়া (৪৮), কুমার চন্দ্র রায় (৪৬), রাতুল আহমেদ বাবু (৪৫), মো. সিরাজ মোস্তফা লালু (৩০), জাহিদ হোসাইন খোকন (৮৪), মো. সাঈদ হোসাইন ওরফে হোসেন (৭৪), মো. হাছান আলী সাঈদ ওরফে সৈয়দ মো. হাছান আলী (৭৮), আজিজুর রহমান (৫০), অজয় বিশ্বাস (৪৪), তরিকুল ইসলাম (৩৯), এন এ হানিফ (৪১), আলাউদ্দিন মোহাম্মদ (৫৩), মোহাম্মদ সবুজ ফকির (৫১), মোহাম্মদ মনির ভুঁইয়া (৬২), শফিকুল (৫৮), আমান উল্লাহ শফিক (৪৪) আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার (৭৯), জাহিদুল ইসলাম (৭০), সাজ্জাদ হোসাইন খান (৪৭), মো. নাঈম খান ইকরাম (৫৭), কালা জাহাঙ্গীর ওরফে ফেরদৌস (৪৮), মো. ইউসুফ (৭৯), আব্দুল আলিম শরীফ (৫৬), আহমেদ মজনু (৫৩), নুরুল দিপু (৪৯), মুহাম্মদ ফজলুল আমিন জাভেদ (৩৮), এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী (৭৫), খন্দকার আবদুর রশিদ (৭৯), নাজমুল হোসেন আনসার (৭৩), শরিফুল হক ডালিম (৮০), আহমেদ শরিফুল হোসেন (৮৩), মুসলেম উদ্দিন খান (৮৮), এ এম রাশেদ চৌধুরী (৭৯), চৌধুরী মোহাম্মদ আতাউর রহমান (৬৪), আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া (৫৩), সালাউদ্দিন মিন্টু (৪৬), গোলাম ফারুক অভি (৬০), হারুন শেখ (৫৫), তৌফিক আলম (৫১), আহমেদ জাফর (৫৬), রফিকুল ইসলাম (৫৫), জিসান আহমেদ (৫৬), আমীনুর রসুল (৬৮), নবী হোসেন (৫৬), প্রকাশ কুমার বিশ্বাস (৫৩) এবং আব্দুল জব্বার (৫৪)।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় তিন মাস ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে এই পদে নিয়োগ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নতুন সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম। দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ কার্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সচিব পদ শূন্য থাকলেও কার্যালয়ের কার্যক্রম থেমে নেই। তবে পূর্ণকালীন সচিব না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নথি নিষ্পত্তি এবং সমন্বয়মূলক কিছু কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত সময় লাগছে। মুখ্য সচিব অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদ নয়; এটি সরকারের কেন্দ্রীয় সমন্বয় ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। মুখ্য সচিব নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো তদারকি করলেও সচিবের ওপর দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প তদারকি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবস্থাপনা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বড় দায়িত্ব থাকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ পদ শূন্য থাকাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না অনেক কর্মকর্তা।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার এমন একজন কর্মকর্তাকে খুঁজছে, যিনি দক্ষতা, সততা, পেশাদারত্ব এবং প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পদায়নে শুধু জ্যেষ্ঠতাই নয়, বরং অতীত কর্মজীবন, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং সরকারের আস্থার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তারা জানান, গত কয়েক মাসে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

অতীতে বিতর্ক বা পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্টদের কর্মজীবনের নানা দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদায়নকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার অপেক্ষাকৃত বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শুধু তদবির বা লবিংয়ের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক সীমিত বলে তারা মনে করেন।

এদিকে সচিব পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় মুখ্য সচিবের ওপর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বের পরিধি এমনিতেই ব্যাপক। এর সঙ্গে সচিবের দায়িত্বের অতিরিক্ত অংশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাড়তি চাপে রয়েছেন মুখ্য সচিব। এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ এই পদের শূন্যতা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের গতিকে শ্লথ করে দিতে পারে। প্রশাসনসংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে এবং সমন্বয়মূলক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। 

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে নিয়োগের আলোচনায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম বিবেচনায় থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলেও এতে খুব বেশি অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ সেখানে মুখ্য সচিব, যুগ্ম সচিব, পিএস রয়েছেন। তারা সবাই প্রশাসনের কর্মকর্তা। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সচিবালয়ে অফিস করছেন, তাই সেখানে হাতের কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবও রয়েছেন। আমি মনে করি, হঠাৎ করে বা তড়িঘড়ি করে এই পদে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে বিব্রত হওয়ার চেয়ে একটু দেখেশুনে অপেক্ষা করে যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়াই শ্রেয়তর হবে।

খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ এএম
খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

 রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে অবহেলা ও অযত্নে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। একটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়ের গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীল প্রচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের সেই শ্রম ও মেধার প্রতিফলনই প্রদর্শিত হয়েছে এ আয়োজনের প্রতিটি প্রকল্পে।

তিনি আরও বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতা দেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাকে আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্রতিযোগিতায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রথম, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ দ্বিতীয় এবং হলিক্রস উচ্চবিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন সদস্য ছিল। জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় মোট ১৮৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজনটি করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

এসএন/

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের লোগো।

আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মৃত্তিকা সাহা/নাঈম

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান
অভিযানের ফলে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেল এখন দখলমুক্ত হয়েছে এবং যাত্রীদের হাঁটার জন্য ফুটপাত পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

মেট্রোরেলের যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের চারপাশ দখলমুক্ত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।  

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ডিএমটিসিএল-এর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলির নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

রবিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে স্টেশনের এ, বি, সি ও ডি- ৪টি গেট এলাকাতেই অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে এ ও বি গেটের মধ্যবর্তী ফুটপাত এবং সিঁড়ির নিচের অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে স্টেশনের পিলার ও রেলিংয়ের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা মালবাহী ভ্যান ও অবৈধ পার্কিং অপসারণ করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ দোকানের সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী জব্দ করে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল এলাকায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে ডিএমটিসিএল-এর রুটিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের পথ সুগম করতে এবং মেট্রোরেলের অবকাঠামোর নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এমআরটি পুলিশ, তেজগাঁও থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/