বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়।
এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’
বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’
এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ।
তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’
সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’
এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’
তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’
অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
এলিস/রিফাত/