ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

সরকারকে চাপে রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৩ এএম
আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৮ এএম
সরকারকে চাপে রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৃষ্ট সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সরকারের ওপর এখনো কিছুটা চাপ থেকে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার জুলাই সনদ আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এরপর পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ওই দিন স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। জামায়াত সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের এই গেজেটে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে ক্ষুণ্ন হোক, এটা চাই না। কোনো আরোপিত আইন দিয়ে, আদেশ দিয়ে, জবরদস্তিমূলক প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করতে দেব না। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলের পক্ষ থেকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টার অপসারণ চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে আট দলের নেতারা আপত্তি তুলে ধরেছেন।’

এদিকে এনসিপি গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম- সরকার অস্পষ্টতা দূর করে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা উল্লেখ করবে। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এমন অস্পষ্টতা রয়ে গেছে যে এটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এটিকে ক্ষমতাবানরা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে গণভোটের দিনক্ষণের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও বিদ্যমান সংবিধানের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি গতকাল আবারও জাতীয় সংসদের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী অসন্তোষ প্রকাশ করলেও সরাসরি আন্দোলন বা নতুন কোনো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেনি। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। অসন্তোষ প্রকাশ সত্ত্বেও এনসিপি এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দেয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, দল তিনটিই (বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি) আপাতত অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। তবে তারা সরকারকে চাপে রাখার কৌশল থেকে এখনো পুরোপুরি সরে আসেনি।
 
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আর উত্তাপ না বাড়িয়ে এখন জাতীয় নির্বাচনমুখী হতে চায়। রাজপথের আন্দোলন নয়, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মাঠে থাকাই এখন প্রধান লক্ষ্যে দলগুলোর। ফেব্রুয়ারি মাসে যথাসময়ে নির্বাচন আদায় করার এখন বিএনপি, জামায়াতসহ সব দলের নজর। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দাবিতে অনড় থাকা জামায়াতসহ সমমনা আট দলও দু-এক দিনের মধ্যে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের ওপর জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোট অনুষ্ঠান এবং শিগগিরই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিএনপি সাধুবাদ জানিয়েছে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ প্রতিপালনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে রচিত হয়েছে, প্রণীত হয়েছে, স্বাক্ষরিত হয়েছে- সেই জাতীয় সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। এর বাইরে চাপিয়ে দেওয়া, জবরদস্তিমূলক কোনো প্রস্তাব যদি দেওয়া হয়, সেটা জনগণ বিবেচনা করবে।’

জানা গেছে, জুলাই সনদ আদেশ জারির পর জামায়াতের ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল বৈঠক করে গত বৃহস্পতিবার। সেখানে জুলাই সনদের আদেশ জারির বিভিন্ন পয়েন্ট তারা পর্যালোচনা করেন। কোথায় ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে তা দেখেছেন। আগামীকাল রবিবার আবারও বৈঠকে বসবেন আট দলের শীর্ষ নেতারা। ওই বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকের পর জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে জুলাই সনদকে স্বাগত জানিয়ে পরবর্তী ঘোষণা আসতে পারে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ মেনে নিয়েছে। কারণ সংসদে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব), সাংবিধানিক আদেশ, সংবিধান সংশোধনের উচ্চকক্ষের মতামত, গণপরিষদ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি- জামায়াতের দাবি ছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের গণভোটের দাবি পূরণ হয়নি। জুলাই সনদে গণদাবি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে ওপরে ওপরে হাঁকডাক দিয়ে রাজনীতির মাঠ চাঙা রাখার কৌশলের পথে হাঁটতে চাইছে জামায়াত।
 
জুলাই সনদের সাংবিধানিক আদেশ জারির পর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের জুলাই সনদের আদেশ জারি দাবি ছিল, এটি অর্জিত হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি আমরা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছি, তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছি। কারণ জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হলেও এর আসল টার্গেট পূর্ণ হবে না।’ তিনি জানান, আগামীকাল রবিবার বৈঠকে পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
 
জুলাই সনদের আংশিক দাবি প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুলাই সনদে আমাদের আংশিক দাবি পূরণ হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোটের ব্যাপারে আমাদের আপত্তি রয়েছে। একটি দলকে খুশি করতেই একই দিনেই গণভোট দিয়ে সরকার জুলাই সনদকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। তবে কর্মসূচির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
 
জুলাই সনদ জারির আদেশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির কিছু কিছু দাবি পূরণ করা হয়েছে। তিন দলকেই সরকার খুশি রাখার চেষ্টা করেছে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করা। গণভোটে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আংশিক দাবি পূরণ হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বিএনপি একমত থাকলেও গঠনপ্রণালি বিএনপির ভিন্ন আমলে নেয়নি সরকার। তবে জামায়াত নির্বাচনের আগেই গণভোট দাবি করেছিল। আর গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না এনসিপির।

অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির দাবি অনুযায়ী জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সাংবিধানিক আদেশ জারি, পিআর পদ্ধতিতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনপ্রণালি, সংবিধান সংস্কারে গণপরিষদ গঠন বা আগামী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দেওয়ার দাবি পূরণ হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বিএনপির ভিন্নমত আমলে নেয়নি সরকার। গণভোটে ‘নোট অব ডিসেন্টে’র আলাদা করে প্রশ্ন রাখায় ভিন্নমত রয়েছে দল দুটির। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জুলাই সনদের আদেশ জারির বিপক্ষে ছিল এনসিপি। তাদের দাবি ছিল প্রধান উপদেষ্টা জারি করবেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করতে পারেন, সেটিই হয়েছে। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের মতামতের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিএনপির ভিন্নমত আমলে নেয়নি সরকার।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চেয়েছিলাম। এই আদেশের মধ্যে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সেগুলোর মধ্যে গুরুত্ব অনুযায়ী আংশিক বাস্তবায়ন এবং আংশিক রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে। সেগুলো দলগুলোর বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
 
আর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে অনেক কিছু অস্পষ্ট থাকলেও বাস্তবায়নের আদেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এনসিপি বলে জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি মনে করি, জুলাই সনদ নিয়ে সামনের দিনে সংকট আর বাড়বে না। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সনদ যেভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, হয়তো সব দলই মেনে নেবে।’

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই সনদের আদেশের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সব দলকেই মেনে নেওয়া উচিত। মতপার্থক্য থাকলেও সব দলের মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। তিনি বলেন, ‘একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন, উচ্চকক্ষে ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে আসন নির্ধারণ এবং গণভোটে একমত ও ভিন্নমতকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যালট তৈরি- কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। আমি মনে করি, এটি এখন অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য সমাধান।’

১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুলাই সনদ ঘিরে সৃষ্ট সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। কিন্তু এখন জামায়াত নন-ইস্যুকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত বা প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে। পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। জামায়াত ষড়যন্ত্র করে অতীতেও পানি পায়নি, এবারও পাবে না।’

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসএন/

সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম, যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানা ধরনের বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাডেটদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ-যোগ্য ও চৌকস নেতৃত্ব তৈরিতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ শেষ করা অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ধারণ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনী সব বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রথা দিয়ে পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবেন না, তোমাদেরকে গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া অনেক মানুষের অনেক অবদান রয়েছে।’

বিএমএ’র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশোপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের। প্রশিক্ষণ শেষে যারা নতুন জীবনে পদার্পন করছো, সেখানে তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক বেশি।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর। সেনাপ্রধান মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সব অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে '১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'র পাশাপাশি '২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এছাড়া তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, বিএমএ পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক-অসামারিক ঊর্ধতন কর্মকর্তা, কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমগীর হোসেন/আমান

এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। 

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। 

এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। তবে এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এ বাজেটে গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন। বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, “যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

মন্ত্রী জানান, কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাল-নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে।

সংসদ/এলিস/আমান