মেট্রোরেলের একটি ট্রেনের ছাদে মানুষ উঠে পড়ার ঘটনায় রাতভর পুরো মেট্রো ট্র্যাক সার্চ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ।
সোমবার (৩ নভেম্বর) উত্তরায় ডিএমটিসিএলের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘গতরাতে একটি ইন্সিডেন্ট হয়েছে। তার জন্য ট্রেন চলাচল আমাদের সিস্ট করতে হয়েছে। পাবলিক সেফটি ইজ ফার্স্ট। এটা আমরা মেনটেইন করবই।’
ফারুক আহমেদ বলেন, ‘গতরাতে আমরা একজন বাচ্চাকে পেয়েছি। আরও দুজন প্রায় উপরে উঠে গিয়েছিল। আমরা ভিডিওতে দেখেছি ছেলেটির কারওয়ান বাজারের কোনো এক জায়গা থেকে উঠেছে। সেখান থেকে আগারগাঁও আসে। সেখানে এসে ট্রেন চেঞ্জ করে। সেখানে এসে যেখান দিয়ে সাধারণত প্রবেশ করে তা না গিয়ে সে দুইটা ট্রেনের সংযোগস্থল দিয়ে উঠে যায়। তারপর সচিবালয় স্টেশনে যাওয়ার পরে সে ছাদের উপর উঠে। সাথে সাথে সিকিউরিটি জানিয়েছে। সে যে ইলেকট্রিকাইড হয় না এটা সৌভাগ্য। এর থেকে হয়তো আরও বড় কিছু হতে পারতো।’
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন অপারেশন বন্ধ করা হয়। আরও কয়েকজন আছে কিভাবে আছে সেটা আমরা জানি না কিছু। আমরা প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পুরো লাইনে তাদেরকে সার্চ করি। আমরা দেখার চেষ্টা করেছি কোথাও কেউ নামছে কিনা। আমরা সারারাত ফিজিক্যালি সার্চ করেছি। সকালে সুইপ ট্রেন দিয়েও দেখা হয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তার বিষয় তিনি বলেন, ‘সব পাবলিক দরজা দিয়েই ট্রেনে ঢুকবে। কিন্তু কোনো একজন ১৬টা দরজার কোনো এক ফাঁক দিয়ে ঢুকেছে। কী তার উদ্দেশ্য ছিল সেটা আমরা এখনো জানিনা। এটা পুলিশ দেখবে।’
তিনি বলেন, ‘একজনের পেছনে একজনকে তো সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সম্ভব না। আমরা সিসিটিভি দিয়েছি সিকিউরিটি সলিউশনের জন্য। আমরা এখন থেকে আরও ভিজিলেন্স হওয়ার জন্য ইম্প্রুভ করব। আমরা এখন স্টেশনগুলোর নিচেও সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করছি। তাতে অন্তত উৎস কোথা থেকে সেটা আমরা বুঝতে পারব।’
সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, ‘মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ বাড়ানোর জন্য আপনারা আমাকে হেল্প করেন। মানুষের মূল্যবোধ একদিনে হবে না। এখানে মিডিয়ার ভূমিকা অনেক বেশি। আমি ব্যক্তিগতভাবে তো সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না। কিন্তু আমি আপনাদের মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছাতে পারি। মিডিয়া পজিটিভ না হলে সিভিক সেন্স বাড়ানো সম্ভব না।’
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/