ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মচারীদের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের (১১ ডিসেম্বর) মধ্যে সার্ভিস রুল ঘোষণার আলটিমেটাম দিয়ে মেট্রোরেলের ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সার্ভিস রুলের ঘোষণা না এলে শুক্রবার থেকে সব ধরনের যাত্রী পরিষেবা থেকে তারা বিরত থাকবেন।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে মেট্রোরেল কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি শুরু হবে।
মেট্রোরেল কর্মচারীরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ২০১৩ সালে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ এক যুগ কেটে গেলেও প্রতিষ্ঠানের ৯০০-র বেশি নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনো কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। চাকরি-বিধিমালা না থাকায় কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিযোগিতা করে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ দিনের অসন্তোষ এবং হতাশা বিরাজ করছে। ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স বা ওভারটাইম, গ্রুপ-ইন্স্যুরেন্সসহ ন্যায্য বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পদোন্নতির সুযোগ থেকে কর্মচারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
মেট্রোরেল কর্মচারীদের অভিযোগ, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ডিএমটিসিএলকে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। এরপর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থায়ী পদে নিযুক্ত নিয়মিত কর্মচারীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলন বারবার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন কর্মচারীরা।
সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর ডিএমটিসিএলের পরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম আশ্বাস দেন, তিনি ৯ ডিসেম্বর ডিএমটিসিএলের বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলের বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন বলেও কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কর্মচারীরা।
কিন্তু ওইদিন বোর্ড সভার পরে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানান, ‘বিশেষ বিধান’ যুক্ত থাকায় সার্ভিস রুল প্রণয়ণ করতে দেরি হবে।
কর্মচারীরা সার্ভিস রুলের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া ‘বিশেষ বিধান’ নিয়েও আপত্তি জানান। এখন এই ‘বিশেষ বিধানের’ মাধ্যমে ডিএমটিসিএলের কর্মচারীরা বেতনভাতা ও অন্য সুযোগ- সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের অনেকে অভিযোগ করেন, এই বিশেষ বিধানের সুযোগ বেশি পাচ্ছেন মেট্রোরেলের ছয় প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা।
তবে বাস্তবতা হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সব প্রকল্প থমকে থাকায় প্রকল্পের কর্মচারীদের কাউকে কাউকে এখন বসিয়ে রাখা হয়েছে মেট্রোরেল ডিপোতে। নিম্নতম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে ছাঁটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ ডিএমটিসিএলের এক বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রকল্পের জনবল কমিয়ে আনা হবে।
এমন পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল কর্মচারীরা কর্মবিরতি ছাড়া বিকল্প উপায় দেখছেন না। তাই শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে তারা রাজধানীর দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে মেট্রোরেল চলাচল করে না। বিকেল ৩টা থেকে চলাচল করে। ওই সময়ের মধ্যে সংকট সমাধান না হলে ঢাকার সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হবে যাত্রীদের। কারণ, শুক্রবার অন্তত তিন লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন বিভিন্ন গন্তব্যে।
ডিএমটিসিএলের কর্মচারীরারা বলেছেন, এই কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।
জয়ন্ত/এসজি/