প্রতি বছরের মতো এবারও মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করেছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ। রংতুলির আঁচড় ও বাহারি ফুল গাছে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ এলাকা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ও স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের জন্য জোরদার করা হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখা গেছে, সৌধের প্রধান ফটক থেকে বেদি পর্যন্ত পুরো এলাকা ধুয়ে-মুছে পরিপাটি করে তোলা হয়েছে। রক্তিম বর্ণের ইটের ওপর সাদা রঙের ছোঁয়া যেন শুভ্রতা ছড়িয়েছে। লেকগুলো সংস্কার করে নতুন পানিতে লাগানো হয়েছে লাল শাপলা। বিভিন্ন স্থানে লাল টবে শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের ফুলগাছ। এ ছাড়া সিসিটিভি ও এলইডি লাইট স্থাপনসহ বর্ণিল আলোকসজ্জার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে বলা হয়েছে, দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো যাবে না। ওই দিন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের কোনো ধরনের ক্ষতি না করার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ আনোয়ার খান আনু বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীসহ লাখ লাখ মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেই উপলক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা, লেক সংস্কার কাজ, সিসিটিভি স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ আনুষঙ্গিক কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ বীর শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য গত ৬ নভেম্বর থেকে পালাক্রমে আমাদের প্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে নাম না জানা লাখো শহিদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। এদিন ভোরে ভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় সাধারণ জনগণের প্রবেশ সীমিত থাকবে।
এদিকে গত শনিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআইজি বলেন, যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি তাদের স্মরণে ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পোশাকে এবং সাদা পোশাকে ৪ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা জনগণের জানমাল রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের যা যা করণীয় আমরা সব ব্যবস্থা করেছি। ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাদা পোশাকে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হয়, যা ১৬ ডিসেম্বর শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ জনগণ যতক্ষণ থাকবে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা ততক্ষণ থাকবে।