রাজধানীর মগবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে সিয়াম (২৩) নামে পথচারী এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে ইস্কাটন-মগবাজার সড়কের ‘মিডিয়া গলি’র সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়াম খুলনার দৌলতপুরের দিঘলিয়া এলাকার দেয়ারা গ্রামের আলী আকবর মজুমদারের ছেলে। নিউ ইস্কাটন এলাকার দুই হাজার গলির একটি বাসায় থেকে বাংলামোটর এলাকার ‘জাহিদ কার ডেকোরেশন’ নামে একটি দোকানে কাজ করতেন।
সিয়ামের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার স্বজনরা। তখনো বীভৎস রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিল সিয়ামের লাশ। স্বজনরা এমন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের কান্না-আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান আশপাশের উৎসুক জনতা। এই ঘটনার পর মগবাজারের ওই এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। পথচারী থেকে শুরু সাধারণ মানুষ জীবনের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। অনেকে এমন নির্মমতা নিয়ে কথা বলার ভাষাও যেন খুঁজে পাচ্ছিলেন না। রাজনৈতিক প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার জেরে নিরীহ সাধারণ মানুষ নিষ্ঠুর-বর্বরতার শিকার হওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
কান্নারত অবস্থায় নিহতের ছোট ভাই সিজান মজুমদার খবরের কাগজকে জানান, সিয়াম বাংলমোটরের জাহিদ কার ডেকোরেশন নামে একটি দোকানে কাজ করতেন। সন্ধ্যার পর দোকানের সবার জন্য নাশতা নিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল ভবনের সামনের প্রধান সড়কের ফুটপাতে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় ওপরের ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তরা ককটেল ছুড়ে মারলে সিয়ামের মাথায় পড়ে। এতে বিস্ফোরণ ঘটলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলের সেই চা-দোকানি মো. ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছেলেটা (সিয়াম) আমার কাছে এসে চা চেয়েছিল। তার জন্য চা বানাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। তাকিয়ে দেখি, ছেলেটা মাটিতে পড়ে আছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। এরকম ভয়ানক দৃশ্য দেখে ভয় লাগছিল।’ ফ্লাইওভার থেকে ককটেল বা বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করছেন চা-দোকানি ফারুক।
ককটেল বিস্ফোরণে পথচারী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় রমনা ও হাতিরঝিল থানার পুলিশসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিট। ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএমপির রমনা ও তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘটনাস্থলে অবস্থানকালে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে একটি ককটেল নিচে রাস্তার দিকে নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। ককটিলটি সরাসরি সিয়াম নামে ওই যুবকের মাথার ওপরে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সিয়াম। ঘটনাস্থলটি সীমানা অনুযায়ী ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অধীনে হাতিরঝিল থানায় পড়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিনয়শিল্পী আবদুল্লাহ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখানে একটি চার্চ (গির্জা), মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আড্ডাস্থল রয়েছে। কী কারণে এই জায়গায় ককটেল বা বোমা হামলা হলো বুঝতে পারছি না। যেহেতু এখানে বোমা পড়েছে, তাই এখানে আমরা এখন সবাই অরক্ষিত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা শুটিং করি, এই জায়গাটি মোটামুটি সবাই জানেন এবং সবাই আড্ডা দিতে আসেন। আজকে এখানে হামলা হয়েছে, আমরা অনিরাপদ হয়ে গেলাম। সারা বাংলাদেশ এখন অরক্ষিত, আর কিছু বলার নাই।’