দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় উম্মুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার মূল পলাতক আসামি শেখ আল আমিনের স্ত্রীসহ তিন নারীকে তিন দিন করে এবং পুরুষ তিনজনকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের নাম হলো আছিয়া বেগম (পলাতক আসামি আল আমিনের স্ত্রী), ইয়াসমিন আক্তার, আসমানী খাতুন ওরফে আসমা, শাহিন ওরফে আবু বকর ওরফে মুসা ওরফে ডিবা সুলতানা, মো. আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন ও মো. শাফিয়ার রহমান ফকির।
বিপুল পরিমাণ দেশীয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম রিমান্ডে নিয়ে ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘গ্রেপ্তার আসমানী খাতুন এর আগেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল খেটেছেন। অপর আসামি শাহিনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথা থেকে এল, মাদ্রাসায় থাকা ব্যক্তিদের হত্যার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো বড় ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র ছিল কি না–এসব উদ্ঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।’
শুনানির সময় আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আল আমিন এক বছর ধরে আমার সঙ্গে ছিল না। সে আমাকে নির্যাতন করত। সে অপরাধ করে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা নির্দোষ। আমার ভাইয়ের বউ আসমানী শুধু আমাদের দেখতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছে।’
শুনানিতে আসমানী খাতুন ছাড়া অন্যদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আসমানীর আইনজীবী বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পূর্বের মামলায়ও সে খালাস পেয়েছিল। এই মামলায় রিমান্ডের কোনো উপাদান নেই।’ বিচারক শুনানিতে বলেন, ‘এটা সেনসিটিভ মামলা। তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।’
জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে শেখ আল আমিন পরিচালিত ওই মাদ্রাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দেওয়াল ও ছাদের অংশ বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তী দুই দিনে সিআইডি, অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট ও র্যাব অভিযান চালিয়ে ৯টি তাজা ককটেল, ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক (হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, নাইট্রিক অ্যাসিড, অ্যাসিটোন), ল্যাপটপ ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। বিস্ফোরণের সময় আছিয়া ও তাদের তিন সন্তান ভবনে ছিলেন। আহতদের মধ্যে আছেন আছিয়া ও তার তিন সন্তান, যাদের বয়স যথাক্রমে ১০ বছর, ২ বছর ও ৬ মাস।
২০২২ সাল থেকে মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন ও তার স্ত্রী আছিয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। ভবনের চারটি কক্ষের মধ্যে দুটি মাদ্রাসার কাজে ব্যবহৃত হতো এবং বাকি দুটি কক্ষে তারা পরিবারসহ বসবাস করতেন।
বিস্ফোরণের পর আল আমিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশ জানায়, আসামিদের ২৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।