বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এতদিন ভারত একতরফা উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। এবার ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ জানাল বাংলাদেশ। সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে বাংলাদেশ এই প্রথম নিজেদের পরিবর্তিত অবস্থান প্রকাশ করল।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়ে দেশের নতুন অবস্থান তুলে ধরেন।
মুখপাত্র জানান, ভারতে মুসলিম-খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গণপিটুনি, নির্বিচার আটক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধার ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই মাসে ভারতের ওড়িশায় একজন মুসলিম যুবক জুয়েল রানাকে নৃশংস হত্যার ঘটনা, বিহারে মুহাম্মদ আতাহার হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কেরালায় বাংলাদেশি সন্দেহে এক নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যা এবং বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের ওপর গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে বড়দিন উদযাপনকালে ভারতজুড়ে খ্রিষ্টানদের ওপর সংঘটিত গণসহিংসতার বিষয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনাকে আমরা ঘৃণাজনিত অপরাধ ও লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে দেখি।
মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব নৃশংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে। আমরা মনে করি, প্রত্যেক দেশেরই দায়িত্ব তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা ও মর্যাদা দেওয়া এবং প্রত্যেক দেশেরই তা পালন করা উচিত।’
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের এই মন্তব্য বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না। তাই বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে–এমন যেকোনো ভুল, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনাকে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের অপরাধমূলক বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে হিন্দুদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চলছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, বিদ্বেষপূর্ণভাবে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব প্রচারের জন্য এটা ব্যবহার করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা চলছে। এ ছাড়া কিছু মহল বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে বাংলাদেশ, তার কূটনৈতিক মিশন এবং ভারতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ ভারতীয়দের উত্তেজিত করার জন্য ভুলভাবে উপস্থাপন এবং প্রচার করা হচ্ছে।