রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা, মব সন্ত্রাস, ভূমিকম্প, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মতো ঘটনাপ্রবাহ পেরিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সাল। এবারের খ্রিষ্টীয় নববর্ষ বরণ ঘটেছে রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যেই।
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকার আকাশে ছিল বর্ণিল আতশবাজি ও আলোর ঝলকানি। ফানুস ও গ্যাস বেলুনও দেখা গেছে। ডিএমপি আগেই জানিয়েছিল, ‘রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে।’ উন্মুক্ত স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা নিয়েও নিষেধ ছিল।
নববর্ষের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল এবার নিস্তব্ধ। প্রথাগত উদ্দীপনা ও সমাবেশের বদলে দেখা গেছে কঠোর নিরাপত্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথে ছিল বাড়তি নিরাপত্তাবলয়। বাইরের কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনকে রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ, প্রক্টরিয়াল টিম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন ছিলেন। মেয়েদের হলগুলো গতকাল রাত ১০টায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রতিবছরের মতো রাজু ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীদের সমাগম এবার ছিল না বললেই চলে। টিএসসিতেও পুলিশের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সব আনুষ্ঠানিক আয়োজন বাতিল করা হয়।
বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের জিএস আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের আজ কোনো আয়োজন নেই।’ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভিপি তাসনিম আক্তার আলিফও একই কথা জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর কথা স্মরণ করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘এই শোকাবহ সময়ে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জাতীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, প্রতিবছরই ফানুসের আগুন থেকে বাড়িঘর-দোকানপাটে আগুন লেগে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতশবাজির বিকট শব্দে অসংখ্য পাখি, এমনকি মানবসন্তানের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।’ ডাকসু সবাইকে ‘আতশবাজি ফোটানো, ফানুস ওড়ানো ইত্যাদি আয়োজন থেকে বিরত থাকতে’ আহ্বান জানিয়েছে।