ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী? হলিউড অভিনেতা খুন, প্রেমিকার ছেলে গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১ স্বর্ণ ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা এআই এজেন্টের নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রজেক্ট সোলারা কেএফটির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তের বিশ্বজয়, রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক অর্জন সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায়  হামে এক শিশুর মৃত্যু নড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি মুকুসদপুরে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি জামালপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাঘাটায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ চ্যাটজিপিটির মেমোরি ফিচারে বড় পরিবর্তন বিমানবাহিনী জাদুঘরে রেনেসন্স হোটেলের বাহার রেস্টুরেন্টে শুরু হচ্ছে ‘ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ’ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে তরুণীর হুমকি, ‘আমার স্বামী পুলিশ’ দেওয়ানগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে যুবক নিহত সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি সোনারগাঁয় কাভার্ডভ্যান উল্টে চালক নিহত ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২ মাদককারবারিকে পুলিশে দিলো জনতা ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
Nagad desktop

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় নগরের খাল

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
দখল-দূষণে মৃতপ্রায় নগরের খাল
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানী ঢাকার খালগুলো একসময় ছিল নগর জীবনের প্রাণভোমরা। এসব খাল দিয়ে নগরবাসী নৌকায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করেছে। পণ্য পরিবহনও হয়েছে এসব খাল দিয়ে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি খাল হয়ে দ্রুতই নদীতে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই পানি ব্যবস্থাপনাতেই ঢাকা সব সময় জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, লাগামহীন দখল ও চরম দূষণের কারণে সেই খালগুলো আজ মৃতপ্রায়, কোনো কোনোটির অস্তিত্ব আছে শুধু পুরোনো মানচিত্রে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন খালগুলো এখন নগরবাসীর স্বস্তির জায়গা নয়, বরং দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতিবছরই জাতীয় বাজেট ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া হয় খাল খনন, ড্রেনেজ উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প। বাজেট বক্তৃতা ও পরিকল্পনায় দেওয়া হয় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশ্বাস। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। খালগুলোর দূষণ ও দখলমুক্ত করতে না পারায় অল্প বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যাচ্ছে।

কদর নেই সিটি করপোরেশনে
দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাল নিয়ে সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা ও অগ্রগতি বাস্তবসম্মত নয়। যেখানে দৈনিক বা সপ্তাহে পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেখানে বার্ষিকভাবে খাল পরিষ্কার ও খননের পরিকল্পনা করা হয়। দখলদারদের হাত থেকে খাল উদ্ধারে এখন কোনো অভিযানও হচ্ছে না। দুই সিটি করপোরেশনে খালের কদর এতটাই কম যে, তদারকির জন্য নেই কোনো টিম বা কমিটি। তাই রাজধানীর খালগুলো এখন দখলদারদের অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হয়ে গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় খালের সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান কোনো সংস্থার কাছে নেই। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন অনুযায়ী- একসময় ঢাকায় ৭৭টি বা তারও বেশি খাল ছিল। ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ৫০টি খাল রয়েছে। ২০২০ সালে জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসা ২৬টি খাল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করে। অন্যগুলো গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। বর্তমানে দুই সিটি করপোরেশন দেখভাল করে প্রায় ২ হাজার ২১১ কিলোমিটার নালা। রাজধানীর খালগুলোর প্রায় অর্ধেকই বেদখল ও দূষণের শিকার হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বহু এলাকার খালে এখন স্বাভাবিক পানির প্রবাহ নেই। গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক, বাজারের ময়লা, হাসপাতালের আবর্জনা ও শিল্পকারখানার তরল বর্জ্যে খালের পানি কালো হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খাল এতটাই ভরাট যে তা আর খাল হিসেবে চেনার উপায় নেই। পানির ওপর ভাসছে আবর্জনা, নিচে জমেছে পলিথিন ও পচা বর্জ্য। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে।

রামচন্দ্রপুর খাল: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার রামচন্দ্রপুর খাল একসময় বৃষ্টির পানি সরাসরি তুরাগ নদীতে নিয়ে যেত। বর্তমানে খালটির বড় অংশ দখল হয়ে গেছে। খালের পাড়ে ও ওপরেই গড়ে উঠেছে দোকান, বসতবাড়ি ও স্থাপনা। খনন করা হলেও নিয়মিত ময়লা ফেলার কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা এলেই মোহাম্মদপুর, শ্যামলী ও আদাবর এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

রায়েরবাজার বা হাইক্কার খাল: মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত রায়েরবাজার খালটি এখন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট। খালপাড় দখল করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও গরুর খামার। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। দখল এতটাই বেড়েছে যে, সাদেক খান ফিলিং স্টেশন খালের উপরেই নির্মিত হয়েছে। দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে হাইক্কার খালটিও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। ময়লা-আবর্জনায় খালটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল: যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল বর্তমানে চরম অবহেলা ও দূষণের শিকার। সারা বছরই খালটিতে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে। ফলে পানির রং কালো হয়ে গেছে এবং ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। স্থানীয়দের একটি অংশ নিয়মিত খালে ময়লা ফেলছে। কোনো কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অতিরিক্ত আবর্জনা ও পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে এখন কার্যত সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। স্থির নোংরা ও দূষিত পানিতে মশা-মাছির ব্যাপক বংশবিস্তার ঘটছে, বাড়ছে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেললেও কুতুবখালী খাল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না। 

বেড়েছে স্বাস্থ্যঝুকি ও ভোগান্তি: দূষিত ও স্থির পানির কারণে খালগুলো এখন ‘মশার আদর্শ’ প্রজননক্ষেত্র। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। খালের আশপাশে বসবাসকারী মানুষ দুর্গন্ধ ও মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পর দিন জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কর্মজীবীদের অফিসে পৌঁছানো- সবকিছুই হয়ে পড়ছে দুর্বিষহ।

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, জলাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও। গত কয়েক বছরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় বৃষ্টির পানি দোকানে ঢুকে পড়ায় নষ্ট হয়েছে মজুত পণ্য, ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। 

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, খাল দখলমুক্ত না করে শুধু খনন বা পরিষ্কার করার কাজ চালানো মানে অর্থের অপচয়। পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ও অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, সিটি করপোরেশন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে, কিন্তু খাল রক্ষার্থে যথাযথ কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। খাল যে বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার জায়গা না, এমন অবস্থা আমরা তৈরি করতে পারিনি। উন্নত বিশ্বে খাল রক্ষা করা হয়। আমাদের দেশের খালগুলো দখল-দূষণ-বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার স্থান হয়ে গেছে। খাল রক্ষার্থে জনসচেতনতার পাশাপাশি সম্মলিত উদ্যোগ গ্রহণ ও সঠিক পরিকল্পনা করে এগুতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাল ব্যবস্থাপনা (পরিষ্কার) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভুঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘খাল রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা। আমরা বার্ষিক পরিকল্পনা হিসেবে খাল পরিষ্কার করছি, কিন্তু তা যথেষ্ট না। আমাদের নিজস্ব লোকবল দিয়ে পরিষ্কার করছি। খালের জন্য আলাদা কোনো টিম বা জনবল নেই। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এখন চারটি খাল পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকবে। স্থানীয়দের সংযুক্ত করে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। আগে যেমন খাল উদ্ধারে অভিযান চলত, এখন সেই অভিযান নেই। আশা করি, নির্বাচনের পর সরকার বিষয়টিতে নজর দেবে।

খাল রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে জানতে উত্তর সিটি করপোরেশনে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটি খবরের কাগজকে জানায়, খাল ও ড্রেনেজ রক্ষার্থে ১৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া আছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ‘নীল নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পে প্রায় ১২.৫ কিলোমিটার খাল ও ১২.৩ কিলোমিটার নদী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমাধানে একটি সংশোধিত ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

এ ছাড়াও সংস্থাটি জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাউনিয়া ও রূপনগর খাল উন্নয়নসহ কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী
ছবি: সংগৃহীত

সুদানে জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে পদকগুলো তুলে দেন।

পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলির আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।

দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্মরণে অনুষ্ঠানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।

চলতি বছর শান্তিরক্ষা দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো জাতিসংঘের ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

আমান/

সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি
ছবি: খবরের কাগজ

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৪ অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, এ সময় মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া এবং ফরিদপুর অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিমে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়া দেশের রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, বরিশাল, টাংগাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং মাদারীপুর অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আমান/

৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বিইআরসির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল।

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিইআরসি একটি জুডিশিয়াল অথরিটি বা আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান। তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।’

ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপ প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ সকল আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া  ‘গত এক থেকে দেড় দশক ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি করা হয়েছে, তা আপনাদের সামনেই ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে এনে সুস্থ ধারায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে।’

আমান/

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু মশার লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলন, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ। যার নাম হেমোরোজিক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে হতে পারে রক্তক্ষরণও। সুতরাং আগে থেকেই সচেতন হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপে এসেছে ডেঙ্গুর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।’

জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও জানান প্রশাসক আবদুস সালাম।

আমান/

এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এআই ক্যামেরার ট্রাফিক জরিমানার নামে প্রতারক চক্রের ছড়ানো ভুয়া এসএমএস ও লিংক সম্পর্কে নগরবাসীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

গত ২৪ মে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্রতারিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইদানিং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ব্যাপারে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসী এসএমএস পাচ্ছেন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, প্রাপ্ত এসব এসএমএস সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এআই বা ভিডিও মামলাসমূহ নিম্ন প্রক্রিয়ায় নিস্পত্তি করে থাকে:

১) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অমান্যকারী যানবাহনে মামলা দেওয়া হলে আপনার ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের/ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

২) কেবলমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ মোবাইল নাম্বার হতে প্রয়োজনে আপনার কাছে এসএমএস পাঠানো হবে।

৩) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক জরিমানাকৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং (উপায় এবং সিবিবিএল) এ পরিশোধ করা যায়।

৪) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনো কোনো পিনকোড, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি ইত্যাদি জানতে চায় না। ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য ডেল্টা-৩, মোবাইল নং-০১৩২০ ০৪২২০৭ ও ০১৩২০ ০৪২২২৭ এবং ৯৯৯ যোগাযোগ করুন।

অমিয়/