আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত অসামরিক প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
আজ বৃহস্পতিবার দুই বাহিনীর প্রধান পৃথক দুই স্থান পরিদর্শন শেষে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো পৃথক দু’টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বরগুনায় নির্বাচনি কার্যক্রম পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান
আজ বরগুনায় নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেন তিনি।
পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নৌবাহিনীসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসসহ সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নৌবাহিনী প্রধান।
আইএসপিআর জানায়, উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বোটের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো তৎপরতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও ফুট পেট্রোলিং চলছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) এবং সোয়াডস্ টিম প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে বাহিনীর সদস্যদের ব্রিফিং করলেন বিমান বাহিনী প্রধান
বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিএএফ ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে অনুষ্ঠানে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যদেরকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা ও নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ এবং প্রয়োগের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
আইএসপিআর জানায়, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় ১৬টি সংসদীয় আসনে ২৫টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পাশাপাশি নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবে এবং মাঠ পর্যায়ে এক হাজার ২৫০ জন সদস্য আগামী ৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ দিন মোতায়েন থাকবে। এই সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ২১টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও, নির্বাচন কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার লক্ষ্যে বিমান বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও ‘আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল’ সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত আছে।
জাহাঙ্গীর/মাহফুজ