ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শেষের বিবর্ণতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের নাগরপুরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা ও চাল বিতরণ আত্মপরিচয়ের খোঁজে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১০ জন আটক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের ঘোষণা

নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা
কৈখালী বিওপি এলাকা থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে দেশে ছোট-বড় নানা আকারের অস্ত্র-গোলাবারুদের চালান ঢুকছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে কিছু অস্ত্র উদ্ধারও হয়েছে। উদ্ধার করা এসব অস্ত্রের মধ্যে আছে বড় ধরনের অস্ত্রের চালান, দেশি-বিদেশি পিস্তল, গ্রেনেড, ককটেল, গোলাবারুদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় সেসব অস্ত্র নির্বাচনি নাশকতার শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংখ্যালঘুসহ স্থানীয়রা মনে করছেন, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা অস্ত্র নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের অতীত অভিজ্ঞতা এ রকম। আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত দেড় বছরে ভালো ছিল না বলে নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কা করছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পুলিশ অস্ত্র চোরাচালান এবং সহিংসতা সম্পর্কে সতর্ক আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

যশোর

জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে টহল জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ দেশি-বিদেশি পিস্তল, শক্তিশালী গ্রেনেড, ককটেল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। 

যশোর জেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা উপজেলা চৌগাছা, শার্শা ও ঝিকরগাছা এলাকার পুটখালী, বাগআঁচড়া, নাভারণ, রুদ্রপুর, সুতিপাড়া, লক্ষ্মণপুর ও কাগজপুকুর সীমান্ত ঘাট, বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর ও আশপাশের সীমান্ত ঘাটগুলো অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় সেখানে নজরদারি ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বাইরে বিস্তীর্ণ চর ও ফাঁকা মাঠ থাকায় রাতের আঁধারে চোরাচালান সহজ হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশেরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, তফসিল ঘোষণার পর যশোর জেলায় দেশি পিস্তল ২টি, বিদেশি পিস্তল ৫টি, গুলি ১৮ রাউন্ড, কার্তুজ ১টি, ধারালো অস্ত্র ২৮টি, ককটেল ৪৯টি, ওয়ান শুটার গান ১টি পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া যৌথ বাহিনী ১০টি গ্রেনেড, ৫টি বিদেশি পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। বিজিবি কয়েকটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।


চুয়াডাঙ্গা

সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর আওতায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে বিজিবি।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি।’

ফেনী

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ভারত সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় ফেনীতে বাড়তি উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহারের অবাধ সুযোগ নিয়ে নাশকতার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান চালাচ্ছে বিজিবি।
ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশির ভাগ অবৈধ অস্ত্রও এখনো জব্দ করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এসব বিপজ্জনক অস্ত্র এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। ফলে জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।

ফেনী সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে বিজিবি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, ফেনীর সংসদীয় আসনগুলোতে কোথাও যেন বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত যেন উদ্বেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একাধিক সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ, জামালপুর, বিলগাতুয়া, মুন্সীগঞ্জ, চরপাড়া, চল্লিশপাড়াসহ মহাম্মদপুর, বাংলাবাজার সীমান্ত পথ ব্যবহার করে সম্প্রতি কয়েক দফায় অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে দেশে। দু-একজন পাচারকারী গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সূত্র জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রের চালানে মিলেছে আমেরিকার তৈরি উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র, সিক্স পয়েন্ট সেভেন এমএম ও নাইন এমএম পিস্তল, এলজি, ওয়ান শুটারগানসহ বিভিন্ন ধরনের ফায়ার আর্মস। 

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, অস্ত্র পাচারের পেছনে একটি শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পাচার হয়ে আসা অস্ত্রের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে পৌঁছে গেছে। সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি পৃথক চালানে এলজি ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দেশে আনার তথ্যও পাওয়া গেছে।

দৌলতপুর সীমান্ত এখন একটি ‘হটস্পট’ এলাকায় পরিণত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের স্বার্থের জটিল যোগসূত্র রয়েছে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে এভাবে অস্ত্র প্রবেশ করায় ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ‘অস্ত্র আমদানির বিষয়ে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই, তবে আমরা এসব বিষয়ে কঠিন নজরদারিতে রেখেছি। দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

অস্ত্র পাচারের ধারাবাহিক ঘটনায় দৌলতপুরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

কুমিল্লা 

ভোট গ্ৰহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, কুমিল্লা-ভারত সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে ততই বাড়ছে উদ্বেগ। ভোট উৎসবের আবহের মধ্যেই দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। 

কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জেলার তিনটি সংসদীয় আসন ভারত সীমান্তঘেঁষা। অর্ধশতাধিক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। চৌদ্দগ্রাম, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার রেকর্ড, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার এবং গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তার ভিত্তিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা নজরদারি। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভোটের দিন যত কাছাকাছি আসছে, ততই সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা চোখে পড়ছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী আমানগন্ডা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগে যাদের এলাকায় দেখতাম না, এখন ভোট সামনে রেখে তাদের ঘোরাঘুরি বাড়ছে। রাতে বাইক চলাচলও বেড়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে আছি। ভোট দিতে গেলে কোনো ঝামেলায় পড়ি কি না।’ 

বুড়িচং উপজেলার সীমান্তঘেঁষা শংকুচাইল এলাকার স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি কিংবা অবৈধ অস্ত্র আসার আশঙ্কা নতুন নয়, তবে নির্বাচন এলেই এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। 

সীমান্ত এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে সীমান্ত এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে এবং বাইরে অবস্থানরত দুষ্কৃতকারীরাও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভোটের আগে ও ভোটের দিনে নাশকতা, সহিংসতা কিংবা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। 

কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ অস্ত্র, দুষ্কৃতকারী বা উসকানিমূলক তৎপরতা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্তজুড়ে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে মাদক ও পণ্য চোরাচালান নতুন কিছু নয়। সীমান্তরক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধ অস্ত্র ঢোকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলা ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী। এ তিন উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন মাদক ও পণ্য চোরাচালন হয়। গত নভেম্বরে পৃথক তিনটি গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন গুলিবিদ্ধ হলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র আসার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

গত ২৭ নভেম্বর কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন সাবেক ছাত্রদল কর্মী সাদ্দাম হোসেন। এর আগে বড়িকান্দিতে প্রতিপক্ষের গুলিতে শিপন ও ইয়াছিন নামে দুই যুবক নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন আরও একজন।

মেহেরপুর 

সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের শঙ্কা। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য জেলার বেশ কিছু জায়গায় বোমাসদৃশ বস্তু রাতের আঁধারে রেখে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রার্থীদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটের দিন পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে। 

নির্বাচনের উত্তাপের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি। সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র, যা প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধারও হচ্ছে। বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার আশঙ্কায় প্রার্থীরা মনে করছেন, এগুলো নির্বাচনে সহিংসতা ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। মেহেরপুর জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে মেহেরপুর জেলা থেকে আটটি অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। 

মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর অভিযানে বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজশাহী 

গত শুক্রবার রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

বিজিবি রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিবির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০টি বেজ ক্যাম্প, ২৮ প্লাটুন মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, কে-৯ ইউনিটের সদস্য, পদ্মা নদীতে সাতটি স্পিডবোট ও একটি ফাস্ট প্যাট্রোল ক্রাফট মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্তের ১৬টি বিওপির প্রতিটিতে ১০ জন করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভসহ প্রায় ৭০০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা 

নির্বাচনি উৎসবের আমেজ থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করছে অজানা এক ভয়। একদিকে জেলার ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নিয়ে তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে থানা থেকে লুণ্ঠিত অত্যাধুনিক অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে একধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

এরই মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের একটি ভিডিও এই প্রতিনিধির হাতে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য ও ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে অস্ত্রের একটি বড় চালান পাচারের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে এক জেলে আটক হন। বিএসএফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই জেলে অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। ওই জেলে বিএসএফের কাছে বলেন, এটিই প্রথম নয়, এর আগে ১০ থেকে ১২ বার তার মাধ্যমে অস্ত্রের বড় বড় চালান বাংলাদেশে ঢুকেছে। 

এদিকে সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আগে নির্বাচন মানেই ছিল উৎসব, কিন্তু এবারের চিত্রটা আলাদা। ৫ আগস্টের পর আমাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলায় ধস নেমেছিল।  লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভয়মুক্ত হতে পারছি না।’ 

সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘শুনছি চারদিকে অবৈধ অস্ত্র ধরা পড়ছে। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোও নাকি এখনো মানুষের হাতে। আমরা শুধু শান্তিতে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে চাই। প্রশাসন যেন আমাদের এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা আর নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা রাখে।’

প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণ তামিম হোসেন বলেন, ‘ভোট দেওয়ার উৎসাহ ছিল। কিন্তু লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া আর নতুন অস্ত্রের খবরে মা-বাবা বেশ চিন্তিত। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বাইরের পরিবেশ নিয়ে আমাদের ভয় কাটছে না।’
মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক নেতা মাধব দত্ত বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো এখন অপরাধীদের হাতে থাকায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে ভোটারদের মনে সাহস জোগাতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
রংপুরে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: খবরের কাগজ

আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। পদ্মা ব্যারাজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগির আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাস করানো হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারী জেলায় তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন যে আমি খুব শিগগির এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পেছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না এগোই তাহলে আমরা হোঁচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করব। প্রয়োজনে দু-চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন শিগগিরই এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজটা উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে তিনি তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির সদস্যসহ অন্যরা।

এদিকে লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘তিস্তা নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে। আমরা যদি পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তবে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাআল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হব।’ গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘উজানে গজলডোবায় যেভাবে পানির স্রোত আসছে, তারা তো তাদের গেটগুলো ওপেন করে দিয়েছে। এই খাড়া স্রোতের কারণে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং নদীভাঙন বিশাল আকার ধারণ করেছে। পানি এত ওভারফ্লো হচ্ছে যে, এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের সবদিক বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতীব প্রয়োজন। এটা শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আজ আমরা টেকনিক্যাল টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা শুধু আপনাদের দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখন এই কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব, তখন হয়তো ছয়-সাত বছর সময় লাগে যাবে। কিন্তু এর যে বেনিফিট আসবে তা এ অঞ্চলের মানুষ পাবে। এতে সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে।’ 

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ অন্যরা।

শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

এর মধ্যে বরিশাল  ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।

এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। 

পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। 

বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। 

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে। 

গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি। 

নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে। 

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাসস/এসএন

ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার
ছবি: সংগৃহীত

ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি (কায়রো, মিশর) শাখার উদ্যোগে মিশরের রাজধানী কায়রোর গ্র্যান্ড কনফারেন্স হল বুর্জ আল-তাতবিকিয়্যিনে ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব বাহরে শরীয়ত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ)-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগরিবের পর অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন পাক-ভারত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম আধ্যাত্মিক মারকাঝ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.)।


 
ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি মিশরের আহ্বায়ক সাইমুম আল-মাহদী আল-আযহারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মিশরের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব ফাদিলাতুশ শাইখ ক্বারী মোহাম্মাদ সাইদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সাইফুর রহমান আল-আযহারী। এ সময় আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেশের ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিবৃন্দ হযরত পীর সাহেব কেবলাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা, আরবী ও ইংরেজী ভাষায় ছারছীনা শরীফের খেদমত, শাহ মোহাম্মাদ মোহেব্বুল্লাহ (রহ.)-এর জীবনাদর্শ, তাজদিদি মিশনের কার্যক্রম, আধ্যাত্মিক অবদান এবং বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় তার বিপ্লবী ভূমিকা তুলে ধরেন।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ দেশের ছাত্র প্রতিনিধি, রুয়াসাউল ইত্তেহাদ, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ফিলিস্তিনি দাতা সংস্থা One Ummah Foundation, আল-আযহার স্টুডেন্ট ফোরাম, ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইত্তেহাদ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।

হযরত পীর ছাহেবকে উল্লেখিত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে মিশরের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি ছাত্রদের সংগঠন, ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা প্রধান শিহাবউদ্দিন আল-আযহারী সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। ভারতের ফুরফুরা দরবার শরীফের শাহ সাহেবগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে হুজুরকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। 

সকল সংগঠনের প্রধানগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে, শতাব্দী জুড়ে ছারছীনা শরীফের অবদানসমূহ তুলে ধরেন। ইত্তেহাদুল আরবের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মাদ মাখঝুমি, তাসাউফ চর্চা ও দ্বীন ইসলামের খেদমতে ছারছীনা দরবার শরীফের অবদানকে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ছারছীনা দরবার শরীফের বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সংস্থা হেমায়েতে ইসলাম বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে মিশরে অবস্থানরত উদ্বাস্তু ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনি মজলুম জনগোষ্ঠীর ২০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পীর ছাহেব হুজুর কেবলা আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে দ্বীনি শিক্ষা, আমল-আখলাক, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সুন্নতে নববীর আদর্শে নিজেকে উম্মাহর জন্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে ফিলিস্তিনসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে পরিশেষে দেশ-জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর  শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা মুনাজাত পরিচালনা করেন। 

এসএন/

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৯ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

তিনি বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

এসএন/

দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ কবলিত উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতারা।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। গবেষণা সংস্থা ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও মানবসৃষ্ট পরিবেশগত অভিঘাতে উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ায় স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, উপকূলে দুর্যোগের পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এতে মানুষ কর্মহীন ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। জনগণের দাবি থাকা সত্ত্বেও নতুন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের এই সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মূল বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উপকূলের সংকট এখন শুধু দুর্যোগের বিষয় নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির প্রশ্ন। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।’

সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক এলাকা উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত।’ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেট পাস হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি ২১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন; ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ; টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার; প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানির নিশ্চয়তা; ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতানা শাপলাসহ অনেকে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন