নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে দেশে ছোট-বড় নানা আকারের অস্ত্র-গোলাবারুদের চালান ঢুকছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে কিছু অস্ত্র উদ্ধারও হয়েছে। উদ্ধার করা এসব অস্ত্রের মধ্যে আছে বড় ধরনের অস্ত্রের চালান, দেশি-বিদেশি পিস্তল, গ্রেনেড, ককটেল, গোলাবারুদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় সেসব অস্ত্র নির্বাচনি নাশকতার শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংখ্যালঘুসহ স্থানীয়রা মনে করছেন, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা অস্ত্র নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের অতীত অভিজ্ঞতা এ রকম। আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত দেড় বছরে ভালো ছিল না বলে নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কা করছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পুলিশ অস্ত্র চোরাচালান এবং সহিংসতা সম্পর্কে সতর্ক আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
যশোর
জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে টহল জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ দেশি-বিদেশি পিস্তল, শক্তিশালী গ্রেনেড, ককটেল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
যশোর জেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা উপজেলা চৌগাছা, শার্শা ও ঝিকরগাছা এলাকার পুটখালী, বাগআঁচড়া, নাভারণ, রুদ্রপুর, সুতিপাড়া, লক্ষ্মণপুর ও কাগজপুকুর সীমান্ত ঘাট, বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর ও আশপাশের সীমান্ত ঘাটগুলো অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় সেখানে নজরদারি ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বাইরে বিস্তীর্ণ চর ও ফাঁকা মাঠ থাকায় রাতের আঁধারে চোরাচালান সহজ হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশেরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, তফসিল ঘোষণার পর যশোর জেলায় দেশি পিস্তল ২টি, বিদেশি পিস্তল ৫টি, গুলি ১৮ রাউন্ড, কার্তুজ ১টি, ধারালো অস্ত্র ২৮টি, ককটেল ৪৯টি, ওয়ান শুটার গান ১টি পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া যৌথ বাহিনী ১০টি গ্রেনেড, ৫টি বিদেশি পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। বিজিবি কয়েকটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
চুয়াডাঙ্গা
সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর আওতায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে বিজিবি।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি।’
ফেনী
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ভারত সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় ফেনীতে বাড়তি উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহারের অবাধ সুযোগ নিয়ে নাশকতার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান চালাচ্ছে বিজিবি।
ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশির ভাগ অবৈধ অস্ত্রও এখনো জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এসব বিপজ্জনক অস্ত্র এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। ফলে জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।
ফেনী সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে বিজিবি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, ফেনীর সংসদীয় আসনগুলোতে কোথাও যেন বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছে।
কুষ্টিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত যেন উদ্বেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একাধিক সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ, জামালপুর, বিলগাতুয়া, মুন্সীগঞ্জ, চরপাড়া, চল্লিশপাড়াসহ মহাম্মদপুর, বাংলাবাজার সীমান্ত পথ ব্যবহার করে সম্প্রতি কয়েক দফায় অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে দেশে। দু-একজন পাচারকারী গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
সূত্র জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রের চালানে মিলেছে আমেরিকার তৈরি উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র, সিক্স পয়েন্ট সেভেন এমএম ও নাইন এমএম পিস্তল, এলজি, ওয়ান শুটারগানসহ বিভিন্ন ধরনের ফায়ার আর্মস।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, অস্ত্র পাচারের পেছনে একটি শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পাচার হয়ে আসা অস্ত্রের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে পৌঁছে গেছে। সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি পৃথক চালানে এলজি ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দেশে আনার তথ্যও পাওয়া গেছে।
দৌলতপুর সীমান্ত এখন একটি ‘হটস্পট’ এলাকায় পরিণত হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের স্বার্থের জটিল যোগসূত্র রয়েছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এভাবে অস্ত্র প্রবেশ করায় ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ‘অস্ত্র আমদানির বিষয়ে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই, তবে আমরা এসব বিষয়ে কঠিন নজরদারিতে রেখেছি। দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
অস্ত্র পাচারের ধারাবাহিক ঘটনায় দৌলতপুরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লা
ভোট গ্ৰহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, কুমিল্লা-ভারত সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে ততই বাড়ছে উদ্বেগ। ভোট উৎসবের আবহের মধ্যেই দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জেলার তিনটি সংসদীয় আসন ভারত সীমান্তঘেঁষা। অর্ধশতাধিক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। চৌদ্দগ্রাম, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার রেকর্ড, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার এবং গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তার ভিত্তিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা নজরদারি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভোটের দিন যত কাছাকাছি আসছে, ততই সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা চোখে পড়ছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী আমানগন্ডা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগে যাদের এলাকায় দেখতাম না, এখন ভোট সামনে রেখে তাদের ঘোরাঘুরি বাড়ছে। রাতে বাইক চলাচলও বেড়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে আছি। ভোট দিতে গেলে কোনো ঝামেলায় পড়ি কি না।’
বুড়িচং উপজেলার সীমান্তঘেঁষা শংকুচাইল এলাকার স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি কিংবা অবৈধ অস্ত্র আসার আশঙ্কা নতুন নয়, তবে নির্বাচন এলেই এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সীমান্ত এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে সীমান্ত এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে এবং বাইরে অবস্থানরত দুষ্কৃতকারীরাও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভোটের আগে ও ভোটের দিনে নাশকতা, সহিংসতা কিংবা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ অস্ত্র, দুষ্কৃতকারী বা উসকানিমূলক তৎপরতা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্তজুড়ে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে মাদক ও পণ্য চোরাচালান নতুন কিছু নয়। সীমান্তরক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধ অস্ত্র ঢোকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলা ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী। এ তিন উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন মাদক ও পণ্য চোরাচালন হয়। গত নভেম্বরে পৃথক তিনটি গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন গুলিবিদ্ধ হলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র আসার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
গত ২৭ নভেম্বর কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন সাবেক ছাত্রদল কর্মী সাদ্দাম হোসেন। এর আগে বড়িকান্দিতে প্রতিপক্ষের গুলিতে শিপন ও ইয়াছিন নামে দুই যুবক নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন আরও একজন।
মেহেরপুর
সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের শঙ্কা। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য জেলার বেশ কিছু জায়গায় বোমাসদৃশ বস্তু রাতের আঁধারে রেখে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রার্থীদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটের দিন পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে।
নির্বাচনের উত্তাপের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি। সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র, যা প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধারও হচ্ছে। বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার আশঙ্কায় প্রার্থীরা মনে করছেন, এগুলো নির্বাচনে সহিংসতা ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। মেহেরপুর জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে মেহেরপুর জেলা থেকে আটটি অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর অভিযানে বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজশাহী
গত শুক্রবার রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিবির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০টি বেজ ক্যাম্প, ২৮ প্লাটুন মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, কে-৯ ইউনিটের সদস্য, পদ্মা নদীতে সাতটি স্পিডবোট ও একটি ফাস্ট প্যাট্রোল ক্রাফট মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তের ১৬টি বিওপির প্রতিটিতে ১০ জন করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভসহ প্রায় ৭০০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা
নির্বাচনি উৎসবের আমেজ থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করছে অজানা এক ভয়। একদিকে জেলার ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নিয়ে তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে থানা থেকে লুণ্ঠিত অত্যাধুনিক অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে একধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এরই মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের একটি ভিডিও এই প্রতিনিধির হাতে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য ও ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে অস্ত্রের একটি বড় চালান পাচারের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে এক জেলে আটক হন। বিএসএফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই জেলে অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। ওই জেলে বিএসএফের কাছে বলেন, এটিই প্রথম নয়, এর আগে ১০ থেকে ১২ বার তার মাধ্যমে অস্ত্রের বড় বড় চালান বাংলাদেশে ঢুকেছে।
এদিকে সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আগে নির্বাচন মানেই ছিল উৎসব, কিন্তু এবারের চিত্রটা আলাদা। ৫ আগস্টের পর আমাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলায় ধস নেমেছিল। লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভয়মুক্ত হতে পারছি না।’
সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘শুনছি চারদিকে অবৈধ অস্ত্র ধরা পড়ছে। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোও নাকি এখনো মানুষের হাতে। আমরা শুধু শান্তিতে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে চাই। প্রশাসন যেন আমাদের এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা আর নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা রাখে।’
প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণ তামিম হোসেন বলেন, ‘ভোট দেওয়ার উৎসাহ ছিল। কিন্তু লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া আর নতুন অস্ত্রের খবরে মা-বাবা বেশ চিন্তিত। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বাইরের পরিবেশ নিয়ে আমাদের ভয় কাটছে না।’
মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক নেতা মাধব দত্ত বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো এখন অপরাধীদের হাতে থাকায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে ভোটারদের মনে সাহস জোগাতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।