মো. সারওয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত
হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ড’ নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে যা বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি আজই জারি করা হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।
মো. সারওয়ার আলম সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তার কিছু কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হলেও তার কথার সাথে কাজের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাদাপাথর লুটের ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তিনি সাদাপাথর লুটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত করতে পারেননি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজও তিনি এগোতে পারেননি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেছিলেন, ২/৩ মাসের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে। এই আশ্বাসের প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কের এক চতুর্থাংশ জমিও অধিগ্রহণ করা হয়নি।
এরপর গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পের পর বলেছিলেন, নগরের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সব ভবন ভেঙে ফেলা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ফুটপাত থেকে হকার সরানোসহ আরও কিছু কর্মকাণ্ড আছে।
তবে সম্প্রতি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকার স্বচ্ছতা আনার নামে মাজারের তিনটি ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করানো হয় এবং ডেগের পাশে আনসার সদস্যও নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান। এতেই জনগনের তোপের মুখে পড়েন মো. সারওয়ার আলম। এই ঘটনার তিনদিনের মাথায় প্রত্যাহার হন ডিসি মো. সারওয়ার আলম।
শাকিলা ববি/তামান্না রুপা