ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ
Nagad desktop

বিপন্ন নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা: গতি পাচ্ছে থমকে থাকা সমীক্ষা

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
বিপন্ন নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা: গতি পাচ্ছে থমকে থাকা সমীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় রক্ত দেওয়া দেশের মাটিতেই ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা চর্চা। সরকার স্বীকৃত ৫০ নৃগোষ্ঠীর ৪১ ভাষার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভাষার নেই লিখিত রূপ। আর নৃভাষা-বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা শেষ হওয়ার এক দশক পরও তার অধিকাংশ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নথিবদ্ধকরণের ধীরগতি ও নতুন প্রজন্মের আঞ্চলিক ভাষামুখী প্রবণতায় বহু ভাষা এখন নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে। কথ্যভিত্তিক ভাষাগুলো প্রজন্মান্তরে টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছে। সরকার ২০১০ সালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নৃভাষা-বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা হাতে নেয় এবং ২০১৪ সালে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। পরিকল্পনা ছিল ১০ খণ্ড বাংলা ও ১০ খণ্ড ইংরেজি প্রতিবেদন প্রকাশের। কিন্তু ২০১৮ সালে মাত্র একটি খণ্ড প্রকাশের পর সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী (ভাষা, গবেষণা ও পরিকল্পনা) খবরের কাগজকে জানান, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই থমকে থাকা কাজগুলো এগিয়ে নিতে বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন তারা। সেই প্রস্তাবনা কিছুদিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে সেই প্রস্তাবনা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলে এই অর্থ বছরেই নৃতাত্ত্বিক ভাষা সমীক্ষার কাজ পুনরায় শুরু করবে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। 

নূরে আলম সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা করছি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি ভাষা নিয়ে নতুন সমীক্ষার কাজ শুরু করব। পাশাপাশি যে কাজগুলো অনেক দিন ধরে থমকে আছে সেগুলো শেষ করা হবে।’ ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিধিনিষেধের’ কারণে সমীক্ষার সব তথ্য এই প্রতিবেদককে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। পরে বলেন, এ বছর দেশের বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি মাতৃভাষা নিয়ে কীভাবে সমীক্ষার কাজ শুরু করা যায় এই পরিকল্পনা করবেন তারা। 

ভাষা সমীক্ষায় দক্ষ জনবল ও ধাপভিত্তিক পরিকল্পনার তাগিদ
নৃতাত্ত্বিক ভাষা সমীক্ষা দলের প্রধান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার। মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভাষা সমীক্ষা প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে হলে আগে অসমাপ্ত কাজগুলোর প্রকাশ, দক্ষ গবেষক তৈরি এবং ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন এই ভাষাবিজ্ঞানী। 
অধ্যাপক সিকদারের ভাষ্য, নতুন করে সমীক্ষা শুরুর আগে পুরোনো কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের সফট কপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত নেই বলে জানানো হয়েছে, যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, রেংমিটচা, সৌরাসহ বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করতে হলে হুট করে প্রকল্পের ঘোষণা না দিয়ে আগে গবেষক তৈরি করতে হবে।

সৌরভ শিকদারের ভাষ্যে, ‘শুধু অর্থ বরাদ্দ দিয়ে মাঠে নামলেই হবে না। ফিল্ডে নামার আগে গবেষকদের ট্রেনিং দিতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে, তারপর কাজ শুরু করতে হবে। কারণ দেশে ভাষাবিজ্ঞানে দক্ষ জনবল খুবই সীমিত।’

অধ্যাপক সিকদার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় বই তৈরি হলেও অনেক জায়গায় শিক্ষক না থাকায় সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগনীতিতে ভাষাভিত্তিক অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেক পরিবার এখনো মনে করে মাতৃভাষায় পড়লে চাকরির সুযোগ কমে যায়। এই ধারণা ভাঙতে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। অধ্যাপক সিকদার বলেন, ‘কমিউনিটিকে বোঝাতে হবে যে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের শেখার ভিত্তি শক্ত করে।’

নৃতাত্ত্বিক ভাষা সমীক্ষায় জাতীয়, কারিগরি ও বাস্তবায়ন–এমন একাধিক কমিটি ছিল। এগুলোর কার্যক্রম সক্রিয় করা, বহুভাষিক শিক্ষা সেল চালু রাখা এবং প্রতিবছর নতুন ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিলে পাঁচ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি সম্ভব।

পাহাড়ি জনপদে আগ্রহ, তবে আর্থিক সংকট প্রকট
পাহাড়ি জনপদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক স্তরে পাঠ নিতে আগ্রহী বলে জানান ম্রো ভাষার লেখক-গবেষক ইয়াং ঙান ম্রো। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে নৃগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে পারছি না। শিশুরা নতুন পাঠ্যপুস্তক না পেয়ে খুবই বিরক্ত। আর একই ধরনের বইও তারা পড়তে চাইছে না। তারা চায় নতুন কিছু থাকুক তাদের পাঠ্যপুস্তকে। পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে অর্থের ওপর। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর কতটা করতে পারি?’

পাহাড়ি জনপদে শুধু রেংমিটচা না; খুমি, খিয়াংসহ নানা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। ইয়াং ঙান ম্রো বলেন, ‘পাহাড়ের দুর্গম জনপদে কিছু জনগোষ্ঠী আছে যাদের সংখ্যা হয়তো হাজার দেড়েক হবে। অথচ তাদের মাতৃভাষা ঠিকঠাক বলতে পারা লোকের সংখ্যা ৬-৭ জনের বেশি না।’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট চা-বাগানের সৌরা জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন এক দল তরুণ। তাদের একজন সৌরভ প্রসাদ সোম জানান, এই জনগোষ্ঠীর মানুষ এমনিতেই লাজুক প্রকৃতির। সৌরা বস্তিতে পরিবারের সংখ্যা ১০। অথচ এখন মাত্র একজন মানুষ এই ভাষাটা সঠিকভাবে বলতে পারেন। তাদের বর্ণমালায় কিছু লিখতে পারেন। তিনি চলে গেলে সৌরা ভাষাটাই শ্রীমঙ্গল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিদ্যমান জাতীয় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার। একইসঙ্গে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

সংরক্ষিত নারী আসন-১০ এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার (এসওডি)’ প্রণয়ন করেছে।’

তিনি জানান, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এসব পরিকল্পনাকে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসন-২ এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রাণহানি কমাতে সরকার সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আইভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

এ ছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার প্রচার ও মহড়ার আয়োজনের পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনি-কাম বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এলিস/রিফাত/

দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (UNEP) ২০২৪ সালের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উঠে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত এ সংখ্যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

লিখিত প্রশ্নে দেশে খাদ্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ ময়লার ঝুড়িতে চলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয় এবং বিভিন্ন খাতে বিতরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হলেও আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য অপচয় ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা মোট খাদ্যশস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন বা শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যশস্যের অপচয় কমেছে বলে সংসদকে জানান তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।

এলিস/নাঈম

দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা অনেকেই যথাযথভাবে উপলব্ধি করেন না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালোবেসে এবং দেশের সম্মান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।’

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব)।

ডিজাবের সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর)।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিজাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মাসুম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা যে ভূমিকা রাখেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি। আমার মনে হয়েছে, আমরা বাংলাদেশিরা তাদের অবদান যথেষ্ট উপলব্ধি করি না। তারা যে অর্জন করে আনেন, তা অর্থের চেয়েও মূল্যবান। তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।’

বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের পরিবারের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের বাবা, স্বামী বা ভাইকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, তারা ফিরে আসবেন কি না, সেটিও অনেক সময় নিশ্চিত নয়। কিন্তু দেশপ্রেম ও বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা এই ত্যাগ স্বীকার করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের স্যালুট জানাই। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের স্যালুট জানাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় বিষয়টি নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে।’

ভবিষ্যতেও শান্তিরক্ষীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের কাছে এলে আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর) বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য কেবল সামরিক দক্ষতার ফল নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পেশাদারত্বের সমন্বিত প্রতিফলন।

বক্তারা আরও বলেন, সিয়েরা লিওনের পুনর্গঠনে বাংলাদেশের অবদান, হাইতিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসলিম নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ অর্জন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিজাব) সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, অনেকের ধারণা রয়েছে, শান্তিরক্ষা মিশনে গেলে সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অর্থের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ সরকার পেয়ে থাকে।

শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালনরত শান্তিরক্ষীরা অনেক সময় নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থেকেও বঞ্চিত হন। দেশে জন্ম নেওয়া সন্তানকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয় না অনেকের। ভিডিও কলে সন্তানকে দেখে তারা নিজেদের সান্ত্বনা দেন। মা-বাবা কিংবা নিকটাত্মীয় মারা গেলেও অনেক সময় দেশে ফিরে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান না শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষীরা প্রতিদিন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে তারা দেশের সম্মান ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধবিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক।

তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক নিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে দেশটি শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টিরও বেশি মিশনে ২ লাখ ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপন করে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

অনুষ্ঠানে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী, ডিজাবের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ও মামুনূর রশীদ, সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্য মাসুদ করিম, ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসসহ একাধিক গবেষক বক্তব্য রাখেন।

তারা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরে ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের নীতি-সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বা ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, দক্ষতা ও মানবিক উদ্যোগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশি শহিদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় শান্তিরক্ষীদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া সেমিনারে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেকশনের প্রেস স্পেশালিস্ট মাহাদি আল হাসনাতসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমগীর হোসেন/অমিয়/

হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: সংগৃহীত

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ১৮৫ জন শিশুর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ২ জন, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬২৮ জনের।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯৩ জন। 

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ১০৪ জনে। আর নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭৭৯ জন।

সালমান/

পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

সীমান্তে পুশইন বন্ধে সরকার ভারতকে এখন পর্যন্ত ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আশা করে পুশইন বন্ধে দিল্লি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। পুশইন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।’ 

তিনি বলেন, ‘অবৈধ নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ে আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। পুশইন মেনে নেওয়া হবে না।’ 

সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশটির অনেক নাগরিককে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে এ দেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। দেশের কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও তাদের সহযোগিতা করছেন।

সালমান/