ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে কর্মী ফুটবল যখন ক্যারিয়ার ও স্বপ্ন পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজার নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে খেলাঘর আসর বরিশাল জেলা সম্মেলন তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ তিস্তা রক্ষায় পরিকল্পিত ড্রেজিং, নির্মিত হবে টেকসই বাঁধ: পানিসম্পদমন্ত্রী পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয়

বিপন্ন নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা: গতি পাচ্ছে থমকে থাকা সমীক্ষা

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
বিপন্ন নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা: গতি পাচ্ছে থমকে থাকা সমীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় রক্ত দেওয়া দেশের মাটিতেই ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা চর্চা। সরকার স্বীকৃত ৫০ নৃগোষ্ঠীর ৪১ ভাষার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভাষার নেই লিখিত রূপ। আর নৃভাষা-বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা শেষ হওয়ার এক দশক পরও তার অধিকাংশ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নথিবদ্ধকরণের ধীরগতি ও নতুন প্রজন্মের আঞ্চলিক ভাষামুখী প্রবণতায় বহু ভাষা এখন নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে। কথ্যভিত্তিক ভাষাগুলো প্রজন্মান্তরে টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছে। সরকার ২০১০ সালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নৃভাষা-বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা হাতে নেয় এবং ২০১৪ সালে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। পরিকল্পনা ছিল ১০ খণ্ড বাংলা ও ১০ খণ্ড ইংরেজি প্রতিবেদন প্রকাশের। কিন্তু ২০১৮ সালে মাত্র একটি খণ্ড প্রকাশের পর সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী (ভাষা, গবেষণা ও পরিকল্পনা) খবরের কাগজকে জানান, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই থমকে থাকা কাজগুলো এগিয়ে নিতে বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন তারা। সেই প্রস্তাবনা কিছুদিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে সেই প্রস্তাবনা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলে এই অর্থ বছরেই নৃতাত্ত্বিক ভাষা সমীক্ষার কাজ পুনরায় শুরু করবে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। 

নূরে আলম সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা করছি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি ভাষা নিয়ে নতুন সমীক্ষার কাজ শুরু করব। পাশাপাশি যে কাজগুলো অনেক দিন ধরে থমকে আছে সেগুলো শেষ করা হবে।’ ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিধিনিষেধের’ কারণে সমীক্ষার সব তথ্য এই প্রতিবেদককে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। পরে বলেন, এ বছর দেশের বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি মাতৃভাষা নিয়ে কীভাবে সমীক্ষার কাজ শুরু করা যায় এই পরিকল্পনা করবেন তারা। 

ভাষা সমীক্ষায় দক্ষ জনবল ও ধাপভিত্তিক পরিকল্পনার তাগিদ
নৃতাত্ত্বিক ভাষা সমীক্ষা দলের প্রধান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার। মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভাষা সমীক্ষা প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে হলে আগে অসমাপ্ত কাজগুলোর প্রকাশ, দক্ষ গবেষক তৈরি এবং ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন এই ভাষাবিজ্ঞানী। 
অধ্যাপক সিকদারের ভাষ্য, নতুন করে সমীক্ষা শুরুর আগে পুরোনো কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের সফট কপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত নেই বলে জানানো হয়েছে, যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, রেংমিটচা, সৌরাসহ বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করতে হলে হুট করে প্রকল্পের ঘোষণা না দিয়ে আগে গবেষক তৈরি করতে হবে।

সৌরভ শিকদারের ভাষ্যে, ‘শুধু অর্থ বরাদ্দ দিয়ে মাঠে নামলেই হবে না। ফিল্ডে নামার আগে গবেষকদের ট্রেনিং দিতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে, তারপর কাজ শুরু করতে হবে। কারণ দেশে ভাষাবিজ্ঞানে দক্ষ জনবল খুবই সীমিত।’

অধ্যাপক সিকদার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় বই তৈরি হলেও অনেক জায়গায় শিক্ষক না থাকায় সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগনীতিতে ভাষাভিত্তিক অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেক পরিবার এখনো মনে করে মাতৃভাষায় পড়লে চাকরির সুযোগ কমে যায়। এই ধারণা ভাঙতে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। অধ্যাপক সিকদার বলেন, ‘কমিউনিটিকে বোঝাতে হবে যে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের শেখার ভিত্তি শক্ত করে।’

নৃতাত্ত্বিক ভাষা সমীক্ষায় জাতীয়, কারিগরি ও বাস্তবায়ন–এমন একাধিক কমিটি ছিল। এগুলোর কার্যক্রম সক্রিয় করা, বহুভাষিক শিক্ষা সেল চালু রাখা এবং প্রতিবছর নতুন ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিলে পাঁচ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি সম্ভব।

পাহাড়ি জনপদে আগ্রহ, তবে আর্থিক সংকট প্রকট
পাহাড়ি জনপদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক স্তরে পাঠ নিতে আগ্রহী বলে জানান ম্রো ভাষার লেখক-গবেষক ইয়াং ঙান ম্রো। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে নৃগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে পারছি না। শিশুরা নতুন পাঠ্যপুস্তক না পেয়ে খুবই বিরক্ত। আর একই ধরনের বইও তারা পড়তে চাইছে না। তারা চায় নতুন কিছু থাকুক তাদের পাঠ্যপুস্তকে। পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে অর্থের ওপর। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর কতটা করতে পারি?’

পাহাড়ি জনপদে শুধু রেংমিটচা না; খুমি, খিয়াংসহ নানা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। ইয়াং ঙান ম্রো বলেন, ‘পাহাড়ের দুর্গম জনপদে কিছু জনগোষ্ঠী আছে যাদের সংখ্যা হয়তো হাজার দেড়েক হবে। অথচ তাদের মাতৃভাষা ঠিকঠাক বলতে পারা লোকের সংখ্যা ৬-৭ জনের বেশি না।’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট চা-বাগানের সৌরা জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন এক দল তরুণ। তাদের একজন সৌরভ প্রসাদ সোম জানান, এই জনগোষ্ঠীর মানুষ এমনিতেই লাজুক প্রকৃতির। সৌরা বস্তিতে পরিবারের সংখ্যা ১০। অথচ এখন মাত্র একজন মানুষ এই ভাষাটা সঠিকভাবে বলতে পারেন। তাদের বর্ণমালায় কিছু লিখতে পারেন। তিনি চলে গেলে সৌরা ভাষাটাই শ্রীমঙ্গল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তিস্তা রক্ষায় পরিকল্পিত ড্রেজিং, নির্মিত হবে টেকসই বাঁধ: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
তিস্তা রক্ষায় পরিকল্পিত ড্রেজিং, নির্মিত হবে টেকসই বাঁধ: পানিসম্পদমন্ত্রী
তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: খবরের কাগজ

তিস্তা নদীর ভাঙন ও বন্যা কবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে। আমরা যদি পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তবে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশা'আল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হবো। সেই কাজটুকু করার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বিশেষজ্ঞ দলসহ এখানে একত্রিত হয়েছি বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, "উজানে গজলডোবায় যেভাবে পানির স্রোত আসছে—তারা তো তাদের গেটগুলো ওপেন করে দিয়েছে। এই খাড়া স্রোতের কারণে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং নদী ভাঙন বিশাল আকার ধারণ করেছে। পানি এত ওভারফ্লো হচ্ছে যে, এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।" এই তিস্তা পাড়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে বলে তিনি জানান।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "তিস্তাপাড়ের সকল দিক বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতিব প্রয়োজন। এটি শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আজ আমরা টেকনিক্যাল টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা শুধু আপনাদের (লালমনিরহাট-রংপুর) দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখনই এই কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব—হয়তো ৬-৭ বছর সময় লাগবে—কিন্তু এর যে বেনিফিট আসবে তা এ অঞ্চলের মানুষ পাবে। এতে সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে। উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলার যে দুঃখ, তা একদিন আনন্দে পরিণত হবে এবং কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।"

কাজের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ এবং এর পেছনে অনেক বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে। কুয়েটে সেমিনার শেষ করে 'পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প'-এর মতো এই বৃহৎ তিস্তা প্রকল্পটিকেও অনুমোদনের জন্য একনেকে তোলা হবে।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। এছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৭৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৬ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ১৫৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এসএন/

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নগর ও পৌর এলাকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন একটি উচ্চ জলাধার নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলকে যেভাবে উন্নত ও আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করেছি। আমি নিজে কোনো অন্যায় করব না এবং কোনো অন্যায়কেও প্রশ্রয় দেব না।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌরসভার আওতাধীন আশেকপুর বাইপাস এলাকায় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুইটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার এবং দুইটি ৬৮০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হয়।

এ প্রকল্পে পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজের মোট কার্যাদেশ মূল্য ১৯ কোটি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং উচ্চ জলাধার নির্মাণ কাজের মোট কার্যাদেশ মূল্য ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ৩১১ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর পৌরসভার ৪, ৫, ৬, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৯টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং পৌরবাসী নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমীনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জুয়েল/আমান

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহুদিনের। উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এই সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বকে ছাড়িয়ে বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে সেই কৌশলগত সহযোগিতা নতুন মাত্রায় নেওয়া হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এখন চীনের কাছে শুধু অনুদান বা প্রকল্প সহযোগিতা নেওয়ার সম্পর্কে থাকতে চাইছে না। এই সম্পর্কের ব্যাপ্তি এখন আরও গভীরে নিতে চায়। নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ঢাকা-বেইজিং। বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতার অধিকাংশই চীনের। নতুন করে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন তৈরিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে কৌশলগত সহযোগিতার ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে সম্মত দুই দেশ। এই সফরে উভয় দেশের মধ্যে এক ডজন সমঝোতা স্মারক সই করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি খাত, গণমাধ্যম ও শিক্ষাক্ষেত্রে এসব সমঝোতা স্মারক সই হবে। 

এ বিষয়ে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ খবরের কাগজকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে এবং অনেকগুলো সমঝোতা চুক্তিও হবে। কিন্তু কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও চুক্তির কারণে তা অন্য কোনো দেশের জন্য যেন দুশ্চিন্তার কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, প্রতিবেশী ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এসব সফরের দিকটি পর্যবেক্ষণে রাখে। ফলে এসব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক যাতে বজায় থাকে, সেদিকটি লক্ষ রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক বাংলাদেশের থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা যেন কারও জন্য উসকানিমূলক না হয়। কেননা এসব দেশের নিজেদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে থাকে। যেমন, চীন ও ভারতের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধ থাকলেও আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে। কাজেই এই তিন পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই লক্ষ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে তড়িঘড়ি করে প্রথম সফর মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করা হচ্ছে, তা আবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার খাতিরে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র কোন দেশকে কখন অগ্রাধিকার দেবে, সেটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেই মনে করেন কেউ কেউ।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অনেক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সহায়তা রয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের ইতিহাসে সড়ক, সেতু, রেল, বিদ্যুৎ, বন্দর এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর অনেক প্রকল্পে চীনের অবদান রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে নদীর নাব্যসংকট, ভাঙন, পানির স্বল্পতা এবং সেচ সমস্যা রয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা এবং সেচ অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে। যদিও এই প্রকল্পটি এককভাবে চীনকে দেওয়ায় ভারতের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সরকার কীভাবে সমন্বয় করবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। 

তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট উৎপাদন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো আগামী দিনের অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ যদি এসব খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আকৃষ্ট করতে পারে, তাহলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের একটি।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। অন্যদিকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
 
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রত্যাবর্তনকারী ৬০ হাজার ৫৮৮ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৫৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্তরা/