ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর আটকা পড়ল কারওয়ান বাজার সিগন্যালে

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২১ পিএম
আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর আটকা পড়ল কারওয়ান বাজার সিগন্যালে
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর ট্র্যাফিক সিগন্যালে আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহিদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানীর সামরিক বাহিনী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনে গিয়েছিলেন তিনি। 

রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর কারওয়ান বাজার এলে সিগন্যালে আটকে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়া হলে চলতে শুরু তার গাড়িবহর।

এমন দৃশ্য অবশ্য নতুন নয়। তার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরকেও যানজটে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এমনকি তার সঙ্গে অনেককে ছবিও তুলতে দেখা যায়।

রিফাত/

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এ দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়।

তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রাতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এ সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহিদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ।

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং তাদের নিজভূমি মায়ানমারে প্রত্যাবাসন অনেকাংশেই মায়ানমার সরকারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে দেশটি এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মায়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে বিশেষ স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যা ১০৫টি দেশের সমর্থন পেয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মাধ্যমে ৬৯৭ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন উন্নত দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়টিতে।

এলিস/এসএন

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু
ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে/ খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদীরদি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের পরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১২০ জন নারীর হাতে তুলে দেয়া হয় ফ্যামিলি কার্ড। এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে শুরু হল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেলার অন্য সব উপজেলার ইউনিয়নে দেয়া হবে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হেলিন জেরিন খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এসএম রকিবুল হাসানসহ আরও অনেকেই।

এন কে/আমান

হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: খবরের কাগজ

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০৭৭ টি শিশু।

বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগ আক্রান্ত হয়েছে ১১১টি শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৩৪ জন। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৩ হাজার ২৭৭ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৫৬৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আমান/ 

১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

আজকে আমাদের সরকার চা বাগানের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে। আজ আমরা হয়ত সবাইকে কার্ড দিতে পারিনি, কিন্তু আগামী একবছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জন্য আজ অনেক আনন্দের দিন। আজ থেকে কয়েকমাস আগে আমি যখন নির্বাচনি প্রচারণায় সিলেটে আসি, তখন হবিগঞ্জে আমি বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় তাহলে আমরা চা শ্রমিক মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আজ আমাদের সরকার চা বাগানের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে। আজ আমরা সবাইকে হয়ত কার্ড দিতে পারিনি কিন্তু আগামী একবছরের মধ্যে সব চা শ্রমিককে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব।

বাংলাদেশে মোট চার কোটির মতো পরিবার রয়েছে, পর্যায়ক্রমে আমরা সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। আজকে আমরা শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, পাশাপাশি নারী চা শ্রমিকদের কাছে ঘর নির্মাণের জন্য ৫০ জনকে দুই লাখ টাকা করে দিয়েছি। এর বাইরেও চা শ্রমিকদের সন্তানরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য তাদের প্রায় ১৫০ চা শ্রমিক সন্তানদেরকে বিশেষ স্কলারশিপ দিয়েছি। আজ আমরা প্রতিবন্ধীদেরও আর্থিক সহায়তা দিয়েছি।

আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেব, এর জন্য আমরা বাজেটে বিশেষ বরাদ্দও রেখেছি।

এ ছাড়া ধর্মীয় গুরুরা মানবেতর জীবনযাপন করেন, আমরা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ধর্মীয় গুরুদের আমরা সম্মানিত ব্যবস্থা করবো। আমরা আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিও ধীরে ধীরে পূরণ করছি। আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, মানুষকে সহযোগিতা করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে পত্রিকাগুলো দেখেন। আমরা দেখছি, আমরা যে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে সব কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ালেখা ও খেলাধুলার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছি। সারাদেশের কোটি কোটি মানুষ যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পেতে পারে সেজন্য আমরা প্রতি উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১ বছরের মধ্যে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করেছি, যাতে উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন। কিন্তু বাজেটের পরে নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, যেই আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, অনেকে বলেছে এই বাজেট তারা মানে না। যেই বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে, যেই বাজেটে জনগণের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধার অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, কৃষক ভাইদের জন্য বরাদ্দ রেখেছি, আমাদের সন্তানরা যাতে ভালোভাবে লেখাপড়া শিখতে পারে তার সর্বোচ্চ বাজেট রেখেছি, সেই বাজেটকে তারা বলে গণবিরোধী বাজেট।

এই দেশের যারা শিল্পোদ্যোক্তা আছে, যারা মিল ফ্যাক্টরি তৈরি করতে পারে, যার ফলে আমার দেশের বেকার যুবকদের যাতে কর্মসংস্থান হয় সেজন্য আমরা এই দেশে যেসব দ্রব্য তৈরি হয় সেই একই দ্রব্য যদি কেউ বিদেশ থেকে আমদানি করে তার উপরে আমরা শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছি। যাতে করে বাংলাদেশের মিল কারখানাগুলো রক্ষা পায়। দেশের মিল কলকারখানাগুলো যদি চলে তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে চাকরি করতে পারবে। সেইজন্যেই আমরা দেশের মিল কলকারখানাকে বাজেটে সুরক্ষা দিয়েছি। আমরা সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনির ওপর আরোপিত পূর্বের সব শুল্ক উঠিয়ে দিয়েছি যাতে করে জিনিসের দাম না বাড়ে। জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে দিয়েছি। যেই বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়, সেই বাজেটকে একটি দল বলে গণবিরোধী বাজেট।

এখন জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরে হোক কিংবা বাইরেই হোক, তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে কারণ এসব লোকেরা, এসব দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারবো না। এ দলগুলো যদি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে তাহলে আমরা জনগণকে দেওয়া সুবিধাগুলো জারি রাখতে পারবো না। যারা এসব কাজে বাধা দেবে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে এবং মৌলভীবাজারে যত বড় বড় স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট হয়েছে সবই বিএনপির নেতা মরহুম সাইফুর রহমানের সময়েই হয়েছিল। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করেছিল আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি, দেশ স্বাধীনের সময়, দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়্‌যন্ত্রকারীরা একসঙ্গে ছিল। মুখে মুখে বলতো আমরা একসঙ্গে নাই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা একসঙ্গে কাজ করেছে এবং সবসময় বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যে বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি সেইজন্য বিএনপি সবসময় বলে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময় যখন দেশে জনগণ গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য ফুঁসে ওঠে, তখন আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি বিভিন্ন জনকে বিদেশে চলে যেতে। খালেদা জিয়া আপনাদেরকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক, তাই আমাদের সবার প্রথম ও শেষ ঠিকানা হচ্ছে বাংলাদেশ। আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন টিপে ফ্যামিলি কার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীগন নগদ অর্থ সহায়তা উদ্বোধন করেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, হায়াতুন বিবি, জখাতুন বিবি, সুলতানা আক্তার, রাশেদা বেগম, অনিতা রানী দাশ, সবিতা চন্দ, শিউলি দাশ, বাসনা দাশ চৌধুরী, ওয়াজেদা বেগম, আয়মনা বিবির হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দুরারোগ্যব্যাধীতে আক্রান্ত সুধাংশু সূত্রধর, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ও কান্তা সবরের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
এ ছাড়াও তিনি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষার্থী রাখী সিনহা, প্রভা দেববর্মা ও নিপামনি দেবীকে শিক্ষা সহসহায়তার অনুদানের চেক তুলে দেন।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অর্চনা মুন্ডা, ললিতা গঞ্জু, কাজলী গঞ্জুকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। 

তিনি চা শ্রমিকদের টেকসই আবাসন সহায়তার জন্য ভগবতী ভর, কীর্তিমান শীল ও হালিমা বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ ছাড়া দুঃস্থ অসহায় প্রতিবন্ধীদের বিশেষ অনুদান বাবদ কেশব আচার্য ও সিজিয়া খাতুনের কাছে চেক তুলে দেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২৭৫ জনকে সহায়তা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুভ/নাঈম