বাংলাদেশ ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে অসংক্রামক রোগ যেমন-ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা এবং ক্যানসারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর প্রধান কারণ জীবন যাত্রা এবং সামগ্রিক পরিবেশের মতো পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকিসমূহ, যা চাইলেই পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে, এটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের জন্য নিরাপদ স্থান, সামাজিক অবস্থা এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় বক্তিগণও স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আচরণ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সমস্যাগুলো সমাধানে অংশগ্রহণমূলক কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
শহর এলাকায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর হেল্থ রিসার্চ এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন পরিচালিত পিকান প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন এবং মত বিনিময় কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বক্তারা এসব কথা বলেন।
রবিবার (১৪ জুন) ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। তিনি শহর এলাকায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাটার পরিবেশ এবং মহিলাদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং লন্ডনের ইনষ্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ ও সেন্টার ফর নন কমিউনিকেবল ডিজিসের পরিচালক প্রফেসর ড. এডওয়ার্ড ফট্রেল।
তিনি বলেন, ফরিদপুর শহরে ফাষ্ট ফুডের দোকান বেড়ে গেছে যার প্রভাব শিশুসহ সব বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
এ সময় প্রাথমিক জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর সরকার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং সহ গবেষক ড. জোয়ানা মরিসন।
কর্মশালার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাডাস-সেন্টার ফর হেল্থ রিসার্চ এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশনের পরিচালক ড. আব্দুল কুদ্দছ । এ সময় শহর এলাকায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার পরও কেমন করে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা যায় তার একটি টেকসই পদ্ধতি কি হওয়া উচিৎ তা নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, শহর এলাকায় ১৮ বছর বা তার বেশী বয়সীদের প্রাপ্ত ফলাফল নিম্নরুপ-
ডায়াবেটিসের হার: পুরুষ: ১৭.২ শতাংশ, মহিলা: ১৭.৯ শতাংশ, গড় হার: ১৭.৬ শতাংশ।
উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশান: পুরুষ: ১৬.৪ শতাংশ, মহিলা: ২৮.১ শতাংশ এবং গড় হার: ২৭.৪ শতাংশ,
স্বাস্থ্য সম্মত নয় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের হার: পুরুষ: ৭৫ শতাংশ, মহিলা: ৫৩ শতাংশ ,
অন্যান্য মিষ্টিজাত পেকেট খাবার গ্রহণের হার: পুরুষ: ৬৭ শতাংশ, মহিলা: ৫২ শতাংশ,
লবণ এবং তেলে ভাজাপুরা জাতিয় খাবার গ্রহণের হার: পুরুষ: ৪৬ শতাংশ, মহিলা: ৩৪ শতাংশ,
স্থুলতা বা অতিরিক্ত ওজনের হার: পুরুষ: ৩৮ শতাংশ, মহিলা: ৫৮.৬ শতাংশ গড়: ৪৮.৩ শতাংশ,
ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী : পুরুষ: ২৩.৬ শতাংশ, মহিলা: ১৪.৫ শতাংশ গড়: ১৯ শতাংশ।
অন্তরা/