ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন। ফলে রাজধানীর রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। ফিরতি যাত্রায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের কবলে পড়তে হয়েছে বলে জানান রাজধানীতে ফেরা বাস যাত্রীরা। এ ছাড়া বাসে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন কেউ কেউ। তবে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই রাজধানীতে ফিরেছেন বলে জানান ট্রেনে আসা যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও টেকনিক্যাল এলাকায় দূরপাল্লার পরিবহনের ভিড় দেখা গেছে। গাবতলীর বিপরীত পাশে একের পর এক বিভিন্ন রুটের বাস এসে দাঁড়াচ্ছে। কিছু বাস আবার নির্ধারিত টার্মিনালে না ঢুকে টেকনিক্যাল পয়েন্টে যাত্রী নামাচ্ছে। বাস থেকে নেমেই যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরবাইকের খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এতে এলাকায় যানবাহনের জটলাও তৈরি হয়েছে।
গাবতলীর টেকনিক্যাল মোড়ে বাস যাত্রীদের চোখে-মুখে তীব্র ক্লান্তির ছাপা দেখা যায়। রাজশাহী থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুস সবুর খবরের কাগজকে জানান, গতকাল সকাল ৯টায় রাজশাহী থেকে তাদের বাস ছাড়ে। তবে তিনি ঢাকার গাবতলী টেকনিক্যাল মোড়ে এসে পৌঁছান সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে তাদের তীব্র যানজটে পড়তে হয়। তাই ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টার পথ পেরুতে সোয়া ৯ ঘণ্টা লেগে গেছে।
কথা হয় গাইবান্ধা থেকে আসা আতিয়া সুলতানা নামে এক নারী সঙ্গে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় তাদের বাস গাইবান্ধা থেকে ছাড়ে। তবে বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে তাদের বাস শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকায় পৌঁছে।
ফরিদপুরের মধুখালী থেকে আসা সিরাজুল মমিন শামীম বলেন, ‘সরাসরি বাস না পেয়ে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় আসতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মার এপারে এসে গাড়িতে উঠতে বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে। ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা নিয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রান্ত রায় বলেন, ‘পথে যানজটের কারণে ভোগান্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাওয়ার সময় স্লিপার বাসে ভাড়া ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা, আজ একই রুটে ২ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর যেতে সিএনজি ভাড়া ৪০০ টাকা চাচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মতিনও অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাস ভাড়া ১৫০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
এদিকে গতকাল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো যাত্রীবোঝাই হয়ে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাচ্ছে। কারও হাতে লাগেজ, কারও সঙ্গে পরিবার–সব মিলিয়ে স্টেশনজুড়ে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
এ সময় রায়হান মাহমুদ নামে এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন বাড়ি গিয়েছিলাম। আজ ছুটি শেষ, কাল থেকে অফিস শুরু, তাই চলে এলাম।’
বেসরকারি চাকরিজীবী আতিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদে অফিসে ডিউটি থাকায় আমি পরে ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ হওয়ায় আজ ফিরলাম। ফিরতি পথে তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি।’
পরিবারসহ ঢাকায় ফেরা খলিলুর রহমান বলেন, ‘শেষ সময়ে ভিড় বাড়ে। তাই আগে চলে এলাম। টিকিট অনলাইনে কাটা ছিল, কোনো সমস্যা হয়নি।’
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে রাজধানীমুখী সড়ক, রেল ও টার্মিনালগুলোতে এমন ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।