ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মানেনি, অভিযোগ আরাঘচির নেতানিয়াহুর ছেলে বদলে ফেললেন নিজের নাম টানা বর্ষণে আগামীকালও বন্ধ থাকবে চবির সব পরীক্ষা বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা ৬ রেকর্ডে শুরু জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার আনোয়ারায় বন্যাদুর্গতদের পাশে জেলা ছাত্রদল ১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ এক মায়ের বেঁচে থাকার যুদ্ধ পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনা ও নৌবাহিনী সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫ প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কতদিন টানা বৃষ্টি থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস নবীনদের স্বপ্নযাত্রায় অনুষ্ঠিত হলো এডাস্টের বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার ট্যাক্স ফাইল প্রস্তুতে সতর্ক হোন শিখা অনির্বাণ চালুর উদ্যোগ নিন বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৪ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অগণতান্ত্রিক শাসনে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে : পরীমনি মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’ আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী, নিরপরাধকে হয়রানি না করার নির্দেশ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

১৩ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
১৩ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে ১৩ দিন বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে আজ। রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।

গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য সরকারি ছুটির কারণে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার পর মূলতবি করা হয়েছিল।

রবিবারের সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, অধ্যাদেশ সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।

সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন।

এসজি/

বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
রাঙামাটিতে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ছবি: খবরের কাগজ

বন্যা ও পাহাড়ধসের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি। তিনি বলেন, মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাঙামাটা শহরের লোকনাথ মন্দিরে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় খোলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বন্যা ও পাহাড়ধসে পারমানেন্টলি কিছু করতে পারবো না। কারণ পাহাড় তো ধসে যখন- আমরা মানুষরা একটা আকাম করি, গাছ কেটে ফেলি, নিচ থেকে মাটি সরায়ে ফেলি; তখন পাহাড় ধসে। পাহাড় তো এতো হাজার হাজার বছর ধসে নাই। তো এখন ধসে কেন। এখন প্রকৃতির ওপর মানুষ হাত দিয়ে প্রকৃতি নষ্ট করেছে। তারপরও এগুলো একটা বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। অবশ্যই এটা আমরা দেখবো। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এটা দেখতে হলে-আগে হুট করে ওখানে কয়েকটা বাঁশ গেড়ে দিতাম, সেটা করলে হবে না। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথোরিটি চিন্তা করে ডিজাইন করে করুক, আস্ত আস্তে আমরা এগুলো আগাই। সেই সঙ্গে আমাদের জনগণকে সচেতন হতে হবে আমরা যেন পরিবেশ নষ্ট না করি। পরিবেশ নষ্ট না হলে কোন কিছুই হবে না।

এসময় প্রতিমন্ত্রী পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের অন্যত্র পুনর্বাসনের বিষয়ে বলেন- 'ওইটাও আমরা চিন্তা করছি। আমাদের মিনিস্ট্রির অনেক জায়গা আছে। আমরা লাগলে ওখানে তাদের নিয়ে যাব। একটু সময় দিতে হবে। আগে দুর্যোগটা শেষ করে নেই'।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ, তাদের খাবার দাবার যতদিন লাগে দেবো। তিনমাস হলে তিনমাস। তাদেরকে পুনর্বাসন করার জন্য আমরা চেষ্টা করবো-গরু ছাগল দিতে হলে দেবো। ঘরবাড়ি বানানোর জন্য টিন দেবো।কিন্তু টিনগুলো আমাদের হাতে নাই। নতুন অর্থ বছরে আমরা দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো। আমাদের পুরো সরকার এ ব্যাপারে পজিটিভ। কাজেই এটা হবেই'।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা
ছবি: খবরের কাগজ

সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান- এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতি নিজে এবং তাঁর টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।

সরকারের এই মুখপাত্র জানান, ‘গতকালই (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকালও (রোববার) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। উদ্ধার তৎপরতায় ইউএনও, ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পুরো দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।’

আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অবিরত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, ‘উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপের দংশন মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও ওষুধসহ মেডিকেল টিম মোবিলাইজ করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পরপরই রাস্তা ও রেলপথ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালী, কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা ১ হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মূলত রেসকিউ (উদ্ধার), রিলিফ (ত্রাণ) এবং রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) এই তিনটি ফেজ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। দুর্যোগের এই সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেছেন, ‘জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গভীর মমত্ববোধ নিয়ে সরকার মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুতই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদত হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের পাশে বিজিবি ১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ
বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের পাশে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১১ জুলাই) বন্যা ও পাহাড় ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১২২টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার এবং ৮০টি  পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিজিবির দায়িত্বশীলরা। 

বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার আলীকদম ব্যাটালিয়নের (৫৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদীর নেতৃত্বে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা এবং বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া অন্তত ৭৫ থেকে ৮০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রেয়াম্বু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৬টি পরিবার, নজির মেম্বারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭টি পরিবার এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেওয়া ২২টি পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির সহায়তা। ছবি: সংগৃহীত

ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি আলীকদম ব্যাটালিয়ন বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দী মানুষের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি সদর দপ্তর।

অন্যদিকে বিজিবি বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিলের সেক্টর দপ্তরের সদস্যরা বান্দরবান জেলা সদরের পার্শ্ববর্তী ক্রাইক্ষ্যংপাড়া এলাকার বন্যাদুর্গত ১২২টি পরিবারকে নিরাপদে উদ্ধার করে শহীদ মোশাররফ বিজিবি স্কুল এবং ক্রাইক্ষংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

আলমগীর হোসেন/এসএন

পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিউনিন রশীদ রাজশাহীর ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ি ও মন্দির কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ বানেশ্বর আমবাজারও ঘুরে দেখেন। সেখানে বিভিন্ন জাতের আম দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রতিনিধি দলের জন্য প্রায় ১৯৫ কেজি আম কেনেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাষ্ট্রদূত শিউনিন রশীদ সফরসঙ্গীদের নিয়ে দূতাবাসের গাড়িযোগে পুঠিয়া রাজবাড়ি চত্বরে পৌঁছান। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান এবং রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। পরে প্রতিনিধি দলটি পুঠিয়া রাজবাড়ি, গোবিন্দ মন্দির, আহ্নিক মন্দির ও বড় শিব মন্দির ঘুরে দেখেন। সফরকালে তারা প্রতিটি স্থাপনার ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজবাড়ি ও মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থান করে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আমবাজারে বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীরা।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে বানেশ্বরের 'বাণী ফল ভান্ডার' থেকে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের মোট প্রায় ১৯৫ কেজি আম কেনেন তারা। বিদেশি কূটনীতিকদের এই আগ্রহে খুশি হন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, এ ধরনের সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করে তুলবে।

রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন তার আত্মীয়া সারাহ মাউরুফ আমির, দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব সায়া মোহামেদ ও মাইশান আহমেদ, পরিবারের সদস্য নাজরা মারিয়াম, মোহামেদ হুসাম ও মুসলিমা আমিনাথ। এছাড়া রাষ্ট্রদূতের সন্তান মোহামেদ লুথ নিশাম এবং দ্বিতীয় সচিব সায়া মোহামেদের সন্তান মোহামেদ ইভানও সফরে অংশ নেন। 

এনায়েত করিম/এসএন

পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনা ও নৌবাহিনী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনা ও নৌবাহিনী
পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত।

বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত বা দুর্গম অঞ্চলে তারা সরাসরি মাঠে নেমে অসহায় মানুষদের নানাভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতি বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে জলাবদ্ধতা ও বন্যায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দি বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনা ও নৌবাহিনী। 

শনিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার বিজয় নগর, আকমল আলী রোড, নিউ মুরিং মাদরাসা, নারিকেল তলা ও নেভি হাসপাতাল গেইট এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নৌবাহিনী দল। এ সময় নৌবাহিনীর সদস্যরা পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে ২ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার পৌঁছে দেন। মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এই চারটি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি মোতায়েন করা হয়েছে। 

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দুর্গত পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের পাশে নৌবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

এ ছাড়া ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই উপজেলাগুলোতে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় ৩টি ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

আলমগীর হোসেন/নাঈম