তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীতে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান তামাকজাত পণ্যকে (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট) সংজ্ঞার বাইরে রাখা এবং নিষিদ্ধের বিধান বাতিলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। তারা বলছে, এই আইনি শূন্যতার ফলে শিশুদের জন্য নতুন এসব নেশাদ্রব্য ‘প্রাণঘাতী হুমকি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা), বিটিসিএ, বিএনটিটিপি, পিএইচএল, তাবিনাজ ও সিএসডি যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সিএসডির আহ্বায়ক একেএম মাকসুদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গবেষক ফারহানা জামান লিজা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিল পাসের সময় ধারা ২(গ) থেকে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের সংজ্ঞা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং পণ্যগুলো নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত বিধানও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘এর ফলে নতুন এসব নেশাদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কার্যত কোনো আইন রইল না। বিক্রেতারা এখন যেকোনো বয়সের শিশুদের কাছে নির্বিঘ্নে এসব বিক্রি করতে পারবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকোটিন আসক্তির পথ সুগম করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ আলোচকরা দাবি করেন, তামাক কোম্পানিগুলো দেশের অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এই বিধান বাতিল করিয়েছে। অথচ আমদানি আদেশের আওতায় ই-সিগারেট বর্তমানেও নিষিদ্ধ এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষণা সেলের (টিসিআরসি) তথ্য তুলে ধরে বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশে ই-সিগারেটের দোকানগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক গড়ে তোলা হয়েছে। তরুণদের আকৃষ্ট করতে কোম্পানিগুলো অবৈধভাবে বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল টোব্যাকো এপিডেমিক-২০২১’ রিপোর্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানানো হয়, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম মোটেও নিরাপদ নয়। এই ঝুঁকির কারণে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশে এটি ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনের এই ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো-
১. ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করতে অবিলম্বে পৃথক আইন প্রণয়ন করা।
২. আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তামাক কোম্পানির অনুমোদন না দেওয়া।
৩. ই-সিগারেট আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইকবাল মাসুদ (বিটিসিএ), তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক মো. বজলুর রহমান, শিশু বিশেষজ্ঞ শাহ ইসরাত আজমেরী, শাগুফতা সুলতানা, সীমা দাস সীমু এবং অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা কুমকুম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ সামিউল হাসান সজীব।
জয়ন্ত/এসজি/