ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে:  প্রধানমন্ত্রী
ঢাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের; দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া ওই মতবিনিময়ে আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বড় প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।’

গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি, জার্মানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্কুল পর্যায় থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার, ভাষাভিত্তিক বিষয়সমূহে সরকারি চাকরিতে কোড অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন বিভাগ চালুর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তাদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ আগমন ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে হিজবুল বাহার কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের চিন্তা, পরামর্শ ও মেধাকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আশা করি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন, আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আলম-সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা। 

এর আগে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এদিকে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে টেকসই উৎকর্ষতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে কাক্সিক্ষত অবস্থানে পৌঁছাতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু প্রথাগত শিক্ষায় নয়, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনসহ জাতীয় অধ্যাপক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও উন্নয়ন সহযোগীরা। 

বিকালে কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এসময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

৪ দিনের চীন সফরে তারেক রহমান দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন তিনি চীন সফর করবেন।

এ ছাড়া ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে এক সমঝোতা চুক্তি, ২টি এক্সচেঞ্জ অব নোটসহ জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আলোচনা হবে। মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মূলত শুভেচ্ছা সফরে যাচ্ছেন।

রবিউল/নাঈম/

এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’
ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটরে এআই ট্রাফিক ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এটিকে কারিগরি ত্রুটি বলে জানানো হলেও ডিএমপির এক কর্মকর্তা একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, ইঁদুরে তার কাটায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বলছে, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সব এআই ক্যামেরা বর্তমানে সচল রয়েছে এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, কারওয়ান বাজারের পর বাংলামোটরের এআই ক্যামেরাও বন্ধ করা হয়েছে। এতে অনেকে মনে করছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পয়েন্টে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।

ডিএমপির আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম বিশ্লেষক শারমিন আফরোজ ওই টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় এআই ক্যামেরা ব্যবস্থার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে, এটি কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম স্থগিতের কারণে নয়। মূলত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো-সংক্রান্ত কিছু কারিগরি কাজ চলাকালে ক্যামেরা সংযোগের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। মেরামত ও কারিগরি ত্রুটি দূর করার পর ক্যামেরাগুলো আবারও সচল করা হয়েছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার এলাকায় তিনটি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং আরও একটি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান।

তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে রাজধানীতে ১১০টি এআই ক্যামেরা সচল রয়েছে। আরও ১০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইদুরে তার কাটায় দুই দিন বন্ধ ছিল ঢাকার দুই সিগন্যালের এআই ক্যামেরা। যদিও পরে সেগুলো মেরামত করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

থিওটোনিয়াস/

রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু
শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫০) মারা গেছেন। 

শুক্রবার (২০ জুন) রাত ১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তার বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায়। তিনি যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। পলাশ এক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

গত শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রামপুরা টিভি সেন্টারের বিপরীত পাশে মক্কি মসজিদ গলির মুখের প্রধান সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন পলাশ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথা থেকে গুলির অংশবিশেষ বের করেন। অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ঢাকা মেডিকেল থেকে গত ১৫ জুন তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

অন্তরা/

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১ হাজার ১০৯ বাংলাদেশি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন মোট ৬১ হাজার ৬৯৭ জন বাংলাদেশি হাজি।

দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৩৭৮ জন।

এদিকে হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৪ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ২০ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৬৩ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ১০ জন হাজি।

হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৫৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৭৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান।

হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্তরা/

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সঠিক সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। প্রায় দশ বছর ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয় এবং রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ দাবি তুলে ধরেন। 

শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখান থেকেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের আহ্বান জানান, যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

নাঈম/