পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলাকে সংযুক্ত করতে লোহালিয়া নদীর বগা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যোগাযোগ দুর্ভোগে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি লেখে বাউফলের দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিরা (৮)। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পটুয়াখালীর বিগা ফেরিঘাট এলাকায় পরিদর্শনে এসেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। এর আগে দুপুর ১টার দিকে তিনি লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু” নামে এ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের প্রথম মাসে নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এ সেতুটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আমি মূলত এখানে এসেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। সেতু চেয়ে ছোট্ট আবিরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি লিখেছে। বিষয়টি তিনি সংবাদ মাধ্যমে দেখে আমাকে জানিয়েছেন। এরপরই আমি এখানে ছুটে এসেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আবিরাকে ধন্যবাদ। আবিরার এই ইনোসেন্ট আপিল, এতটুকু বয়সে সে ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ভাবছে।
সেতু নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'চায়না এরই মধ্যে বিস্তৃত নকশা চূড়ান্তভাবে করে ফেলেছে। আমরাও আমাদের পক্ষ থেকে যে কার্যক্রম করার আছে-ল্যান্ড একোজিশন, প্রাক-প্রস্তুতি, এলাইন আগেই করা আছে এসমস্ত জায়গায় কাজ করে অর্থনীতি বিভাগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। এখন শুধুমাত্র ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (বাস্তবায়ন চুক্তি) করা বাকী। এটাও আশা করি আমরা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে চায়নার সঙ্গে করে ফেলব। এরপরেই চায়না আমাদের ডিজাইনটা পাঠাবে সে ডিজাইনটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্মতি জ্ঞাপন করলে প্রকল্প শুরু হয়ে যাবে। এতে বেশি সময় লাগবে না কারণ, আমাদের ফান্ডিংটা চায়নাই করছে, তারাই আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকছেন। আমরা সুপারভিশন করব। তাই আমরা আশা করছি কোনো ব্যত্যয় না হলেও বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের প্রথম মাসের দিকে সেতুর কাজ শুরু করে দিতে পারব। '
তিনি আরও বলেন, 'মানুষের উন্নয়নে রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথের উন্নয়ন করাই সরকারে লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কাজ করে যাচ্ছে।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ (পটুয়াখালী সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
হাসিবুর রহমান/নাঈম