থানায় স্বাভাবিক ডিউটি করছিলেন রাজধানীর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান (৩২)। গত ২৯ এপ্রিল রাত্রিকালীন দায়িত্ব (নাইট ডিউটি) পালনের কথা বলে থানার ব্যারাক থেকে বেরিয়ে যান। পরে আর কোনো হদিস মিলছিল না। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। পুলিশ বা পরিবারের কেউ তার সন্ধান পাচ্ছিল না।
অতঃপর বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে উদ্ধার হয়েছেন সেই এসআই রাকিবুল হাসান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসআই হাসান বুধবার একরকম গোপনে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আগে থেকেই নিখোঁজের বিষয়ে হাসপাতালে তথ্য থাকায় সেখানে হাসানকে পেয়ে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে কলাবাগান থানা পুলিশ গিয়ে হাসানকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু এই ২০ দিন রাকিবুল হাসান কোথায় ছিলেন? কেনই-বা আত্মগোপনে ছিলেন–সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
রাকিবুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপতা গ্রামের মাইজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি থাকতেন তার কর্মস্থল কলাবাগান থানা পুলিশের জন্য নির্ধারিত ব্যারাকে।
এ প্রসঙ্গে আজ সন্ধ্যায় কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক খবরের কাগজকে বলেন, “এসআই রাকিবুল হাসানকে থানায় নেওয়ার পর আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু তিনি কোনো কথাই বলছেন না। কোথায় ছিলেন, কেন ছিলেন কিছুই জানা যায়নি। স্বাভাবিক সময়েও তিনি কথা কম বলেন। তবে আমরা মনে করছি, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা হয়তো আছে, যা তিনি বলতে পারছেন না। চেহারায় দুর্বলতা-অসুস্থতার ছাপ রয়েছে। এছাড়া ডিএমপিতে নতুন ‘পোস্টিং’ (পদায়ন) হয়েছে তার, ফলে অতিরিক্ত ডিউটি বা কাজের চাপও পড়ে থাকতে পারে। আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি।”