ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুরহাটগুলো জমতে শুরু করেছে। গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে এবার ২৪টি হাট বসছে। পুরোদমে বেচাকেনা শুরু না হলেও দিন-রাত ট্রাকে ট্রাকে পশু আসছে। বেপারি ও কর্মচারীদের ব্যস্ততা বাড়ছে। ঈদের বাজার এখন জমে ওঠার অপেক্ষায়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের গরুর আমদানি শুরু হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও মাঝারি ও ছোট দেশি গরুর চাহিদা বেশি। হাটে গরুর সঙ্গে খাসি, ছাগল, ভেড়া ও মহিষও এসেছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের হাটগুলোতে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পশু আসছে। দিন-রাত সমানতালে পশুবাহী ট্রাক ঢুকছে গাবতলীসহ বিভিন্ন হাটে।
হাটজুড়ে বেপারি ও কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত। অনেক হাটে এখনো অবকাঠামো তৈরি, বাঁশ-খুঁটি বসানো ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলছে। বিক্রেতারা জানান, মূল ক্রেতাদের চাপ শুরু হয়নি। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।
গতকাল ছুটির দিনে অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে দামের ধারণা নিচ্ছেন। বেশির ভাগ ক্রেতা জানান, তারা ঈদের এক-দুই দিন আগে পশু কিনবেন। বিকেলের দিকে ক্রেতা বাড়লেও বেচাকেনা কম ছিল। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে হাটে কাদা-পানি জমে যাওয়ায় বিক্রেতারা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন। বৃষ্টি থামার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তেজগাঁও পশুর হাটে সকালে ক্রেতা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়ে। ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি। তবে তাদের অভিযোগ, এবার পশুর দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে বড় গরুর দাম আকাশচুম্বী। মাঝারি গরুর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আশরাফ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বড় গরুর দাম অনেক বেশি। ছোট আর মাঝারি গরুর দামও চড়া। এখন শুধু বাজার দেখে যাচ্ছি, শেষ দিকে কিনব।’
বেপারিদের দাবি, ভুসি, খৈল, খড়সহ পশুখাদ্য ও পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বাড়ায় বেশি দাম হাঁকাতে হচ্ছে। পশু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। খরচের সঙ্গে মিলিয়ে দাম না পেলে লোকসান হবে। এমনিতেই আগের তুলনায় ক্রেতা কম।
সিরাজগঞ্জের খলিল বেপারি জানান, তিনি আটটি গরু এনেছেন। একটি বিক্রি হয়েছে। বিক্রি তেমন নেই, খরচ থেমে নেই। ঈদের ছুটি শুরু হলে বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে দরদাম হয়েছে, দু-একটির বিক্রির আলোচনা চলছে।
হাটসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের শেষ দুই-তিন দিনেই পশু বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। এখন যারা কিনছেন, তাদের বেশির ভাগই কেরানীগঞ্জ ও সাভারের বাসিন্দা। যাদের বাড়িতে খালি জায়গা আছে, তারা আগেভাগে পশু কিনছেন। অধিকাংশ মানুষ এখন শুধু হাটে এসে দাম যাচাই করছেন।
পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা এক বেপারি দুটি গোলাপি মহিষ এনেছেন। প্রতিটির দাম চাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। দুটি মিলিয়ে ২০ লাখ টাকা চাইলেও একসঙ্গে কিনলে কিছুটা কম রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে পশু আনা হচ্ছে পোস্তগোলার হাটে। দীর্ঘ ৮-১০ ঘণ্টার যাত্রায় অনেক গরু ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। হাটে পৌঁছানোর পর কর্মচারীদের গরুর চোখে-মুখে পানি দিতে দেখা যায়। কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেগুলোকে হাটের ভেতরে নেওয়া হচ্ছে।
পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাদাপোশাকের পুলিশ মোতায়েন করেছে দুই সিটি করপোরেশন। রয়েছে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম ও পশুর স্বাস্থ্য সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা। যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও স্যানিটেশন সেবা ঠিক রাখতে পৃথক টাস্কফোর্স কাজ করছে।