সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদককে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বহিষ্কৃত দুজন হলেন-নতুন কমিটির সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেন।
সোমবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন স্বাধীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
এর আগে রবিবার (১২ মে) বিকেলে সিকৃবির আব্দুস সামাদ আজাদ হলের সিট-সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন ওই দুই নেতা ও তাদের অনুসারীরা। এতে ১৭ জন হতাহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনার রেশ ধরেই কেন্দ্রীয় কমিটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগ কখনোই শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে না এবং তা প্রশ্রয়ও দেয় না। তবে রবিবার হলের সিট-সংক্রান্ত সাধারণ একটা ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে। আমরা রাতে বিষয়টি নিয়ে সব নেতা-কর্মী বসেছিলাম। আমরা সমাধানের পথে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এমন ঘোষণা এসেছে। যাই হোক আর কিছু বলব না, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি আমি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল।’
তবে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে সিকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ইমাদুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে আশিকুর রহমান কল রিসিভ করেননি এবং ইমাদুল হোসেনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শুক্রবার রাতে সিকৃবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার দুদিন না পেরোতেই গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে রুম দখলকে কেন্দ্র করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।