ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

যুবদলের নতুন কমিটি হেভিওয়েট ৬ নেতা বাদ, কর্মীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:২০ পিএম
হেভিওয়েট ৬ নেতা বাদ, কর্মীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে পদবঞ্চিত ও অবমূল্যায়িত নেতা-কর্মীদের চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে কমিটিতে স্থান পেয়ে অনেকে উচ্ছ্বসিত। তবে বিদায়ী কমিটির হেভিওয়েট ছয় নেতা বাদ পড়ায় নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। অবশ্য নানা ধরনের অভিযোগ উঠলেও এবার কমিটি পুনর্গঠনে প্রাধান্য পেয়েছে তারুণ্য-নির্ভরতা।

নতুন করে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংগঠনকে পুনর্গঠিত করা শুরু করেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম মহানগরের আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছে। এর দুই দিন পর মঙ্গলবার (৯ জুলাই) যুবদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় বিএনপি।

বিএনপির মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত যুবদল। কিন্তু নতুন কমিটি ‘মন্দের ভালো’ হয়েছে বলে বিএনপির ভেতরে-বাইরে আলোচনা উঠেছে। কারণ যুবদলের কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য এবারের লবিং-তদবির ছিল নজিরবিহীন। এ জন্য কমিটি দিতেও কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে কমিটিতে কয়েকজনের হঠাৎ করেই বড় ধরনের পদোন্নতি দেখে অনেকেই বিস্মিত। তাদের আশা, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন তাদের নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হোক। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন না হলে আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র বায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘দল পুনর্গঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে যুবদলের কমিটি গঠিত হয়েছে। সবাই তো আর পদ পায় না, তাই বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করতে হবে।’

নেতা-কর্মীরা বলছেন, যুবদলের হেভিওয়েট ছয় সাবেক নেতার মধ্যে সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সহসভাপতি রুহুল আমিন আকিল, জাকির হোসেন সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মওলা শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে কমিটিতে মূল্যায়নের সুযোগ ছিল। বিশেষ করে ২৮ অক্টোবরের আগে ও পরে রাজপথে তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন সময়েও তারা কারাবন্দি ছিলেন। শত শত মামলার আসামিও তারা। এদের মধ্যে মামুন হাসান, গোলাম মওলা শাহীন এবং ইসহাক সরকারের ইতোমধ্যে সাজা হয়েছে। যেহেতু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সার্বিক দিক বিবেচনা করে কমিটি দিয়েছেন। তাই বর্তমান কমিটিকে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত আছেন যুব নেতা-কর্মীরা।

সদ্য বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘দল যাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, তারা সংগঠনকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারবেন। অতীতের চেয়েও শ্রম ও মেধা দিয়ে যুবদলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আশা করি, আমাদের নিয়ে দলের কোনো চিন্তা আছে, অন্য কোনো কাজে লাগাবে।’ 

বিলুপ্ত করার ২৫ দিন পর আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল। আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোনায়েম মুন্না এবং নুরুল ইসলাম নয়ন ছিলেন সহসভাপতি। মোনায়েম মুন্না ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে কারাগারে ছিলেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২৮ অক্টোবর নুরুল ইসলাম নয়ন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তবে কমিটিতে সবচেয়ে বড় পদোন্নতি পেয়েছেন রেজাউল করিম পল ও বিল্লাহ হোসেন তারেক। এদের মধ্যে রেজাউল করিম পল বিদায়ী কমিটির ১৮ নং সহসভাপতির (ঢাকা বিভাগ) দায়িত্বে ছিলেন। বিল্লাহ হোসেন তারেক ১২ নং যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পদোন্নতি পেয়েছেন কামরুজ্জামান জুয়েল, নুরুল ইসলাম সোহেল। বিগত আন্দোলনে সবাই কমবেশি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। 

যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক বলেন, ‘যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা আমার প্রতি আস্থা রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি জীবনের বিনিময়ে হলেও পালনের চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’

সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা খবরের কাগজকে জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একক ক্ষমতাবলে যুবদলের কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু নিজেদের লোকদের কমিটিতে স্থান দিতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজীজুল বারি হেলাল, মহানগর দক্ষিণ যুবদল সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। এদের হয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এপিএস আব্দুর রহমান সানি। কমিটি গঠনের প্রশ্ন এলেই এসব নেতা বিশেষ গুরুত্ব পান।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যে লক্ষ্যে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তার যথাযথ প্রতিদান দিতে সচেষ্ট থাকব। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির যেকোনো কর্মসূচিতে যুবদল সম্মুখ সারিতে থাকবে। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারকে পদচ্যুত করা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ও তারেক রহমানকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।’

সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘কেউ পদবঞ্চিত থাকবেন না। যারা যোগ্য, ত্যাগী এবং রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিএনপির হাইকমান্ড তাদের সবাইকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সবাইকে নিয়েই রাজপথে থাকব।’

নয়াপল্টনে উল্লাস-আনন্দ মিছিল
কমিটি ঘোষণার পর গতকাল বেলা ৩টার পর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাজির হন মোনায়েম মুন্না ও নুরুল ইসলাম নয়ন। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান যুবদল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গবেষণা সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, উত্তর বিএনপির সাইফুল আলম নীরব, আমিনুল হক, যুবদলের নতুন সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ১ নং যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, যুবদলের সাবেক নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, মেহেবুব মাসুম শান্ত, ওমর ফারুক কাওসারসহ সহস্রাধিক নেতা-কর্মী। পরে নয়াপল্টন থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবারও পার্টি অফিস পর্যন্ত আনন্দ মিছিল করেন নেতা-কর্মীরা। এই সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন।

আন্দোলনে জড়িত থাকলে ঘটনাস্থল থেকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি, প্রশ্ন ফখরুলের

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:২২ পিএম
আন্দোলনে জড়িত থাকলে ঘটনাস্থল থেকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি, প্রশ্ন ফখরুলের
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; ফাইল ছবি

বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীরা যদি আন্দোলনে জড়িত থাকে তাহলে তাদেরকে কেন ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি? এমন প্রশ্ন করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এতেই প্রমাণিত বিএনপি বা বিরোধী দলের কেউই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয়। আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মিথ্যা অভিযোগে ঢালাওভাবে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য দোষারোপ করছে।’ 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতি তিনি এসব কথা বলেন। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন যাবত বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অমানবিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে আড়াল করতে এবং উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপকৌশল হিসেবে বিএনপির নির্দোষ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অথবা নেতা-কর্মীদেরকে বাসায় না পেয়ে তাদের সন্তান বা পবিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অশালীন আচরণসহ বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে।’
 
তিনি বলেন, ‘চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের আপামর শিক্ষার্থীদের যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষদের এখনও নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম তেনজিং ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ছেলে (যিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন) সানিয়াত গেপ্তার করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে বুধবার রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘শত শত নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সরকারি দলের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হতাহত করল, অথচ সরকারের ইশারায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি শুধুমাত্র ছয়জনের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে, যা সুকৌশলে পুরো হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ারই নামান্তর। তাই জনগণের দাবি, পুরো ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত করা হোক। নইলে ব্যর্থতার সব দায় নিয়ে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলেও জনগণ মনে করে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘নিহত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক দুই লাখ নগদ  এবং ৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। অথচ শত শত নিরীহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে গুলি করে গণহত্যা করা হল যা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতদের পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি। আন্দোলনে পুলিশ ও আনসার সদস্য যারা নিহত হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ গ্রেপ্তার
বিজেপি চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান হারুন-উর-রশিদ।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাত ১টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি। 

তিনি আরও জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন ব্যারিস্টার পার্থ। এজন্য তাকে তুলে নেওয়া হতে পারে বলে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

কারফিউ দিয়ে বিরোধীদের নির্যাতন করা হচ্ছে, অভিযোগ বাম নেতাদের

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
কারফিউ দিয়ে বিরোধীদের নির্যাতন করা হচ্ছে, অভিযোগ বাম নেতাদের

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরে দেশব্যাপী সহিংসতা দমনে সরকারবিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযানে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাম দলগুলোর নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, রাজধানীজুড়ে গণগ্রেপ্তার অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যুক্ত হয়েছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর দেশব্যাপী সহিংসতায় কত জন হতাহত হয়েছেন তার সঠিক সংখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সিপিবি, বাংলাদেশ কংগ্রেস। চলমান চিরুনি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিও জানাচ্ছে বামপন্থি দলগুলো।

এ ছাড়া সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে দেশব্যাপী শোক র্যালি করার ঘোষণা দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ জাসদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা। 

হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেশবাসী জানতে চায়: সিপিবি
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কত সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র-জনতা নিহত ও কয়েক হাজার মানুষের আহত হওয়ার খবর নানা মাধ্যমে এসেছে। নিহত, আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, আহতদের প্রকৃত অবস্থা দেশবাসী জানতে চায়। সিপিবি নেতারা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উন্মুক্ত করা হয়নি। প্রচারমাধ্যমে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। দুর্নীতি-লুটপাটকারীদের ভয়াবহ চিত্র, পাচারের টাকা ও ব্যাংক ডাকাত-ঋণখেলাপিদের খবর প্রকাশিত হতে থাকলেও তা চাপা পড়ে যাচ্ছে। নীতিহীন, ক্ষমতাশ্রয়ী, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি, লুটপাটের অর্থনীতি আজ এই সংকট তৈরি করেছে।’

শুক্রবার দেশব্যাপী শোক র্যালি
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরে দেশব্যাপী সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে সারা দেশে শোক র্যালি করার ঘোষণা দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে কাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। বাম জোটের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা। বাম জোট, বাংলাদেশ জাসদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা যৌথ বিবৃতিতে সারা দেশে ছাত্র-শ্রমিককে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। দলগুলোর নেতারা গণগ্রেপ্তার বন্ধ, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, কারফিউ প্রত্যাহার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিরাপত্তার দাবি জানান তারা। 

কারফিউ চলাকালে ব্যাপক পুলিশি নির্যাতন-হয়রানি: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
সহিংসতার পরে সারা দেশে জারি হওয়া কারফিউয়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ-নিরীহ ছাত্র-জনতাকে ধরপাকড় করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং টিম। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ওয়ার্কিং টিমের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় দলের নেতারা বলেন, ‘কারফিউ শিথিল করার মধ্যেও অলিগলিতে চিরুনি অভিযানের নামে নির্যাতন চলছে। মেস ও ছাত্রাবাসগুলোতে এই অভিযানে অনেক ছাত্রকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপরে পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। এই কাজে পুলিশকে সহায়তা করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।’

ক্ষমতাসীনদের গণবিচ্ছিন্নতার প্রকাশ ঘটেছে: বাংলাদেশ জাসদ
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ‘ছাত্র গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ জাসদ নেতারা বলেছেন, ‘এই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীনদের গণবিচ্ছিন্নতার প্রকট প্রকাশ ঘটেছে।’ দেশব্যাপী সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ জাসদের প্রধান কার্যালয়ে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ জাসদ নেতারা বলেন, ‘সরকার সৃষ্ট রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটই এ পরিস্থিতির কারণ। পাইকারি হারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা, গণগ্রেপ্তার ও গণনির্যাতন করে ছাত্রজনতার রক্তে জমা বারুদে বিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না।’

সরকার নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে: বাংলাদেশ কংগ্রেস
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে সহনশীল ও স্বাভাবিকভাবে মেনে না নিয়ে জেদের বশীভূত হয়ে সারা দেশে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেতারা। গতকাল দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সরকার গাধার মতো জল ঘোলা করে খেয়েছে। জল ঘোলা করতে গিয়ে সারা দেশে তারা কার্যত গণহত্যা, গ্রেপ্তার ও নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে। সরকার এখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সমালোচনা করে বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রচারমাধ্যমে স্বাধীনতা খর্ব করে এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে আন্দোলনকারীদের নির্মমভাবে দমন করার চেষ্টা সরকারের দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে।’

আবার আড়ালে বিএনপি নেতা-কর্মীরা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৩০ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম
আবার আড়ালে বিএনপি নেতা-কর্মীরা

দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের মুখে আবারও আত্মগোপনে চলে গেছেন বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগর থেকে শুরু করে জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো নেতা এখন আর ঘরে থাকছেন না। তারা আড়ালে চলে গেছেন।

এর আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে সৃষ্ট সহিংস ঘটনার পরেও বিএনপি নেতারা আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। ওই সময় বিএনপির দাবি অনুযায়ী ২৫ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিএনপি দাবি করেছে। এখনো রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। 

এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যসহ দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতাকে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদাসহ একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিএনপির দলীয় সূত্র দাবি করেছে এ পর্যন্ত সারা দেশে দুই সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নির্বাচনের আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। যদিও সেসময় অনেককেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর অনেকেই কারামুক্ত হলেও এক বছর না ঘুরতেই আবার জেলে যেতে হয়েছে কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে। দলটির মিডিয়া উইংয়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, দলের নেতা-কর্মীরা এখন নতুন করে ঘরছাড়া। কমবেশি সবার ফোন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপসহ যেসব মাধ্যমে তারা সক্রিয় থাকতেন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব হয়নি। 

বিএনপির সূত্রমতে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জহির উদ্দিন স্বপন, বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) তারিকুল ইসলাম তেনজিং, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপি নেতা এস এম জাহাঙ্গীর, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এ সালাম, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, পেশাজীবী নেতা ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের পাশাপাশি সরকারবিরোধী জোটে যুক্ত কয়েকটি দলের নেতারাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ১২ দলীয় জোটের নেতা এহসানুল হুদা, গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। 

গত শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে প্রথম গ্রেপ্তার হন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এরপর রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও অন্যান্য জোটের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রেপ্তারদের সঠিক হিসাব বের করার সুযোগ নেই বলে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। 

সরকারের উচ্চ পর্যায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে সহিংস করে তোলার পেছনে বিএনপির উসকানি রয়েছে এবং গত কয়েক দিনের সহিংসতায় জড়িতদের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের করা মামলায় যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারা বেশির ভাগই বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মী। জানা গেছে, এ পর্যন্ত শুধু ঢাকায় ১১৯টি মামলা হয়েছে। আরও মামলা রুজু করা হচ্ছে। আর এসব মামলায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায়ও বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জে নাশকতার একাধিক মামলায় তারাব পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আহাদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদল সভাপতি হীরা, ফতুল্লা থানা জামায়াতের আমির মাসুদ মেম্বার, ফতুল্লা থানা যুবদল নেতা মামুনসহ ৩০০-এর বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২০টির বেশি মামলায় বিএনপির বেশকিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় পুলিশি তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তাহসীনা রুশদি লুনা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অন্য নেতাদের বাসায় পুলিশি তল্লাশির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নয়াপল্টনের কার্যালয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ভাঙচুর চালিয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে চরম নির্যাতন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশি তল্লাশি বন্ধের জোর আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। নির্যাতন-নিপীড়ন ও গ্রেপ্তারের পথ পরিহার করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, গত ১৭ জুলাই মধ্য রাতে ডিবির অভিযানের পর থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। কার্যালয় বা এর আশপাশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের উপস্থিতি নেই। অনেকের আশঙ্কা, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন বিরোধী দলের আরও অনেক নেতা। 

বিএনপি-জামায়াত অহিংসতার নামে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছে: জয়

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম
বিএনপি-জামায়াত অহিংসতার নামে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছে: জয়
সজীব ওয়াজেদ জয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র তাদের নিজেদের সহিংস আন্দোলন চালাতে একটি অরাজনৈতিক ও অহিংস আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে। 

তিনি এক্সে সাম্প্রতিক এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এ রকম শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন কীভাবে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সহিংসতা এবং লুটপাটের আন্দোলনে পরিণত হলো? কারণ বিএনপি ও জামায়াত জোট তাদের নিজস্ব একটি সহিংস আন্দোলন চালানোর জন্য মূলত একটি অরাজনৈতিক ও অহিংস আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে।’ খবর বাসসের। 

জয় লিখেছেন, ‘স্বার্থান্বেষী মহলের সম্পৃক্ততা উপলব্ধি করে, প্রতিবাদকারীরা নিজেরাই সহিংসতায় লিপ্ত থাকার কথা অস্বীকার করে বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি তৃতীয় পক্ষ জড়িত, যার সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।’ 

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে এই কাপুরুষরা বিক্ষোভকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। তারা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সরকারি ও বেসরকারি পরিবহন এবং সম্পত্তি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহকে টার্গেট করেছে।’

জয় বলেন, ‘তারা যেখানেই সুযোগ পেয়েছে সেখানেই সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতেও ব্যাপক লুটপাট করেছে। তারা একটি কারাগারে হামলা করে সকল বন্দিকে মুক্ত ও অস্ত্র লুট করে।’ 

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতার কারণেই সরকার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন এবং অস্থায়ীভাবে কারফিউ জারির মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কারণ হলো, সহিংসতা প্রতিরোধ, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’ 

দেশের শিক্ষার্থীরা মোটেও সন্ত্রাসী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চক্র তাদের বাংলাদেশ ভাঙার দলীয় এজেন্ডার আড়ালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে।’ 

তিনি মঙ্গলবারের ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত কীভাবে সাধারণ ছাত্রদের বাংলাদেশ ভাঙার দলীয় এজেন্ডার জন্য ব্যবহার করেছে, জনগণ রাষ্ট্রের এই শত্রুদের ক্ষমা করবে না।’ 

অন্য এক পোস্টে জয় একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করে উল্লেখ করেছেন, ‘যখন আওয়ামী লীগ সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার বা বিলুপ্তি নিয়ে একই আন্দোলনে ছিল, তখন কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও অরাজনৈতিক কোটা আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠল?’

১৮ জুলাইয়ের এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে বলেছেন, ‘এই ভিডিও থেকে তিনটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়। কোনো ছাত্র সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির প্রতি এতটা অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে পারে না। এসব ঘটনার জন্যই কারফিউ আরোপ করতে হয়েছে এবং সরকারের এসব পদক্ষেপ তাদের একটি ইতিবাচক দায়িত্ব।’