ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক? গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা ৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে! রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার তামু ও তার সুপারহিরো বাবার গল্প বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচ ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ খবরের কাগজের বাগেরহাট প্রতিনিধিকে প্রাণনাশের হুমকি! আজ বিশ্ব সংগীত দিবস সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল

মতিয়া চৌধুরী: নির্লোভ, সাদামাটা এক রাজনীতিকের প্রস্থান

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০৬ পিএম
মতিয়া চৌধুরী: নির্লোভ, সাদামাটা এক রাজনীতিকের প্রস্থান
চলে গেলেন রাজনীতির অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী। একজন নির্লোভ রাজনীতিবিদের জীবনাবসান ঘটেছে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে। ছবি: সংগৃহীত

বর্ষীয়ান রাজনীতিক, জাতীয় সংসদের সাবেক উপনেতা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও শেরপুর-২ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ দলটির নেতারা।

নির্লোভ, নির্মোহ ও সাদামাটা জীবনাচরণে অভ্যস্ত এক ব্যতিক্রমী রাজনীতিক ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। নিজেকে প্রকাশ করতেন সাধারণের মতোই। আওয়ামী লীগ সরকার ও দলে শীর্ষ নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই রাজনীতিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি মতিয়া চৌধুরীকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

মতিয়া চৌধুরীর জানাজা বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রমনা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে তার বাসভবন এবং বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিয়া চৌধুরীর ভাই মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী।

মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নতুন জায়গা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে। জায়গা পেলে সেখানে দাফন করা হবে, না পেলে তার স্বামী বজলুর রহমানের কবরে দাফন হবে। এলাকার মানুষের দাবি থাকলেও মতিয়া চৌধুরীকে শেষ পর্যন্ত তার নিজের নির্বাচনি এলাকা শেরপুরে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মতিয়া চৌধুরী দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাঝে তাকে বাসায় আনা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গতকাল দুপুরে তিনি মারা যান।

মতিয়া চৌধুরী ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। মৃত্যুর আগে বজলুর রহমান দৈনিক সংবাদের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। 

ইডেন কলেজে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মতিয়া চৌধুরী। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার যে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয় তাতে মতিয়া চৌধুরী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সে সময় তিনি ঢাকার ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। চারবার কারাবরণ করেন আইয়ুব খানের আমলে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ১৯৬৩ সালে রোকেয়া হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মতিয়া চৌধুরী। পরের বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়ন মতাদর্শিক কারণে বিভক্ত হলে মতিয়া চৌধুরী এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন। অন্য অংশের সভাপতি হয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। সে কারণে ‘ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ’ ও ‘ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়ে মাস্টার্স শেষ করতে পারেননি তিনি।

১৯৬৭ সালে মতিয়া চৌধুরী অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন। ছাত্রজীবন থেকেই বক্তৃতার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠন করলে সেখানে যোগ দেন মতিয়া চৌধুরী। তিনি বাকশালের ১১৭ নম্বর সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯৭৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন মতিয়া চৌধুরী।
১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলটির কৃষি সম্পাদকের দায়িত্ব পান। যে দায়িত্বে তিনি ২০০২ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ২০০২ সালের সম্মেলনে মতিয়া চৌধুরী দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একই পদে ছিলেন তিনি।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেরপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন মতিয়া চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে দলটি ক্ষমতায় এলে তাকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৯ সালেও একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যাওয়ার পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সংসদের উপনেতা হন মতিয়া চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও একই দায়িত্ব পান তিনি।

মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন
ছবি: খবরের কাগজ

যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে সবার আগে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

এ সময় বিগত দিনে আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট মাদক ব্যবসায়ীরা এখন রাজনৈতিক খোলস বদলে বিএনপির কোনো না কোনো নেতার ছত্রছায়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে জামালপুর শহরের স্টেশন রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই। আপনাদের মাঝে যদি ভূত থাকে তাহলে ওই ভূত ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিন। যদি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যদি সৎ না হয়, স্বচ্ছ না হয়, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কাজেই আপনারা যথাযথ পদক্ষেপ নিন, বিএনপি আপনাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবে। আমি আহ্বান জানাব, যদি কোনো বিএনপি নেতাকর্মী মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, সর্বপ্রথম তাকে গ্রেপ্তার করুন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় না দেওয়া। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা নিজেরা কোনোভাবেই এই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হব না। সাধারণত দেখা যায়, সরকারি দলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক সুবিধা পেয়ে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন ও আনন্দ-ফুর্তি করার সুযোগ পায়। এমনকি তাদের দেখাদেখি অনেকে নতুন করেও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রশাসনও অনেক সময় সরকারি দলের লোকজনকে গ্রেপ্তার করতে দ্বিধাবোধ করে। তাই অন্যদের চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমরা কেউ কোনো অবস্থাতেই মাদক সেবন করব না। বিএনপি নেতা যদি মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে অন্যজনকে প্রতিরোধ করা যাবে না।

শহরের স্টেশন রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসুচির আয়োজনকরে জেলা বিএনপি।

মাদকবিরোধী সমাবেশে জেলা বিএনপির সহসভাপতি লোকমান আহমেদ খান লোটনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সহিদুল হক খান দুলাল, লিয়াকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম খান সজিব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। 

বক্তারা বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক হতে হবে।’

সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মাদকবিরোধী র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান/ ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।

তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদের কাছে আমরা মাথা নত করব না। সরকার যদি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তাহলে আমরা সরকারকেও ছেড়ে কথা বলব না।’

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে অসম্মান করার পরিণতি কী হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’

তিনি আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি। দেশে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক, সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা কারও বাপ-দাদার চোখ রাঙানোকে পরোয়া করব না।’ তিনি বলেন, ‘খুলনাবাসী আপনারা যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়টিই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে, আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি, তাই নিয়ে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর. রাজশাহী, বগুড়ার মাঠ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সব আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

সীমান্তে অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পুশইনের নামে একটা দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি, সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। ভারত চেয়েছে পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করতে। ভারত লুটপাট করতে এসেছিল, এ দেশের স্বাধীনতার জন্য আসেনি।’

খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের ওপর শেখ হাসিনার ভূত ভর করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে প্রতারণা করেছে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের দুটি পক্ষ। একটি ভারত পক্ষ, আরেকটি বাংলা পক্ষ। যদি আপনি ভারত পক্ষ নেন তাহলে কঠিন লড়াই হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন সংবিধানের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জুলাই লড়াইকে অস্বীকার করা হচ্ছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে।

যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির (জাপা) যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের ২৫ জন শীর্ষ নেতা-কর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা এবং অসাংগঠনিক ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৯টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা যৌথ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ।

লিখিত বক্তব্যে পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করতে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরে কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও ঊর্ধ্বতন নেতাদের অসাংগঠনিক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের কারণে এই দলটি দেশ ও জনগণের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতে কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না বলে তারা মনে করছেন।

ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সরকারের যেকোনো চক্রান্ত ও দখলচেষ্টা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

  • গ্রাহক ফোরাম যে কর্মসূচি নেবে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্রাহকদের একদম ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে
  • ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হবে

তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং সেই আন্দোলন সরকারের পতনের কারণও হতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) এক সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একই সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলদের কঠোর সমালোচনা করেন। 

কর্মসূচির খবর তৃণমূলে পৌঁছানো, উপস্থিতির ভুল তথ্য, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান তিনি। 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার এমন একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আপনারা আত্মসমালোচনা করেছেন? গতদিন তো অনেক কথা বললাম অনলাইনে। এখন তো আমি বুঝছি অনলাইনের মিটিং। আমি ভাবছিলাম দায়িত্বশীলরা সচেতন, ছোটখাটো কোনো বিষয়ে অনলাইনে নির্দেশ দিলেই কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু খবর তৃণমূল পর্যন্ত ঠিকমতো পৌঁছে না। সময়মতো পৌঁছে না, সবার কাছেও পৌঁছে না। আমরা মেসেজ দিয়ে রেখে দিই, ফোন দিয়ে ফলোআপ করি না–খবরটা নিশ্চিত হলো কি না। আবার এমন সময়ে খবর দিই যে, ওই ব্যক্তির আসাটাই কঠিন। তার মানে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কর্মসূচিগুলো নিতে পারছি না।’ 

উপস্থিতির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘উপস্থিতিগত সমস্যা হয়েছে। অথচ যখন আপনারা সংখ্যা দেন, আল্লাহর ওয়াস্তে একটা বিশাল সংখ্যা চলে আসে। আপনাদের প্রতি সম্মানের সঙ্গে, বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি যদি একজনও না আসে, তা-ই লিখবেন। এর বাইরে তো কল্পনা করা যায় না। আপনি সংখ্যা দিয়ে দিচ্ছেন। যার কাছ থেকে নিচ্ছেন, তিনি কীভাবে সংখ্যা দিলেন? ঘরে বসে সংখ্যা দিল, না খোঁজখবর নিয়ে সংখ্যা দিল? এগুলো আমাদের বিব্রত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের একটি কর্মসূচিতে উপস্থিতি যা হয়েছে, তা যোগ করে দিয়ে দিলেন–এটা কেন? ওয়ার্ড সভাপতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। গতকালের (শুক্রবার) উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। আপনার লোক কতজন এসেছে, কতজন খবর পেয়েছে, কেন খবর পায়নি, আগে খবর দিয়েছেন না পরে দিয়েছেন–এসব খতিয়ে দেখুন।’

দায়িত্বশীলদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বুলবুল বলেন, ‘বেলা ১১টার পরে অনুষ্ঠান। ফজরের পর থেকে নিজেরা সজাগ-সচেতন ছিলেন কি না, নাকি অফিস, ব্যবসা, বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন? এগুলো করে কি আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব?’

এরপর ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার যে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে, আমাদের যতদূর যাওয়া দরকার আমরা ততদূর যাব। কিন্তু ব্যাংক কারও হাতে আমরা ছেড়ে দেব না। ব্যাংক সুরক্ষা করতে গিয়ে যদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা লাগে, তাহলে এই আন্দোলনও তাদের পতনের কারণ হবে। আমরা ঠিক সেভাবেই নেব।’

কর্মসূচির গুরুত্ব অনুধাবনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ বুঝতে হবে, সময় বুঝতে হবে, কর্মসূচির গুরুত্ব বুঝতে হবে। সংগঠনের কার্যকর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে যদি উদাসীন থাকেন, তাহলে এমনি এমনি আল্লাহ দিয়ে দেবেন–এমনটা হবে না। এখন যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটাকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে আরও বৃহৎ কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই।’

গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক ফোরাম যে কর্মসূচি নেবে, সেই কর্মসূচির বাস্তবায়নে গ্রাহকদের একদম ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এগুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

সংসদ ও রাজপথ–দুই জায়গাতেই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদেও ফাইট করব, আমরা বাইরেও ফাইট করব। এ ফাইট সমানতালে চলবে। সরকারের পা কতটা লম্বা হয়েছে, সেটাও আমরা দেখে ছাড়ব, ইন্‌শাআল্লাহ।’

ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি সংগঠনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যদি ইসলামী ব্যাংক তাদের মতো করে দখল করতে পারে, তাহলে এখানকার হাসপাতাল–ইবনে সিনা থেকে শুরু করে মানারাত এবং সংগঠনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দিকেও নজর দেবে। এগুলো দখল করতে তাদের বেশি সময় লাগবে না। কাজেই সূচনায় রাস্তা বন্ধ করতে হবে, প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে হবে।’ 

সভার বক্তব্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘এগুলো আবার এডিট করার জন্য কাউকে দিও না। কেউ আমার ফেসবুকে দিও না। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নেবেন। আজকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের তাওফিক দান করেন।’

আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা!

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা!
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ১০ তলাবিশিষ্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। চব্বিশের ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনটি এখন প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

  • মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করতে মারধর করার সময় পরিবারকে দেওয়া হয় ভিডিও কল
  • নেতৃত্ব দেন যুবদল নেতা পরিচয়ধারী ছবি ও ইমন
  • ভবনের ছবি তুলতে গেলে হুমকি ও হয়রানির শিকার ফটোসাংবাদিক
  • টয়লেট ব্যবহারকারীদের থেকেও টাকা নিচ্ছে চাঁদাবাজরা

ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, ভবনটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে। হকারদের মালামাল রাখার জন্য ভাড়া আদায় থেকে শুরু করে টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সন্দেহে লোকজনকে আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া রাতদিন চলছে মাদক সেবন ও ব্যবসা।

গত কয়েক দিন কার্যালয়টির আশপাশে ঘুরে এবং হকার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যুবদলের পরিচয় ব্যবহারকারী মাসুদ রানা ওরফে ছবি এবং তার সহযোগী ইমন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একসময় গুলিস্তানের হকার ছিলেন এই ছবি ও ইমন। বর্তমানে তারা নিজেদের যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এমনকি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুবদলের নাম ব্যবহার করে এই চক্র নিজেরাই এখন হকারদের নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া গুলিস্তানে সব ধরনের ‘মব’-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ছবি ও ইমন। 

গত সপ্তাহে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কজুড়ে তিন স্তরে হকাররা বসে ব্যবসা করছেন। দিনে এসব হকারের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। রাত হলে হকারদের বস্তাভর্তি মালামাল, ভ্যান, ফুচকার স্টল ও অন্য সরঞ্জাম আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতরে রাখা হয়। হকাররা জানিয়েছেন, মালামালের মালিকদের কাছ থেকে আকার ও পরিমাণ অনুযায়ী প্রতি রাতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ভবনের টয়লেট ব্যবহারের জন্য পথচারীদের কাছ থেকেও ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিলে অনেক হকারকে ভবনের ভেতরে রাত কাটানোর সুযোগও দেয় চক্রের সদস্যরা।

হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ তলা এই ভবনটির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় হকারদের মালামাল রাখা হয়। এসব মালামাল সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন আল আমিন এবং চাঁদা তোলেন বাবু ও ইমন। অন্যদিকে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় চলে মাদক সেবন ও বিক্রির কার্যক্রম। দিন-রাত সমানতালে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ কাজে বিল্লাল, আল আমিন, হাসান, মোস্তফা, মোশারফ, কালা নবীসহ কয়েকজন জড়িত। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীদের একজন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে আমি ও আমার এক বন্ধু কার্যালয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসে আমাদের ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে একজন ফোন করার পর ছবি নামে ওই নেতা এবং সিআইডির সদস্য পরিচয় দেওয়া শাহিন সেখানে আসেন। পরে আমাদের ধরে নিয়ে গিয়ে সেখানে মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মারধর করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে আমার পরিবারের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর আমার পরিবার স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি আমাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও ছবি ও শাহিন তাতে রাজি হননি। তখন ছবি ওই ওয়ার্ড বিএনপির নেতার উদ্দেশে ‘বিএনপির প্রধান সারির এক নেতার সঙ্গে চলাফেরা করেন’ বলে উল্টো হুমকি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছবি তাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেন। পরে মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে দর-কষাকষি শেষে ভুক্তভোগীদের পরিবার ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রাতেই মুক্ত করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় বিচার চাইতে স্থানীয় থানা-পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’

চাঁদাবাজির শিকার এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক হিসেবে সন্দেহ হলেই তাদের ধরে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। আগে থেকে মোতায়েন করে রাখা সোর্সরা এ বিষয়ে খবর দেয় কথিত যুবদল নেতা ছবি ও ইমনের কাছে। তাদের নির্দেশে টার্গেট ব্যক্তিকে ভবনের চতুর্থ কিংবা পঞ্চম তলায় নিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করে মারধর করা হয়।

একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, মারধরের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কলে যুক্ত করা হয় এবং তাকে উদ্ধার করতে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের অঙ্ক শুরু হয় ৫০ হাজার টাকা থেকে। ভুক্তভোগীর আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী তা কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা হলে তো কথাই নেই, তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করার ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকজনের কাছ থেকে ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমেও অর্থ আদায় করেন যুবদল নেতা ছবি, ইমন, ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মুরশেদ ও বেলপট্টি ইউনিট বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাই নন, সাধারণ পথচারীরাও ওই চক্রের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ছবি তুলতে গেলে খবরের কাগজের একজন আলোকচিত্রীকে হয়রানি করা হয়। ভবনের সামনে ক্যামরা বের করলে ৪ থেকে ৫ জনের একটি চক্র ওই আলোকচিত্রীকে ঘিরে ধরেন। সংবাদপত্রের পরিচয় দেওয়ার পরেও তাকে ছবিগুলো ডিলিট করতে বাধ্য করা হয়। হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘ছবি ডিলিট না করলে এখান থেকে যেতে পারবেন না।’ 

চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ রানা ওরফে ছবি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমিই খুবই ব্যস্ত রয়েছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’ 

যদিও পরে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় ভবনটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। এ সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে মাদক কারবার এবং মল-মূত্র ত্যাগ করতেন পথচারী ও হকাররা। পরে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভবনের সামনে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের একটি ব্যানার টানানো হয় এবং ভবনটি অফিস হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও বর্তমানে সেখানকার চিত্র এখন ভিন্ন।