ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

আ.লীগকে চাপে রাখতে চাইলেও নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় বিএনপি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৯ পিএম
আ.লীগকে চাপে রাখতে চাইলেও নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় বিএনপি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

আওয়ামী লীগের ওপর নানামুখী চাপ অব্যাহত রাখতে চাইলেও দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় বিএনপি। দলটি মনে করে, রাজনীতিতে বিএনপির আজকের যে স্বস্তিকর পরিস্থিতি সেটি চিরকাল না-ও থাকতে পারে। তাই আওয়ামী লীগকে এখন নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিলে বিএনপিরও ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

‘বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই’ এমন বক্তব্য গত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি আওয়ামী লীগ। যদিও দলটির শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে একাধিক মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। আর এতে এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছিল বিএনপিতে। মূলত বিএনপিকে চাপে রাখার জন্যই আওয়ামী লীগ সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, একই কৌশল গ্রহণ করতে চায় বিএনপি। দলটি চায় আওয়ামী লীগ চাপে থাকুক। বিশেষ করে শক্তিশালী হয়ে আওয়ামী লীগ যেন খুব শিগগির বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হতে না পারে- এটিই বিএনপি চায়। 

সূত্রমতে, এ জন্য বিএনপির তৎপরতাও অব্যাহত আছে। দলটি গণহত্যাসহ গুম-খুন ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিচারের ব্যাপারে সোচ্চারও রয়েছে। বিএনপি মনে করে, ঘটনার বিচার হলে দলটির গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ নেতার সাজা হবে। ফলে আওয়ামী লীগ এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত ১৫ বছর বিএনপিকে একইভাবে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপি এই কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে দলগতভাবে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি। এরপর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে আসা না আসা এটা তাদের নিজেদের ও জনগণের ওপর নির্ভর করছে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বলেছেন, আমরা চাই না, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হোক। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমরা নই। কারণ আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। তবে আওয়ামী লীগের যারা নানা অপরাধ করেছেন, যারা গণহত্যা করেছেন, সেই ব্যক্তিরা রাজনীতি করতে পারবেন না, জনগণ সেটা চায়। তাদের অপরাধের বিচার করতে হবে। কিন্তু গণতন্ত্রে কোনো দলের রাজনীতি করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া বা ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ এ দুটি কাজ গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করবে। জনগণকে তাদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু খবরের কাগজকে বলেন, ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা বাকশাল নই, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সেই দল হিসেবে আমরা অন্য কোনো দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক, এটা চাই না।’ 

যদিও বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে এক ধরনের মতামত রয়েছে। তবে দলের হাইকমান্ড এটিকে বিবেচনায় নিচ্ছে না। 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু নেতাও সভা-সমাবেশে বহুবার বিএনপিতে নিষিদ্ধের কথা বলেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের কারও কারও মত ছিল, ‘সন্ত্রাসী’ দল আখ্যা দিয়ে বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। 

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি প্রথমবার আলোচনায় এসেছিল। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী কোনো দল পর পর দুই বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। অনেকের মতে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়। এরপর বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার আরও একটি সুযোগ পায়। ফলে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে যায় না। অর্থাৎ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি মাথায় রেখেই বিএনপি সবসময় রাজনীতি করেছে। 

দলীয় সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ভেতরে কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি। তবে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা কোনো ফল দেবে না। এমনকি ঘোরতর আওয়ামী লীগবিরোধী দল জামায়াতকেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেনি। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার মাত্র চারদিন আগে তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ ঘটনা থেকে কোনো ফল পায়নি আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে এমন আলোচনা এসেছে যে, রাজনীতি নিষিদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত আসলে কোনো লাভ হয় না।

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের ঘটনাও নির্বাহী আদেশে নয়; আদালতের নির্দেশে ঘটেছে। ২০১৩ সালে ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। সর্বশেষ ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন গত ১ আগস্ট ‘সন্ত্রাস ও সহিংসতার’ অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই মাসের ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও এর সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩-এর একটি খসড়া সংশোধনীর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা অনেকে বলছেন। বিএনপির মধ্যম সারির দু-একজন নেতাও এ ব্যাপার কথা বলেছেন। তবে এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক দেশে উপযুক্ত নয় বলে মনে করেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা।

গত ২৪ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে, এটা খুবই দুঃসাহসিক, আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু যদি বিএনপিকে নিষিদ্ধ করে তখন আমরা কী করব? যারা বিভিন্ন সংগঠনের নামে মানুষকে হত্যা, গুম, নির্যাতন করেছে তাদেরকে ধরে ধরে বিচার করেন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু খবরের কাগজকে বলেন, ‘জাতি ও জনগণ কী চায় তার ওপর নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ? ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ভুল করেছিল, এবারও তারা ভুল করেছে। আগেও মাশুল দিতে হয়েছে এবারও মাশুল দিল। আমরা কোনো দলকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই। নির্বাহী আদেশে কোনো দল নিষিদ্ধ হোক এটা চাই না। কারণ কালকে তো আমাদেরকেও নিষিদ্ধ করতে পারে! যে অপরাধ করেছে তার বিচার করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের (আওয়ামী লীগের) বিচার করতে হবে।’ 

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল খবরের কাগজকে বলেন, আওয়ামী লীগ নিজে থেকেই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। ছাত্র-জনতার গণহত্যা, লুটপাট চালিয়ে বিদেশে টাকা পাচার, দুর্নীতি, গুম-খুনসহ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাদেরকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। নিজেরাই নিজেদের আড়াল করে রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসবে কি আসবে না তা জনগণ ঠিক করবে। রাষ্ট্র ও দেশবিরোধী কাজ করার পরও জনগণ তাদের ভোট দেয় কি না- এটাও দেখার প্রয়োজন।’

গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে রবিবার চারজন এবং সোমবার ৩০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গাজীপুরের বাসন থানায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে এবং সদর থানায় আটজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক জালাল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের দলীয় পদবি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পলাশ/রিফাত/

চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন
চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন। ছবি: সংগৃৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আবরার শাহরিয়ারকে শোডাউনে নেতৃত্ব দিতে এবং বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে আবরার শাহরিয়ারকে বলতে শোনা যায় ‘৫ আগস্টের সময় ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা দিয়েছিলাম, আমরা ফিরে আসব। আমরা কথা রেখেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনোদিন জামায়াত-শিবিরের রাজাকারদের মিনি ক্যান্টনমেন্ট বা আতুড়ঘর হতে দেব না।’

তবে ভিডিওটি কবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে এটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন, ঝুপড়িসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগ ওঠে। এসব পোস্টারে সংগঠনটির বিভিন্ন স্লোগান ও বার্তা দেখা যায়।

পোস্টার সাঁটানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মোটরসাইকেল শোডাউনের ভিডিও সামনে আসায় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনটির তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় এবং এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল আরাফ/রিফাত/

সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নৈরাজ্য, হানাহানি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।

সোমবার (২২ শে জুন) বিকেলে উপজেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা, নৈরাজ্য বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।’

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান সরকার, সাবেক সদস্যসচিব বনি আমিন, শফিকুল ইসলাম শফি, মনোয়ার হোসেন শামীম, হেলাল উদ্দিন প্রামানিক, মোহাম্মদ আলী ভূইয়া, শামীম সরকার, আলম প্রামানিক, রাজিব সরকার এবং  খায়রুল ইসলাম আইয়ুবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এ সময় নেতারা বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সবসময় সচেতন রয়েছেন। যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।’

বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

আলামিন/রিফাত/

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা রাবি ছাত্রদলের
ছবি: খবরের কাগজ

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই ঘোষণা দেন শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরের পেছনে অবস্থিত দলীয় টেন্ট থেকে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পরিবহন চত্বরে মিলিত হয়।

মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘ছাত্রলীগ বাড়িস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’; ‘খুনি হাসিনার আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘ধর ধর ধর লীগ ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’; ‘আপা আপা করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’; ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’; ‘পাক ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেন।

​সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী সরকারের কাছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস ও রাজশাহী জেলাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। সব নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এসব সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে কেউ যদি ধরিয়ে দিতে পারেন, তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’

​সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে এ দেশের জনগণ গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এসে ছাত্র-জনতা হত্যা করেও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা কাজ করেনি। তারা এখন স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে চাইলেও বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর গ্রহণ করবে না। যেখানে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের হাত-পা সব ভেঙে চুরমার করে দেবে।’

এ সময় তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী ‘দেখামাত্রই পেটানো’র ঘোষণা দেন।

​বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাকর্মীসহ ছাত্রদলের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শাকিবুল হাসান/থিওটোনিয়াস

মানবতাবিরোধী অপরাধ হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় আগামী ৩০ জুন।

সোমবার (২২ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এই দিন ধার্য করেন।ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ।

হাসানুল হক ইনুর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের মাধ্যমে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি ও কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অভিযোগ আনা হয়। 

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি।

আমান/