সরকারের উপদেষ্টারা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে প্রতিপক্ষের মত কথা বলছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা তাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। তারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নয়। আমরা রাজনীতি করি, তারা তো রাজনীতিই করে না। তারা কি প্রতিপক্ষ হবে? আমরা ইলেকশন করব, তারা কি আমাদের বিরুদ্ধে ইলেকশন করবে? তারা তো প্রতিপক্ষ না আমাদের।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজকে যারা সরকারে আছে তাদেরকে দেশের জনগণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কী? জনগণের কল্যাণে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন। যারা দোষ করেছেন, অপরাধ করেছেন, খুন করেছেন, দুর্নীতি করেছেন তাদের বিচারের চেষ্টা করবেন। আর যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রের জন্য ক্ষেত্রটা তৈরি করে একটি নির্বাচন দিবেন।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষ কবলিত জাতির জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য গার্মেন্টস শিল্প করেছিলেন। প্রবাসের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সমুদ্রের মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং বিদেশে মাছ রপ্তানি করেছিলেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করেছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণের জন্য খাল কেটেছিলেন। এসব কি উন্নয়ন নয়? খালেদা জিয়ার শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করে লেখাপড়ার প্রসার করেন, মেয়েদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ যারা সমালোচনা করেন তারা অন্তত এরকম একটা কাজ করেন। করার পর সমালোচনা করেন। মিথ্যা সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়ার পর সচিবালয়ে আগুন, জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনার কালাকানুনের বিরুদ্ধে বিএনপিসহ অনেক দলের আত্মত্যাগ অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের তৈরি আইনের সঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের কোনো পার্থক্য নেই। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের যে রুটটি দেখছি, তাতে ভালো কিছু নেই।’
রিজভী আরও বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয় কীভাবে। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভারতের নীতি শেখ হাসিনার মাধ্যমে দেশে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পরিবর্তিত দেশকে শুধু ভারত ছাড়া সবাই স্বীকৃতি দিয়েছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, কৃষক দল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, রুনেসার সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীর প্রমুখ।
শফিকুল ইসলাম/নাবিল/এমএ/