সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারার চাচা আলিউজ্জামান মন্টুকে (৬২) বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হাত-পা থেঁতলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ মাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা প্রথমে তাকে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত আলিউজ্জামান মন্টু পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিড়ালদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এলাকায় তিনি মন্টু মাস্টার হিসেবে পরিচিত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে আসেন।
মারধরের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওলিউজ্জামান মন্টু বলেন, ‘আমি সকালে টিস্যু কিনতে বিড়ালদহ বাজারে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন মিলে আমাকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। এতে আমার হাত-পা থেঁতলে যায়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিড়ালদহ এলাকার বিএনপি সমর্থক মিঠুন, আহসান হাবীব, আহাদ আলী, জুয়েল, ওয়াসিমসহ অজ্ঞাত কয়েকজন আমার ওপর হামলা করেছেন। মারধরের সময় বাজারের অনেকেই দেখেছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপির সমর্থক মিঠুন বলেন, আমার মামা মারা যাওয়ায় আমি সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। কাউকে মারধরের প্রশ্নই আসে না! যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে তারাই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার বাবা এবং ভাইকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা মন্টু মাস্টার এলাকায় ‘শিক্ষামন্ত্রী’ নামে পরিচিত। এই মন্টু মাস্টার চাকরির নামে ৩ শতাধিক মানুষের টাকা মেরে দিয়েছে। ফলে তার শত্রুর অভাব নাই।’
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত মন্টু মাস্টারকে ধরে পিটিয়ে জখম করেছে বলে শুনেছি। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে তার আগেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, আবদুল ওয়াদুদ দারা সবমিলিয়ে তিনবার রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তখন দুই উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্যে মন্টু মাস্টার জড়িয়ে পড়েছিলেন। দারার হয়ে তিনিই সবকিছু দেখাশোনা করতেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজিরও অভিযোগ আছে। আবার টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ারও অভিযোগ আছে। দুই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘পুঠিয়া-দুর্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।