ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হননি। তার দলও কোনো ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়নি। ফলে শেখ হাসিনাকে আমরা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারি না।’
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগর শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত নগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি প্রফেসর মো. লোকমান হাকীম। সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের।
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ভারতে গিয়েছিলেন। ক্ষমতায় টিকে থাকবে বলে ১০টি চুক্তি করেছিলেন। চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ হতো ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য।’
তিনি বলেন, ‘৩৮০ কিলোমিটার ট্রানজিট সড়ক দিয়ে দিয়েছেন, সেই সড়ক দিয়ে কে যায় কী যায়, তাদের সেনাবাহিনী কী করে, কেউ কোনো খবর নিতে পারবে না।’
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থান প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ চায় একটি সুন্দর বাংলাদেশ। এ জন্য দরকার একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম উপাদান হলো জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকার গঠনের সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা হলো পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিতে নির্বাচন। এ পদ্ধতি রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য আনবে। একক দলীয় আধিপত্যবাদ এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে পিআর পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহু আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার আগে ও পরে তাদের অধিকার আদায় ও ইনসাফের জন্য বহু রক্ত দিয়েছে। কিন্তু তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য কখনো পূরণ হয়নি। মুক্তির লক্ষ্যে সাতচল্লিশে রক্ত দিয়েছে, কিন্তু পেয়েছে পাকদের শোষণ। একাত্তরে আবার রক্ত দিয়েছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। যে যখন ক্ষমতায় গিয়েছে তখন সে লুটেরা, দখলবাজ, ফ্যাসিস্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জাতি এগুলো আর চায় না।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় শায়েখে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থান হাজারও ছাত্র-জনতার ত্যাগের ফসল। আমরা ইসলামী আন্দোলন চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজপথে থাকা একটি দল হিসেবে বলছি, দেশের স্বার্থ ব্যতিরেকে ভবিষ্যতে কেউ যদি ভিন্ন পথে চলে, আমরা তার বিষদাঁত উপড়ে ফেলব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বরিশাল মহানগর সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহাবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সহসভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাসির আহমেদ কাওসার, মাওলানা মুহাম্মাদ জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান, প্রিন্সিপাল মো. ওমর ফারুক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দলটির নগর, থানা নেতারাও বক্তব্য রাখেন।