আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, প্রফেসর ইউনুস ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব যদি অন্য কারো ওপর পরতো, তাহলে ভারত এবং আওয়ামী লীগ আমাদেরকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়ে দিতো। ভারত যে পরিমাণ মিস ইনফরমেশন, ডিজ ইনফেকশন, বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা, মাইনরিটি নির্যাতনের নাটকের গল্প দেখিয়েছে, আমরা বাইরের দেশের কাছে খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়তাম। প্রফেসর ইউনুস থাকাতে সারাবিশ্বকে এই গালগল্প বিশ্বাস করাতে পারে নাই। এটা আমাদের বড় একটা ইতিবাচক জায়গা। ওনার মতো একজন বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বকে আমরা আমাদের সরকারের সম্মুখভাগে পেয়েছি।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর জেলা আইনজীবি সমিতির হল রুমে জনসভার আগে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা ও ভারতের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি যারা করবেন, তাদের অবস্থা ধানমন্ডি ৩২ এর মতো হবে। বাংলাদেশে রাজনীতি হতে হবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটিকে ধারণ করে। আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে হবে।
তিনি বলেন, পুনর্বাসনের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কাজ করবে না। সময় বদলে গেছে। এটা ভারতকে বুঝতে হবে। যত তারাতারি বুঝবে, তত তাড়াতাড়ি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা ভালো হবে, উন্নত হবে।
তিনি আরও বলেন, যে লেভেলের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তাতে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছে লাখ লাখ মানুষ খুন হবে। কেউ খুন হয়নি। ২০১৩-১৪ সাল থেকে ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত ৪৫ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট মানি আসার কথা, কিন্তু এই টাকাটা দেশে আসেনি। এই টাকাটা পাচার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে যে অবস্থায় রেখে গেছে, দেশে দুর্ভিক্ষ ও গৃহযুদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। দেশকে সেই দুর্ভিক্ষ ও গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। এটাই অন্তবর্তী সরকারের অবদান। সরকারের এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগের আমলে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে শুধু ব্যাংক থেকে। কিন্তু এই লুট এখন বন্ধ আছে। অন্তবর্তী সরকারের গত ৬ মাসে ব্যাংক থেকে কোনো টাকা পাচার হয়নি। আমাদের রেমিট্যান্স বাড়ছে। রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে। রপ্তানি বাড়ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন, শেরপুর জেলা এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, সদস্য সচিব মুকসিতুর রহমান হীরা, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদলসহ জেলা কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। পরে শহরের চকবাজারস্থ শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে এবি পার্টির এক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মুরাদ/মাহফুজ