‘দেশে যত দ্রুত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা যাবে ততই মঙ্গল হবে’ মন্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ মীরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ‘গণঅভ্যূত্থান, গণপ্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন ‘ জনগণের প্রতি যদি আমাদের আস্থা থাকে, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে বর্তমান সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র উপায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।’
দেশের জনসাধারণ নিজেদের সংস্কার করার আগ পর্যন্ত দেশের সংস্কার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা পুণর্ব্যক্ত করে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ সুগম করার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কার শেষ হওয়ার আগে অন্য পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না- এ ধরণের মানসিকতা যুক্তিসংগত নয় জানিয়ে মঈন বলেন, ‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমি আজ যা সংস্কার করলাম আগামীকাল সেটি আবার সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।’
এ সময় সংস্কারের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ বহমান রাখার পক্ষে মত দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারে পদধারী ছাত্রদের ছাত্রত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মঈন।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনেকেই বিএনপির সদস্য বলে নিজেদের পরিচয় দেননি। অংশগ্রহণ করেছিলেন সাধারণ ছাত্র হিসেবে। এই সত্য বুঝতে না পারলে আমরা সংকট থেকে বের হতে পারবো না।’
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা কামনা করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম হায়দারসহ বিশিষ্টজনরা।
শফিকুল ইসলাম/নাইমুর/