আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম দুরাবস্থার দায় নিয়ে পদত্যাগ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, চরমোনাই পীর।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের ৬ মাসের বেশি সময় পার হলেও আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের কাছে মানুষের প্রধান চাওয়া হল নিরাপত্তা। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, পুলিশ প্রশাসনে স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে, যারা আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ হয়তো নিচ্ছে না। কিন্তু সরকারকে মনে রাখা দরকার এই সরকার দেশের কোটি কোটি বিপ্লবী জনতা সমর্থিত সরকার। যে জনতা স্বৈরাচারের পালের গোদাকে দেশ ছাড়া করেছে। ফলে স্বৈরাচারের কোনো অবশিষ্টাংশ প্রশাসনে থেকে গেলে তাদেরকে এতো দিনেও ছুড়ে ফেলা গেল না কেন? কেন স্বৈরাচারের অপকর্মেরহোতাদের এখনো সমূলে উচ্ছেদ করা যায়নি? কোথায় দুর্বলতা? জনগন জানতে চায়।
তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী শক্তি পরিকল্পনা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করতে পারে। তবে সেটা প্রতিহত করতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতেই হবে। স্বৈরাচারেরমূল হোতা উচ্ছেদ হলেও তার সাংগ-পাঙ্গরা এখনো দেশে ও প্রশাসনে রয়েছে। তারা দেশকে ধ্বংস করার হীন কৌশল অব্যাহত রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য দেখাদিলে তারা আবারও গেড়ে বসার চেষ্টা করবে। তার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। তাই নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করুন কিন্তু রেষারেষি ও হানাহানি না করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকায় এলাকায় সব দলের সমন্বয়ে নাগরিক প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার প্রস্তাব করে চরমোনাই পীর বলেন, স্বৈরাচারের পতন হয়েছিলে আমাদের পারস্পরিক ঐক্য ও লড়াইয়ের মাধ্যমে। আবারও যদি আমরা সম্মিলিতভাবে ঐক্য গড়ে তুলি তাহলে আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো হতে বাধ্য।
শফিকুল/সিফাত/