চাঁদাবাজিসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার দায়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল ও কৃষক দলের চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কার হওয়া নেতারা হলেন- জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারুল আজিম প্রকাশ আজম, পৌর তাঁতী দলের সভাপতি আলী আজগর বাদশা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য অনতোষ দাশ, জেলা কৃষক দলের ক্ষুদ্র ও সমবায় সম্পাদক সুমন চাকমা প্রকাশ ডাক্তার।
এর আগে ১৬ জানুয়ারি চাঁদাবাজি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলীসহ ছাত্রদল যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নেতার পদ-পদবি স্থগিত করে জেলা বিএনপি। আর গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রায় একই অভিযোগে বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সদস্য মো. নাছির, বাঘাইছড়ি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বখতেয়ারকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কার চিঠিতে বলা হয়েছে- এ নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে নিজ স্বার্থে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, মানুষকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে দলের গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা মোতাবেক অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের/অঙ্গসংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।
এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এস এম শফিউল আজম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- দুই সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম মিন্টু ও মো. নুরুজ্জামান। তদন্ত কমিটিকে এসব অভিযোগের সরেজমিনে তদন্ত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে জেলা বিএনপির কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পৃথক এ চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী সুখী নীলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা জনগণকে জিম্মি করে টাকা নেওয়া, এলাকায় চাঁদাবাজি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র, বিভিন্ন সংস্থা ও জনগণ থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে জানা যায়। যার ফলে দলের কিছু নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি দলের জন্য বিব্রতকর ও মানহানিকর।