দেশের আবাল বৃদ্ধ-বনিতা সব জায়গায়, ঘরে, রাস্তায়, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে এমন একটা দেশ গড়তে চাই। আমরা এমন একটা দেশ দেখতে চাই যেখানে চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ হবে না। আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই। আল্লাহ যতদিন আমাদের তৌফিক দিবেন ততদিন আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে চাই দেশকে এইভাবে দেখার জন্য বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আমাকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়েছিল। কুলাউড়ার অনেক মানুষকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কুলাউড়ার কোনো মানুষ সাক্ষী দেয়নি। যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১২ বছর। জামায়াত বা শিবির করার আগে আমি যে ছাত্র সংগঠন করতাম এখন এ সংগঠনের নাম নিতে লজ্জা হয়।'
তিনি বলেন, 'বিগত জালিম সরকারের আমলে আমরা ১১জন শীর্ষ নেতা-কর্মীকে হারিয়েছি, ৫ শতাধিক মানুষ পঙ্গু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ হামলা মামলার শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সাড়ে ১৩ বছর সারাদেশে দলীয় কার্যালয় সিলগালা করে বন্ধ রাখা হয়েছিল। জামায়াতের নিবন্ধনও কেড়ে নেওয়া হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা অপদার্থ শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না। শিক্ষিত হয়ে যাতে কেউ ডাকাতে পরিণত না হয় সেই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না। যাদের অন্তরে মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই এরকম ডাক্তার, শিক্ষক, আইনজীবী চাই না। আমরা চাই প্রকৃত মানুষ। যারা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবেন, তাদের প্রয়োজন। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে হিন্দু-মুসলিম কিংবা মেজরিটি-মাইনরিট বলে কিছু থাকবে না।'
জামায়াতের এ নেতা বলেন, 'দিশেহারা সরকার আমাদের নিষিদ্ধ করেছিল তখন আমি দোয়া করেছিলাম যারা হকের ওপর আছে আল্লাহ যেন তাদের সহযোগিতা করেন। যারা হকের ওপর নয় আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেন।'
পুনর্মিলনীতে কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলালের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগরীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী প্রমুখ।
পুলক/মেহেদী/