পরিবেশবান্ধব নগর গঠনের বিষয়টি বড় রাজনৈতিক দল এবং যারা ক্ষমতায় যাবে, তাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের মধ্যে জবাবদিহি থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
শনিবার (১৭ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন- ক্যাপস, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নাগরিক বিকাশ ও কল্যাণ (নাবিক) এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
পরিবেশ ঠিক রাখতে দেশে আগে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে সাকি বলেন, রাজনৈতিক মিত্র হলেও তারা যদি দুর্নীতি এবং ব্যক্তিস্বার্থে ব্যস্ত থাকেন তাহলে তাদেরও সমালোচনা করতে হবে। তবে পরিবেশ নিয়ে সবার আগে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হলেই বিষয়টি দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে। পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে রাজনৈতিক দলগুলোও সচেতন হবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে আইন থাকলেও তা কার্যকর হয় না। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্ম কথার সঙ্গে কাজের মিল দেখতে চাইবেন। প্রকৃতি ও পরিবেশের উন্নয়নে পরিকল্পনা করে এগোনোর আহ্বান জানান সাকি।
পরিবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সবুজ নগরায়নের নামে বিভিন্নভাবে লুটপাট হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখেনি। গাছ লাগানোর পরিবর্তে গাছ কেটেছে দলটি। ভবিষ্যতে তাই পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও উন্নয়নের নামে সড়ক খোঁড়াখুড়ি হচ্ছে। এসব করলে রাস্তায় ধুলাবালি বাড়ে। রোগব্যাধি হয়। এসব ঠিক করার কোনো নমুনা নেই। পরিবেশ রক্ষা করে বায়ুদূষণ রোধ করা গেলে এ-সংক্রান্ত রোগব্যাধি কমে আসবে। পরিবেশ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভার পরিবেশ রক্ষায় লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। পরিবেশ রক্ষায় তিনি মূল লক্ষ্য হিসেবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বিষয়গুলো হচ্ছে- বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিবেশবিষয়ক চিন্তা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন; পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে নীতিগত উদ্যোগ ও বাধা চিহ্নিত করা; নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজ অবকাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ; যুবসমাজ ও নাগরিক সমাজকে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করা।