ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়
Nagad desktop

নির্বাচনের দিনক্ষণ ইস্যু: রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ০৯:১৬ এএম
নির্বাচনের দিনক্ষণ ইস্যু: রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে
খবরের কাগজ ইনফো

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটগল্পের সংজ্ঞা নির্ধারণ প্রশ্নে বলেছিলেন, ‘শেষ হয়ে হইল না শেষ।’ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমঝোতার কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত আটকে আছে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে। বিএনপি বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতেই হবে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বক্তব্য আগের অবস্থানেই আছে। জাপানের টোকিওতে ‘ফিউচার অব এশিয়া’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘নির্বাচন ডিসেম্বর অথবা সর্বোচ্চ জুনে অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে একটু বাড়তি যোগ করে তার নতুন বক্তব্য সামনে এসেছে। তাহলো, শুধু একটি দলই ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। এই বক্তব্য তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে গতকাল জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তিই দেশে নির্বাচন দিতে চান না।’ দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের মধ্যে আপাতত সমঝোতার কোনো পথ দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সমঝোতা না হলে দেশে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সবার শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি। আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হবে, দ্রুত সেসব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুত জুলাই সনদ প্রস্তুত করতে হবে। এরপর নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।’ 

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সরকারের সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ টালমাটালের দিকে ধাবিত হবে। সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ একটা অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। এর দায়দায়িত্ব বিএনপিকে বহন করতে হবে। ফলে বিএনপির জন্য কিছুদিন ধৈর্য ধারণ করা হবে বাঞ্ছনীয়।’ 

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের দুই সপ্তাহ পর থেকেই বিএনপি নির্বাচনের দাবি তুলে আসছে। কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে গেলেও সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার জরুরি। দায়িত্ব নেওয়ার পর একদিনের জন্য ড. ইউনূসকে শান্তিতে কাজ করতে দেয়নি সাধারণ জনগণ। প্রতিদিন বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে। ড. ইউনূস ব্যর্থ হলে, ব্যর্থ হবে বাংলাদেশ। ড. ইউনূস যদি নির্বাচন না দিয়ে চলে যান, তখন কী হবে? তখন দেশ চরম অনিশ্চয়তা ও চরম অরাজকতার দিকে ধাবিত হবে। সংকট আরও ঘনীভূত হবে। পরিস্থিতি ভীষণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।’

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের শপথকে কেন্দ্র করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান-সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের একধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ড বর্তমানে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্রমতে, বিএনপির হাইকমান্ডের পরামর্শে প্রায় দেড় সপ্তাহ পর রাস্তায় মিটিং-মিছিল কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন ইশরাক হোসেন। বিএনপির আশা ছিল, সরকার ইশরাকের শপথ পড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। এ ছাড়া দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি। 

সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড সরকার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন হার্ডলাইন কর্মসূচি থেকে সরে যায়। এরপর সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের আলোচনায় টানাপোড়েন কিছুটা দূর হয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। প্রথমত, প্রধান উপদেষ্টা জাপানে গিয়ে ভাষণে বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। দ্বিতীয়ত, ইশরাকের শপথ গ্রহণ এখনো ঝুলে আছে। তৃতীয়ত, দুই ছাত্র উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে বিএনপি আবারও আস্তে আস্তে কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। জনমনে স্পষ্ট হয়েছে- ইশরাক আবার তার শপথের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এ ছাড়া গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছেন। বিশেষ করে গত ২৮ মে বুধবার তারুণ্যের সমাবেশে তারেক রহমান বলেছেন, আমি আবারও বলছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। এদিকে জাপানে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। প্রধান উপদেষ্টার এমন অনড় বক্তব্যের পরই দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়নের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে বিষয়টি আরও জটিল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারে। 

নির্ভরযোগ্য আরেকটি সূত্র জানায়, ঈদের আগে অথবা শিগগিরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার। ওই ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেন। এ ছাড়া ওই ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা কী বলেন, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছু। বিএনপির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সবাই প্রধান উপদেষ্টার ওই ভাষণের দিকে তাকিয়ে আছেন। 

জানা গেছে, টানাপোড়েন দূর করার উদ্যোগের সময় বিএনপি আশা করেছিল, প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে নির্বাচনের তারিখ না বললেও জুলাই সনদের কবে ঘোষণা হবে, সংস্কার কবে নাগাদ শেষ হবে, বিচারপ্রক্রিয়া কবে শেষ হবে- সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মাস উল্লেখ করে অন্তত নির্বাচনের একটা ন্যূনতম রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন। কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো আশাও দেখছে না বিএনপি। ফলে কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে বিএনপি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইন্টেরিম রিমেম্বার, ইলেকশন ইন ডিসেম্বর’ ক্যাম্পেইন করছে বিএনপি। 

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে বললেন ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। এরপর তার প্রেস সচিব বললেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আমরা কার কথা বিশ্বাস করব। কোনো দিনক্ষণ বলেননি, ভরসা করা কঠিন। আবার গত কয়েক দিন পদত্যাগ নাটক করলেন।’ তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে হবে, এটা তো কোনো অন্যায় দাবি নয়। গত ১৭ বছর এই নির্বাচনের জন্য আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দলের বহু নেতা-কর্মী গুম-খুন, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের (সরকার) গত ১৭ বছরে অবদান কী?’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমা ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে- আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচন নয়, সংস্কার কার্যক্রমের টাইম নির্ধারণ করা জরুরি। নির্বাচন নিয়ে সব দল আলোচনা করছে, সেই তুলনায় সংস্কারের ব্যাপারে তেমন আলোচনা হচ্ছে না। এতে সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল আগের কার্যক্রমের পরিবর্তন ঘটানো। রাজনৈতিক দলগুলোর ম্যান্ডেট আর অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট সম্পূর্ণ আলাদা। সংস্কার কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়ে গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কার করা খুবই জরুরি। কিন্তু সংস্কারের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো পক্ষপাতিত্ব করছে। এর ফলে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ কাঠামো থেকেও আগামী দিনে আরও বড় ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটতে পারে।’

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে অপহরণের অভিযোগকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতারা।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আয়োজনে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা আড়াল করতে গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই পৌর বিএনপি এ আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব কাওছার আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

লিটন সরকার/রিফাত/

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আনন্দ মিছিলে জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদাত মানু, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুর রহমান জামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান হোসেনসহ জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

নেতারা বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করবে এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আনন্দ মিছিলে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সুমন/রিফাত/

জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমন করা যাবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

রিফাত/

ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড হওয়ার পর শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভিডিওতে দলীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান তূর্ণের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

ফয়সল/রিফাত/