ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

জাপায় ফের অস্থিরতা, সামাল দিতে তৎপর জি এম কাদের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৫, ১০:৩৮ এএম
জাপায় ফের অস্থিরতা, সামাল দিতে তৎপর জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে (জাপা) নতুন করে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সর্বময় ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি দলের আয়-ব্যয় নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া, ইচ্ছামতো দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যে কাউকে ঠাঁই দেওয়া বন্ধ করা এবং বিভিন্ন সময়ে দল ছেড়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেতাকে ফিরিয়ে আনার দাবি ওঠায় সম্প্রতি এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে, দলের দু-একজন কো-চেয়ারম্যান ও বর্তমান মহাসচিব এসব দাবি উত্থাপন করেছেন। 

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়ারম্যান জি এম কাদের নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি কো-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। পাশাপাশি দল থেকে বহিষ্কৃত বেশ কয়েকজন নেতাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে কিছুটা নমনীয় হলেও আরও কিছুদিন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে সর্বশেষ গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাপা চেয়ারম্যানের উদ্যোগের কারণে দলে ভাঙনের মতো যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। দলটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী মনে করেন, জি এম কাদেরকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টির পরিচালনা সম্ভব নয়। তা ছাড়া কাদের ছাড়া দলে বর্তমানে এমন কোনো নেতাও নেই, যার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি চলতে পারে। পাশাপাশি দলে এমন আলোচনাও আছে, নিজেদের রক্ষা করার জন্য জাপার কিছু নেতা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে চাইছে। তবে দল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জবাব দিতে জি এম কাদের শিগগির সংবাদ সম্মেলন করবেন। 

যা নিয়ে দ্বন্দ্ব 

জাপার গঠনতন্ত্রে দলের চেয়ারম্যানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান যেকোনো পদে যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ, অপসারণ ও স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই ধারার অপপ্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে দলের সব পর্যায়ের নেতাদের। দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মতে, এ ধারাটি একনায়কতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক। এ ধারায় তো পার্টি চলতে পারে না। যখন-তখন চেয়ারম্যান যে কাউকে বের করে দিতে পারেন। তাই আমরা পার্টির সংস্কার চাই।

এদিকে চেয়ারম্যান জি এম কাদের নিজেও এই ধারাটির বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের পরামর্শ শুনছেন। জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে বারবার ভাঙন এসেছে, অনেকে দলকে ভেঙে ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র করেছেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দলের নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতার বিধান রাখা হয়েছে। জি এম কাদের এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, এমনটি আমরা মনে করি না। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি পার্টি ফোরামে আলোচনা করেন। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের পরামর্শ ছাড়া তিনি কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেন না।’

চলতি জুন মাসে জাতীয় পার্টির যে দশম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে জাপায়। আগামী ২৮ জুন ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অধিবেশন আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু পরে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণে হল বরাদ্দ বাতিল করা হয়। কো-চেয়ারম্যানরা চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বদলে কাকরাইলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কাউন্সিল আয়োজনের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, জি এম কাদের সেই দাবিতে সায় দেননি। তাদের অভিযোগ, জাপা চেয়ারম্যান কো-চেয়ারম্যান বা প্রেসিডিয়াম সদস্য কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে এই সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
গত ১৭ জুন বিকেলে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে সে কথা প্রকাশ্যে জানান। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, ২৮ জুনের জাতীয় সম্মেলন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের গঠনতন্ত্র ও আরপিও অনুযায়ী বৈধতা নিশ্চিতের পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সম্মেলনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে গণতান্ত্রিকভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা দলীয় গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

জানা গেছে, দলের নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ের মধ্যে সুবিধাজনক স্থানে জাতীয় পার্টি কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন করবে। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। এ নিয়ে জাপার কিছু নেতার ক্ষোভ রয়েছে। 

তারা মনে করছেন, চেয়ারম্যানের এত কড়া বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি। 

জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার কথা দল থেকে বলা হলেও তা করা যায়নি। জি এম কাদেরকে রয়ে-সয়ে মন্তব্য করতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। 

জাপায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন ফের দানা বাঁধছে, তখন জাপার কো-চেয়ারম্যানরা দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। গুরুতর সাংগঠনিক অপরাধে অভিযুক্ত নন; এমন গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতাকে ফিরিয়ে আনতে কো-চেয়ারম্যানরা একযোগে চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে অনুরোধ জানিয়েছেন। 

জানা গেছে, ৮১ বছর বয়সী রওশন এরশাদ বার্ধক্যজনিত কারণে এখন এতটাই অসুস্থ যে তার রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা খুব কম। রওশন এরশাদ অনুসারী দলটির কো-চেয়ারম্যান সুনীল শুভ রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। তিনি রাজনীতিতে আসবেন এমন সম্ভাবনা নেই। তার ছেলে সাদ এরশাদও রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রওশনপন্থি দলের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশিদের সঙ্গেও কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া চাঙা করার চেষ্টা করছেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘অনেক তো হলো। এবার সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই।’ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারা সবাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত। আমরা যদি সবাইকে ফিরিয়ে এনে দলকে আবার ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, তবে তা দলের জন্যই মঙ্গল হবে।’

রওশনপন্থি নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘আমরা এতদিন সবাই একসঙ্গে রাজনীতি করছি। আমাদের রাজনীতির আদর্শিক জায়গা তো এক। আমাদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ আছে।’

তবে জাতীয় পার্টি থেকে জি এম কাদেরকে মাইনাস করা বা বের হয়ে গিয়ে নতুন দল গঠন করার প্রসঙ্গ উড়িয়ে দেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। 

তিনি বলেন, ‘সে রকম কিছু করার প্রশ্নই আসে না। আমরা আগে কাউন্সিল অধিবেশন করব। আমাদের লক্ষ্য একতা। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে আমাদের দলটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দলে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে চাই।’

জি এম কাদের খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি এখনই কোনো মতামত জানাব না। সংবাদ সম্মেলন করব শিগগির। সেখানেই আমি সব বলব।’

সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন
সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের (রামগতি ও কমলনগর) সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

শনিবার (২০ জুন) রাত ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

রবিবার (২১ জুন) বাদ আসর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জানাজার নামাজ শেষে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারস্থ পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

এ সময় রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), রামগতি থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দেশের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে মোশাররফ হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিএলএফ-এর নোয়াখালী ও হাতিয়া অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রামগতি-কমলনগর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে রামগতিবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।’

তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

রফিকুল/রিফাত/

গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। 

ভিডিওতে পুলিশের উদ্দেশে কথিত হুমকিমূলক ‘সামনে আসবি না, মেরে ফেলব’ বক্তব্য শোনা যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে মিছিলের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে হুমকিসূচক বক্তব্য দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহল, সাধারণ মানুষ এবং অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মিছিলটি বাসন থানার শেষ সীমানা হয়ে মালেকের বাড়ি গরুর হাটে এসে শেষ হয়। 

একই সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি-দাওয়া এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মিছিলটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হতে পারে। তবে ভিডিওতে বক্তব্যদানকারী ব্যক্তির পরিচয়, মিছিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলকারীদের পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা দাবি করা হলেও সেসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির পরিচয়ধারী কয়েকজন নেতা-কর্মীও ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভাইরাল ভিডিও, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত।

পলাশ/রিফাত/

বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু
আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেনন। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় ভবনের ছাদ থেকে পড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা রাশেদ খান মেননের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের খানবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাশেদ খান মেনন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত প্রকৌশলী হেমায়েত উদ্দিন বাদশার ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার বেলা তিনটার দিকে কাউনিয়া থানার পুলিশের ৯-১০ সদস্যের একটি দল রাশেদের বাসায় যায় তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে। এ সময় তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে বাসার ছাদে উঠে নিচে লাফ দেন বলে জানা যায়।

এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক নিকটাত্মীয় জানান, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা ও পুলিশের হয়রানির আশঙ্কায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলেও ওই স্বজন জানান।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে ওই সময় তিনি বাসায় না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ওই রাতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক খান ও ফয়েজ খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাশেদ খান মেনন বাসায় অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশের পুনরায় অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

সবুজ/রিফাত/

মাদক সেবনের ভিডিও কাণ্ডে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি‎

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
মাদক সেবনের ভিডিও কাণ্ডে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি‎
ছবি: খবরের কাগজ

ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি সাইদুলকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। গঠন করা হয় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। ‎‎

আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির কার্যক্রম এখন থেকে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হবে।

সাগর কুমার/তামান্না রুপা/

সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই
মোশারফ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর -৪ আসনের (রামগতি ও কমল নগর)সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

শনিবার (২০ জুন) রাতে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বাদ আসর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা শেষে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারস্থ পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দেশের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে মোশারফ হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিএলএফ-এর নোয়াখালী ও হাতিয়া অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/