যে লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো হয়েছিল, সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর অবিরাম লড়াই করেছে বিএনপি। লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। আমাদের দাবি শুধু সরকার পতন ছিল না।’
বুধবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় শেরেবাংলার নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ফ্যাসিবাদের পতন প্রয়োজন ছিল। কাজেই এক দফা ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যে অধিকার থেকে বহু বছর দেশের মানুষ বঞ্চিত ছিল। দাবির প্রথম অংশ পূরণ হয়েছে। ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে লক্ষ্যে আমরা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটালাম, সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয় নাই।’
তিনি বলেন, ‘এখনো দেশের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। সেই কারণে আমরা মনে করি এই মুহূর্তে প্রধান কাজ জনগণের শাসন কায়েম। আর এটা শুধুই ভোটের মাধ্যমে সম্ভব, নির্বাচনে মাধ্যমে সম্ভব।’
বিএনপিও আওয়ামী লীগের মতো স্বৈরাচারী হবে- একটি রাজনৈতিক দলের এমন মন্তব্যের জবাবে বিএনপির এই অন্যতম সিনিয়র নেতা বলেন, ‘প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে। দেশের সব রাজনৈতিক দল আমাদের সমর্থন করবে বা আমরা তাদের আপন ভাবব এমন মনে করার কারণ নেই। অনেক রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রক্রিয়ায় ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন কথা বলতে পারেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি জনগণ ভালো করেই জানে কারা স্বৈরাচার, কারা স্বৈরাচারের সমর্থন যুগিয়েছে আর কারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই করেছে।’ একটা পক্ষ ভোটের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চিন্তা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করা যায়নি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই তারেক রহমানকে দানব বানিয়ে দিয়েছিলেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, 'এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বাবলু, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
শফিকুল/মেহেদী/