অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও চরিত্র বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম চরমোনাই পীর।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির ক্ষণে দাড়িয়ে থাকলেও এখনো জুলাই ঘোষণা ও রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক জায়গায় একমত হওয়া যায়নি। বিচারও দৃশ্যমান করা হয়নি। যে চাওয়া নিয়ে আমাদের তরুণরা গত জুলাইয়ে প্রাণ দিয়েছে, এক বছর পরে এসে মনে হচ্ছে তাদের চাওয়া হতে আমরা অনেক দূরে অবস্থান করছি।
বুধবার (২ জুলাই) এক বিবৃতিতে রেজাউল করিম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাকেন্দ্রিকতা প্রকট হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি এখনো চলমান। চাঁদার দাবিতে রাতভর নির্যাতন করা, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করার মতো বর্বরতা এখনো বিদ্যমান। অথচ নির্বাচন নির্বাচন করে সংস্কার ও বিচারের দাবিকে আড়াল করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ও নেতৃত্বে হয় নাই। জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ছাত্রদের শুরু করা একটি আন্দোলন যেখানে গণমানুষ সম্পৃক্ত হয়েছে এবং একটা পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা সম্পৃক্ত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের রন্দ্রে রন্দ্রে জেঁকে বসা অনিয়মকে দুর করা, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া এবং দেশ থেকে চিরতরে স্বৈরতন্ত্রকে উৎখাত করা। তাদের আত্মত্যাগ প্রচলিত রাজনৈতি সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও একটি বিক্ষোভ ছিল।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, পিআর পদ্ধতি মতো একটি বিষয় অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হলেও কেবল একটা দলের জন্য বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। অথচ স্বৈরতন্ত্র রোধে পিআর একটি পরীক্ষিত ও উত্তম পদ্ধতি। স্বৈরতন্ত্রের রাস্তা খোলা রেখে কারো চাপে যদি এই সরকার নির্বাচন আয়োজন করে তাহলে ইতিহাসে তারা চির অপরাধী হয়ে থাকবে। কারণ জুলাই রাষ্ট্র সংস্কারের যে মহাসুযোগ তৈরি করেছে তা জাতীর জীবনে পুনরাবৃত্তি হবে এমন আশা করা যায় না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে, স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে স্বয়ংক্রিয় হতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি সুষ্ঠু ও সুন্দর হতে হবে।
শফিকুল ইসলাম/