যে সমাজে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাবোধ করে না, সে সমাজকে সভ্য সমাজ বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘সনাতন ধর্ম মতে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল; যাতে সমাজে সুশাসন থাকে, আর সুশাসন থাকলেই মানুষের আত্মায় শান্তি মেলে। এখন আমাদের দেশে চলছে দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমন।’
এ সময় জি এম কাদের বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নাকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকে। এখন যাকে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করায় যেন কোনো অপরাধ নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মের অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে না। কিন্তু তাদের আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। হিন্দু সমাজের সদস্যরা অনেক বেশি দেশপ্রেমিক, তারা বাংলাদেশকে নিজের দেশই মনে করে। হিন্দু সমাজের যারা দেশ ত্যাগ করে ভারতের গেছে, তারা বাধ্য হয়েই গেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ভাইদের দেশে রাখতে পারিনি।’
সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে জাতীয় পার্টি দ্বিধা করবে না বলে জানান জি এম কাদের।
দেশে বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনায় জি এম কাদের বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে দাগি আসামি ও খুনিদের জেলখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অসহায় ও নিরাপদ মানুষদের জেলখানায় আটকে রাখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে মিথ্যা মামলার বিষয়ে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের জামিন হচ্ছে না।’
একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব অভিযোগ করেছেন অন্তত সরকারের ৮ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।
এ বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টাকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি এবং জানি যে তারা অত্যন্ত সৎ। কিন্তু, তাদের ডিপার্টমেন্টে যদি হরিলুট চলে তাহলে উপদেষ্টারা কি দুর্নীতির দায় এড়াতে পারেন? দেশ এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সর্বময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান অ্যাকশন নেই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির যেসব নেতার কারণে দেশের মানুষ আমাদের দোসর বলে আখ্যা দেয়, সেই নেতারাই এখন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জিএম কাদেরবিহীন জাতীয় পার্টি গড়তে চায়। আমি সরকারের সব অপকর্মের সমালোচনা করছি, তাই সরকারের একটি অংশ জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতাদের লাঙল প্রতীক দিতে চাচ্ছেন বলে আমাদের দল থেকে বহিষ্কৃত নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন। আমাদের সৌভাগ্য জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে। কিছু ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এবং গঠনতন্ত্র অমান্য করে কাউন্সিল করলেই দলের নেতৃত্ব পাওয়া যায় না।’
তুষার ঘোষের সভাপতিত্বে ও সমরেশ মণ্ডল মানিকের সঞ্চালনায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, যুব ইউনিটের সভাপতি শিবু সাহা, সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাস, বাংলাদেশ ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, জাতীয় হিন্দু মহাসংঘের উপদেষ্টা কৃষ্ণ নন্দি ও মানবাধিকার নেত্রী সুমা বড়াল প্রমুখ।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/