ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি
Nagad desktop

যে সমাজে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়, তা সভ্য নয়: জি এম কাদের

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৪ পিএম
যে সমাজে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়, তা সভ্য নয়: জি এম কাদের
বক্তব্য রাখছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: খবরের কাগজ

যে সমাজে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাবোধ করে না, সে সমাজকে সভ্য সমাজ বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। 

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সনাতন ধর্ম মতে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল; যাতে সমাজে সুশাসন থাকে, আর সুশাসন থাকলেই মানুষের আত্মায় শান্তি মেলে। এখন আমাদের দেশে চলছে দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমন।’

এ সময় জি এম কাদের বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নাকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকে। এখন যাকে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করায় যেন কোনো অপরাধ নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মের অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে না। কিন্তু তাদের আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। হিন্দু সমাজের সদস্যরা অনেক বেশি দেশপ্রেমিক, তারা বাংলাদেশকে নিজের দেশই মনে করে। হিন্দু সমাজের যারা দেশ ত্যাগ করে ভারতের গেছে, তারা বাধ্য হয়েই গেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ভাইদের দেশে রাখতে পারিনি।’ 

সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে জাতীয় পার্টি দ্বিধা করবে না বলে জানান জি এম কাদের। 

দেশে বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনায় জি এম কাদের বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে দাগি আসামি ও খুনিদের জেলখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অসহায় ও নিরাপদ মানুষদের জেলখানায় আটকে রাখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে মিথ্যা মামলার বিষয়ে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের জামিন হচ্ছে না।’

একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব অভিযোগ করেছেন অন্তত সরকারের ৮ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। 
এ বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টাকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি এবং জানি যে তারা অত্যন্ত সৎ। কিন্তু, তাদের ডিপার্টমেন্টে যদি হরিলুট চলে তাহলে উপদেষ্টারা কি দুর্নীতির দায় এড়াতে পারেন? দেশ এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সর্বময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান অ্যাকশন নেই।’ 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির যেসব নেতার কারণে দেশের মানুষ আমাদের দোসর বলে আখ্যা দেয়, সেই নেতারাই এখন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জিএম কাদেরবিহীন জাতীয় পার্টি গড়তে চায়। আমি সরকারের সব অপকর্মের সমালোচনা করছি, তাই সরকারের একটি অংশ জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতাদের লাঙল প্রতীক দিতে চাচ্ছেন বলে আমাদের দল থেকে বহিষ্কৃত নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন। আমাদের সৌভাগ্য জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে। কিছু ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এবং গঠনতন্ত্র অমান্য করে কাউন্সিল করলেই দলের নেতৃত্ব পাওয়া যায় না।’ 

তুষার ঘোষের সভাপতিত্বে ও সমরেশ মণ্ডল মানিকের সঞ্চালনায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, যুব ইউনিটের সভাপতি শিবু সাহা, সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাস, বাংলাদেশ ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, জাতীয় হিন্দু মহাসংঘের উপদেষ্টা কৃষ্ণ নন্দি ও মানবাধিকার নেত্রী সুমা বড়াল প্রমুখ।

জয়ন্ত সাহা/সুমন/

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ভারত কর্তৃক অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বুধবার ( ১৭ই জুন) বিকেল ৫টায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সৌরভ রায়, মনোয়ারুল ইসলাম ও হেমন্ত দাষ। 

সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে।  গত কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের সীমান্তে অবৈধভাবে "পুশইন" করে বাংলাদেশের ভিতরে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতে "অবৈধভাবে" অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশ ইন করে পাঠানোর কথা ভারত দাবি করে আসলেও কার্যত ভারত কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পুশ ইন করার ঘটনা প্রমাণ করে যে ভারতের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।  

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, গত প্রায় দুই দশকের অধিককাল ধরে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনা বিশ্ববাসীর নিকট কোনো অজানা ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মনোভাব বুঝা যায়। তিনি ভারতের সাথে সম্পাদিত হাসিনা-মনমোহন চুক্তি, হাসিনা- মোদী চুক্তি সহ সকল অসম, অধীনতামূলক চুক্তি, সামরিক চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান। 

সৌরভ রায় বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন হয়ে গেল। এই নির্বাচনে ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও শাসক দল বিজেপির পশ্চিম বঙ্গ শাখা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ বিরোধী, মুসলমান বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়েছিলো। এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে সাম্রাজ্যবাদী ভারত রাষ্ট্র, একচেটিয়া বড় পুজির দালাল, উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার নিজ দেশের সম্প্রদায় নির্বিশেষে জনগণের ঐক্যকে বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দাই নিচ্ছে না উপরন্তু সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে। উপমহাদেশের জনগণের ঐক্যে বিভাজন তৈরি করে ভারতে ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করে চলেছে।

সৌরভ রায় বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই প্রতিক্রিয়াশীল ও গণবিরোধী ভূমিকা রুখে দাঁড়াতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা আজ এক গণতান্ত্রিক কর্তব্য । 

মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সীমান্তের জনগণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভারতের মক্কেল রাষ্ট্র বানানোর দিন গত হয়ে গিয়েছে এই বাস্তবতা ভারত সরকারকে বুঝতে হবে।

হেমন্ত দাষ বলেন, ভারতের আরএসএস, বিজেপি প্রভৃতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো একদিকে ভারতে  সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে জনগণের একতা বিনষ্ট করে চলেছে অন্যদিকে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামীসহ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারী দলগুলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করে চলেছে। এরা মাজারে,বাউলগানের অনুষ্ঠানে তৌহিদী জনতার ব্যানারে হামলা চালাচ্ছে।এসবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হেমন্ত দাষ বলেন, মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দেশে দেশ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভয় পায়। এদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

এসএন/

শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল
আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মিছিল করছে বিএনপির একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে মিছিলের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন।

সোমবার (১৫ জুন) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় তার মুক্তির দাবিতে বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যাতে বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন অন্তত পঞ্চাশজন লোক। যেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার, বোরহানমোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, লিটন মুন্সি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।

মিছিল করা যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি আমাদের দলের একজন কর্মী ও সমর্থক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করি। তাই তার মুক্তির দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা। যদি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন তারা রাজনীতি করতে পারবে। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

যদিও বিক্ষোভ মিছিলটি দলের কোনো কর্মসূচি ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা মিছিল করে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা।

এ ব্যাপারে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর বলেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, লিটন মুন্সিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিধান মজুমদার/নাঈম

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। ছবি: খবরের কাগজ
নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
 
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির পদ স্থগিত করা হয়েছে।
 
এর আগে অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
 
অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ’এটি পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। কিছু পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।’
 
এদিকে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সসমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তার পদ স্থগিত করে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ’অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ’সংগঠনের কেউ অনিয়মে জড়িত হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
গাজী ‍আজম/আজহার/

মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা
ছবি:খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল নারী ও তরুণদের, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলবেঁধে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন নারী ও তরুণরা। কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাশা নিয়ে। মাঠজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।

শহরের সৈয়ারপুর থেকে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছি। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

রাজনগরের এক চা শ্রমিক রোকসানা বেগমের কণ্ঠে ছিল বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাপন এখনো কষ্টের। মজুরি বাড়ানো ও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগে তেমন ছিল না। তবে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। তরুণদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় এক সংগঠক বলেন, আগে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। এখন তারা নিজ উদ্যোগে আসছেন। তরুণদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে, এটা ইতিবাচক দিক।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ বলেন, এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ  সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মিছিলটি বের করা হয়।

ইতোমধ্যে মিছিলের ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলার আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানুকা রুমা সিনেমা হলের সামনে থেকে এসে কলেজ গেটে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মহসিন মাদবরকে। মিছিল থেকে জয় বাংলার স্লোগান, শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ’আমরা মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। মিছিলটি আজকের নাকি পূর্বের সেটি নিশ্চিত হতে পারিনি। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/