গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, 'অনেকে মনে করছেন নির্বাচন সহজ হবে। আমি এক বছর আগে বলেছিলাম, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। এখন পারিপার্শ্বিক দিক দেখলে মনে হচ্ছে, সেই কথাই সত্যি হতে যাচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ বিএনপির আন্দোলন চলবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের মালিক জনগণ, জনগণই বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস।’ জনগণের চাওয়া ও সমর্থনের বাইরে গিয়ে বিএনপি কোনো পদ্ধতিকে সমর্থন করবে না। জনগণ যা সমর্থন করে তার বাইরে কোনো কিছু বিএনপি অনুসরণ করবে না। জনগণ শুধু বেছে নেবে না, জনগণই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে কে আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার টেবিলে বসে জনগণকে বাদ দিয়ে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তবে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে। এটি দেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়। বরং এতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আবার ফিরে আসার সুযোগ পাবে।'
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, 'বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থানসহ সব খাত সংস্কারের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে; রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নষ্ট করেছে; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে গুম-খুনের রাজনীতি চালিয়েছে; লাখ লাখ গায়েবি মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের আদালতের বারান্দায় ঘুরিয়েছে। দেশে তিন কোটি নতুন ভোটার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। ফলে ভোটব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শিশু, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করেছে। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত, কৃষি ও কর্মসংস্থান-সব ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি।'
এর আগে সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, 'বিএনপি হলো সেই রাজনৈতিক দল যারা মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২১দফা আর বেগম খালেদা জিয়ার রূপকল্পের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য ৩১দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে দেশ তছনছ হয়ে গেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির লড়াই অব্যাহত থাকবে।'
দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এ জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. পয়গাম আলী।
সম্মেলনে রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু হানিফ মুক্তা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস, ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুর করিম।
নবীন/রিফাত/