ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার

বিএনপির মনোনয়ন: ৩ ডজন প্রবাসী নেতা আলোচনায়

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৭ এএম
বিএনপির মনোনয়ন: ৩ ডজন প্রবাসী নেতা আলোচনায়
ছবি: খবরের কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিন ডজনের বেশি প্রবাসী নেতা আলোচনায় রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন প্রবাসে রাজনীতি করার পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে সরব ভূমিকা পালন করছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ছিল তাদের যোগাযোগ। শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ফিরে সক্রিয় হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে। ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাথমিক জরিপে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম উঠে এসেছে। হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। 

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত করে আসছেন এসব প্রবাসী নেতা। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছর লন্ডনে বিএনপির মূল কান্ডারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চারপাশে ছায়ার মতো ছিলেন তারা। এ ছাড়া শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে জনমত তৈরিতে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই কারণে আওয়ামী লীগ সরকার অনেককেই দেশে আসতে দেয়নি। সাংগঠনিক বিস্তার, আর্থিক সহায়তা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই নেতাদের ভূমিকা বিএনপির আগামী রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রতিটি আসনে কয়েকজন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। সামর্থ্য, এলাকায় জনপ্রিয়তা ও দলে তার অবদান দেখা হবে। কয়েকজনের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করা হবে। যাকে মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে দল নিশ্চিত হতে পারবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ এবং ওসমানীনগর) আসনে থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির। ১৫ বছর ধরে তারেক রহমানের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রবাসে থেকে দলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া দেশের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এই কারণে তাকে দেশে আসতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন। এই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর (লুনা) রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা আছে, মনোনয়ন দৌড়ে লুনার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন হুমায়ুন কবির। 

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সিলেটের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনছি ও সমাধানের চেষ্টা করছি। এলাকায় ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। যেহেতু রাজনীতি করি, তাই নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে সবকিছু বিবেচনা করবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।’ তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে নির্দেশনা দেবেন, সেই মোতাবেক কাজ করব।’ 

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই প্রবাসী নেতা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। ব্যক্তিগত কাজে এম এ সালাম এখন দেশে এলেও আওয়ামী লীগ আমলে আসতে পারেননি। আওয়ামী লীগের হিংসাপরায়ণ হয়ে খেটেছেন জেল। এই আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তবে নেতা-কর্মীদের ধারণা, বিএনপির প্রবাসী দুই নেতার মধ্যে থেকে শেষ পর্যন্ত একজন মনোনয়ন পেতে পারেন। 

নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েমের নাম এলাকার জনগণের মুখে মুখে ফিরছে। ব্যারিস্টার সায়েম খবরের কাগজকে বলেন, ‘এলাকার রাজনীতিতে নতুন কিছু করে মানুষের মন জয় করতে চাই। মিথ্যা আশ্বাসের বদলে কথা ও কাজে মিল আছে, এমন রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। দল মনোনয়ন দিলেই কেবল নির্বাচন করব। মনোনয়ন না দিলেও আজীবন দলের নির্দেশনায় কাজ করব।’

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে পাঁচজন প্রবাসী মনোনয়নপ্রত্যাশী। এরা হলেন ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট্রের চেয়ারম্যান লন্ডনপ্রবাসী ফাহিম আল চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিস চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিম চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক জাকি মোস্তফা টুটুল, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমল থেকেই ফাহিম আল চৌধুরী দেশে আসতে পারেননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম এবং তারেক রহমানের পাশে থেকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আর ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরেছেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজিম চৌধুরী। 

সিলেট-৪ (বিয়ানীবাজার) আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু। ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত থাকায় বাংলাদেশে আর আসতে পারেননি। এলাকায় পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত জিল্লুর রহমান ধানের শীষের মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান তার অনুসারীরা। 

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় দিনরাত কাজ করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সংগঠক। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বিএনপির তৃণমূল সংগঠনসহ সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। এ ছাড়া সন্দ্বীপে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখায় তিনি এখন স্থানীয় জনগণের কাছে আপনজন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। তবে তিনি বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ। তাই মনোনয়ন দৌড়েও এগিয়ে আছেন মিল্টন ভূঁইয়া। 

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সন্দ্বীপবাসীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা আমার জীবনের অঙ্গীকার। এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করছি। জনগণের কাছ থেকেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি দলের দুর্দিনে জনগণের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব। দল মনোনয়ন দিলে কেবল নির্বাচনে দাঁড়াব।’ 

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য বাদে প্রায় ৬০ দেশে বিএনপির সাংগঠনিক কাজের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। খবরের কাগজকে খোকন বলেন, ‘লন্ডনে থেকেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কাজ প্রতিনিয়ত করছি। ৩১ দফার প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। দল কেবল মনোনয়ন দিলেই নির্বাচনে অংশ নেব।’ তবে এই আসনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বাদলও মনোনয়নপ্রত্যাশী।

শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ-সখিপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুইডেনপ্রবাসী মহিউদ্দিন আহমেদ জিন্টু। তিনি ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এবং ইউরোপ বিএনপির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সুইডেন বিএনপির সাবেক সভাপতি জিন্টু বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন ও শান্তি আমার লক্ষ্য; দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অরাজকতার বিরুদ্ধে আপসহীন থাকব। নির্বাচিত হলে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।’ 

মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ফিনল্যান্ডপ্রবাসী ও সিরাজদিখান উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জামান সরকার। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি প্রবাসে আছেন। বর্তমানে ফিনল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। জামান সরকার বলেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, জনগণের ভোটে যদি নির্বাচিত হই, তাহলে আমার প্রথম অঙ্গীকার থাকবে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ ও সহসভাপতি এম এ সাত্তার নির্বাচনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। যেকোনো একজন মনোনয়ন পেতে পারেন।
 
হবিগঞ্জ-২ (আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সৌদি আরব বিএনপির আহ্বায়ক আহমদ আলী মুকিব। তিনি মধ্যপ্রাচ্য বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। 

ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী-পরশুরাম) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডেনমার্ক বিএনপির সভাপতি গাজী মনির আহমেদ। তিনি ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতিও ছিলেন। তবে এই আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু এবং মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর দেশে ফিরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাহিদুর। আর গত ১৫ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের হাত থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক মহলে শিপলুর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস, জাতিসংঘ সদর দপ্তর, ফেডারেল বিল্ডিং, সিএনএন বিল্ডিংসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বব্যাপী। 

টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুইডেনপ্রবাসী বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল আবেদীন মোহন। তিনি সুইডেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহিদুল্লাহ হলের সহসভাপতি ছিলেন। তবে এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী গিয়াস আহমেদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এই আসনে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী মনোনয়নপ্রত্যাশী।

পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফিনল্যান্ডপ্রবাসী কৃষিবিদ মো. আসলাম ফকির লিটন। তিনি ফিনল্যান্ড বিএনপির সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক। 

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবদলের সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইলিয়াস খান। প্রবাসে ২৯ বছর জীবনযাপন করছেন। বিদেশে পাড়ি জমানোর আগেও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র যুবদলকে সংগঠিত করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। 

এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটন, নড়াইল-২ আসন থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে সুইডেনপ্রবাসী শহীদুজ্জামান কাকন, বগুড়ার যেকোনো একটি আসন থেকে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জাপানপ্রবাসী ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর আবু নাছের শেখ, ঝালকাঠি-১ আসনে নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, ময়মনসিংহ-৯ আসনে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা মালয়েশিয়াপ্রবাসী মামুন বিন আব্দুল মান্নান, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ও সিনিয়র বিজ্ঞানী ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম এবং রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিএনপির সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহীন, জয়পুরহাট-২ আসনে ওমানপ্রবাসী অ্যাব নেতা প্রকৌশলী আমিনুর ইসলাম (সিআইপি), চাঁদপুর-৩ আসনে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জাপানপ্রবাসী খোরশেদ আলম মাইকেল, বরিশাল-১ আসনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড (বোস্টন) বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম সাইফুল ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা
খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশাকে কারাগারে পাঠিয়ে আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক মামলার আসামি খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা। মে মাসে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিম্ন আদালতে (ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালত) আত্মসমর্পণ করেন। এসময় বিচারকের নির্দেশে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই
হারুণ অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ আর নেই। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ হারুণ অর রশীদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হারুণ অর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও নিয়োজিত ছিলেন হারুন অর রশীদ। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নে।

রাষ্ট্র পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হারুণ অর রশীদ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের পরকীয়া ও মুতা বিয়ে ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “কোন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার দিক সংসদে আলোচনার বিষয় নয়।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে খোন্দকার আবু আশফাক বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলেন। বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলেন। কিন্তু গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাটি আসলে কী ছিল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন, “মুতা বিয়ে কী জিনিস আমি জানতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল এবং বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।

তার বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বলেন, “অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সংসদে না আনাই ভালো। যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।” মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “আমাকে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা না করাই ভালো।”

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, “উনি কোনো মুতা বিয়ে করেননি। তাকে হ্যারাস করা হয়েছিল।” বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও বক্তব্যটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার বলেন, “মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা চাই না।”

এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানও প্রসঙ্গটি থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মুতা বিয়ে একসময় ছিল, এখন তা নিষিদ্ধ ও হারাম।” শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এলিস/আমান

প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র
ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এর নামে একটি রাষ্ট্রীয় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় তিনি প্রায় দেড় বছর আগে মৃত্যুবরণ করলেও তার নাম ব্যবহার করে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য একটি রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরের জন্য এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। ১৭ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ডেস্কে চিঠিটি পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান ছেলে সাঈদ আল নোমান। তিনি লেখেন, সংসদ এখনো তার প্রয়াত পিতার নামকে সম্মান ও স্মৃতিতে ধারণ করছে—এমন অনুভূতি তার মনে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি লিখেন, আজ ১৭ই জুন ২০২৬ আমার জীবনের বিশাল এক বিমূর্ত প্রাপ্তির দিন। অধিবেশন চলাকালীন এ মুহূর্তটি আমার আবেগের জগতকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে। আমার ডেস্ক-এ একটি দাওয়াতপত্র পৌঁছলো, যেখানে “আবদুল্লাহ আল নোমান” নামটি লেখা।

হয়তো এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল। কিন্তু অনুভূতির জগতে এর অর্থ একেবারেই অন্যরকম। আমার মনে হলো, জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে—“আবদুল্লাহ আল নোমান” সংসদে উপস্থিত আছেন; তিনি এখনও বেঁচে আছেন মানুষের অনুভূতিতে, তাঁদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। তাই প্রশ্ন জাগে মনে — “মৃত নোমান কি জীবিত নোমানের চেয়েও শক্তিশালী?” উত্তর নিঃসন্দেহে ‘হ্যাঁ’!

এসএন/

পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্মমতার মধ্য দিয়ে পুশ ইনের মুখোমুখি হয়েছে ছাত্র নামধারী রাজাকারদের সমর্থকগোষ্ঠীর উল্টা-পাল্টা কথা আর আচরণের কারণে।

একথাও সত্য প্রমাণিত হয়েছে- বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে যে জুলাইয়ের জন্ম দিয়েছে ছাত্র নামধারী যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকগোষ্ঠী, সেই জুলাইয়ের কারণে আজ যুদ্ধাপরাধীরা সংসদ সদস্য হতে পেরেছে, জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছে ছাত্র নামধারী বিশ্ববাটপার গোষ্ঠীর সমন্বয়করা। যারা ৫ আগস্টের আগে যারা স্লোগান দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যেও ঠাঁই নাই; তারাই পরে স্লোগান দিলো ‘দিল্লি না ঢাকা; এখন আর আবার সেই দিল্লিতেই চিকিৎসার জন্য বাপ-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠীকে নিয়ে যায়।

সমাবেশে প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী মুন্নি আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হরি দাস সরকারসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মন্ডল, হাশেম মোল্লা, নতুনধারার মিডিয়া সেল সদস্য সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, জাতীয় শ্রমিকধারার আহ্বায়ক বাবুল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আহমেদ ফারুক, গীতিকার রুবেল, রাব্বি হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংহতি প্রকাশ করেন সংবাদযোদ্ধা গাজী তুষার আহমেদ ও মানবাধিকারকর্মী নূরে আলম আকন্দ। সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নতুনধারার নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখা হয়- নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি গত ১৩ বছর ধরে অন্যায়-অপরাধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, খুন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে রাজপথে কথা বলার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, মাদকদ্রব্যসহ সব চোরা চালান বন্ধের দাবিতে সোচ্চার ছিলো, এখানো আছে, আগামীতেও থাকার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ আছে। সেই পথচলায় আজকের এই স্মারকলিপি প্রদান করছি। যাতে করে সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার পরিহার করা হয়, কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদকদ্রব্যসহ কোনো প্রকার চোরাচালান যেন না করতে পারে সে জন্য নিরবিচ্ছিন্ন তদারকি দুই দেশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধিরও দাবি জানাচ্ছি ছাত্র-যুব-জনতার রাজনৈতিক মেলবন্ধন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে। পরিশেষে আশা করবো যে, আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা, প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মানুষের জীবনের কথা ভেবে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিত থাকবেন ও রাখবেন।

 চলমান পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের অনেকেই চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন নারী, শিশু ও জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন এমন প্রবীণ মানুষও। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাই করা হলে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে দ্রুত গ্রহণ করা আর বাংলাদেশি না হলে সসম্মানে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করত চলমান সমস্যা সমাধানেরও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এর দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনে হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বরাবর পুশ ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে কমিশন থেকে জানানো হয়- আপাতত পুশ ইন সংক্রান্ত কোনো স্মারকলিপি গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে নতুনধারার চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেন, ইমেইলে স্মারকলিপি পাঠানো হবে, তাদের উত্তরের পর আমরা গণমাধ্যমের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।

এসএন/