ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস সবার আগে শেষ নকআউটে মেক্সিকো বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ কানাডার উৎসব ম্লান ভয়াবহ চোটে গোলোৎসবের দিন মেসির গোল উদযাপনে বদলের পরামর্শ ২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ইকুয়েডর বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে মরক্কোর জয় বিদায়ের আগে আবেগঘন এক বন্ধনের গল্প বস্টনের মন জয় করেছে টার্টান আর্মি দ্রুততম গোলে এগিয়ে বিরতিতে মরক্কো সুইডিশ সমর্থকদের ‘ইয়েলো মার্চ’ রদ্রিকে নিয়ে সমালোচনা ‘অপমানজনক’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে স্পেন ৭২ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপে রেকর্ড মরক্কোর জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান

ক্যানসার আক্রান্ত হেফাজত নেতা মাওলানা ফারুকীর পাশে তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৭ পিএম
ক্যানসার আক্রান্ত হেফাজত নেতা মাওলানা ফারুকীর পাশে তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার আক্রান্ত হেফাজতে ইসলাম নেতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার বারিধারায় জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাওলানা ফারুকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ মাওলানা ফারুকীর হাতে তুলে দেন এবং সবসময় অতীতের মতো আলেমদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রুহুল কবির রিজভী। 

এদিকে, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন সংগঠনটির আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন ও শাহাদত হোসেন।

এ সময় সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ও আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই আজ আমরা মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকী’র পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমরা জেনেছি সাধারণ মানুষও সাধ্যমতো ভালোবাসা নিয়ে মাওলানা ফারুকী’র পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ কাসেমী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী, হাফেজ মাওলানা নূর মোহাম্মদ, মুফতি জাকির হোসেন কাসেমী, মাওলানা সালেহ আহমদ আজম ও মুফতি এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসভাপতি জামিল হোসেন, বর্তমান সহসভাপতি ডা. তৌহিদ আওয়াল, হাবিবুল বাশার, যুগ্ম-সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজিব, হাসানুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান রনি, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহানসহ বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ প্রমুখ।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে গত ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় মিথ্যা ১৬টি মামলায় তিনি কারাভোগ করেন। তার একমাত্র অপরাধ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এর বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হওয়া। পতিত সরকারের আমলে ২৪ দিন রিমান্ডে অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চিকিৎসাবিহীন টানা দেড় বছর কারাভোগ মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়ে উঠে।

গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের চূড়ান্ত ধকলেই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর একনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা ফারুকীর শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যানসার। ইত:পূর্বে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসকদের পাশাপাশি ভারতের চেন্নাই সিএমসি হাসপাতালে প্রায় বছরখানেক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অবশেষে আগের চিকিৎসার অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীকে চীনের গুয়াংজু হাসপাতালে অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা তার সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ও তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।

মাহফুজ/

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার ২৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।​

১৮ জুন কমিটি অনুমোদন দিলেও প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার (১৯ জুন)। 

​ঘোষিত কমিটিতে তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি-কে সভাপতি, গিয়াস উদ্দীন-কে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সরোয়ার হোসেন রুবেল-কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া মিনহাজ উদ্দিন টিটু সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সুজাউদ্দৌলা সজিব সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ৮৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৫২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।​ কমিটিতে অন্যান্য শীর্ষ পদের মধ্যে ৪৫ জন সহ-সভাপতি, ৫৭ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ১ জন দপ্তর সম্পাদক ও ৩ জন সহ-দপ্তর সম্পাদক, ১ জন প্রচার সম্পাদক ও ৩ জন সহ-প্রচার সম্পাদক পদ পেয়েছেন।

 এছাড়াও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে ৪৪ জন এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে ৫৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে এই বিশাল আকৃতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজানো হয়েছে।​কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী, নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চট্টগ্রামের উত্তর জনপদে দলের ছাত্র রাজনীতিকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এসএন/

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে কর্মী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে কর্মী
এনসিপি কর্মীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন দলটির কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা। 

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সস্মেলন করেন ভুক্তভোগী। 

সংবাদ সস্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন আমাকে একাধিকবার ফোনকল ও বার্তা পাঠিয়ে জানায়, জাতীয় নারী শক্তির কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। তাই তিনি আমাকে নগরের জিইসি মোড়স্থ হোটেল পেনিনসুলার টপ ফ্লোরে অবস্থিত বারে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে দেখি এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দীন, সাদিয়া আফরিন এবং আরও দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ অবস্থান করছিলেন। নারী শক্তির কমিটি গঠনসংক্রান্ত বৈঠক বলা হলেও সাদিয়া আফরিন ছাড়া আর কোনো নারী সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না৷ তাই শুরু থেকেই বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য সাংগঠনিক আলোচনা বলে উল্লেখ করা হলেও সেখানে কোনো সাংগঠনিক বিষয়, কমিটি গঠন, কর্মপরিকল্পনা বা রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। বরং আমার ব্যক্তিগত পরিচয়, পারিবারিক পটভূমি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ করা হয় এবং পরবর্তীতে আমাকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ প্রদানের আশ্বাস, ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

তিনি বলেন, বৈঠকস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ধূমপান করছিলেন এবং আমাকে ধূমপানে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে আমাকে মদ্যপানেও উৎসাহিত করা হয়। আমি এসবে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন বারবার আমাকে সুজা উদ্দীনের কথামতো চলতে চাপ দেয়। একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকার অজুহাত দেখিয়ে বৈঠকের স্থান ত্যাগ করেন এবং আমাকে দুইজন পুরুষের উপস্থিতিতে একা রেখে যান। একজন নারী নেত্রী হিসেবে তার এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন, অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক। পরে পারি, তিনি সেখানে আশপাশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সানজিদা বলেন, সাদিয়া আফরিন চলে যাওয়ার পর সুজা উদ্দীন আমার প্রতি অশোভন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেন এবং একাধিকবার অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক ইঙ্গিত দেন। তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানোর ইঙ্গিত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেন। আমি তার প্রস্তাবে কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া না দিলে তিনি বারবার ‘ডিল অর ডেথ’ বাক্যটি উচ্চারণ করতে থাকেন এবং তার প্রস্তাবে সম্মতি না দিলে নেতিবাচক পরিণতির ইঙ্গিত দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতার লোভ দেখিয়ে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ হয়ে উঠলে আমি বৈঠকের স্থান ত্যাগ করি। নিচে নেমে এসে সাদিয়া আফরিনকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাকে বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের এভাবে পার্সোনাল সময় দিতে হয়, এটাই রাজনৈতিক কালচার।’

তিনি বলেন, আমরা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করছি, দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের আচরণ সেই আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। 

সংবাদ সম্মেলন শেষে এনসিপি কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা বলেন, আমি একটি ধর্মীয় ও মুল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেছি। রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সাংগঠনিক বৈঠকের কথা বলে আমাকে একটি আবাসিক হোটেলের বারে ডেকে নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি করা আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক, বেদনাদায়ক এবং রাজনৈতিকভাবে হতাশাজনক। আমি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসিনি। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি চাই, আমার অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হোক। যদি আমার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মী যেন এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

এসএন/

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা
খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশাকে কারাগারে পাঠিয়ে আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক মামলার আসামি খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা। মে মাসে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিম্ন আদালতে (ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালত) আত্মসমর্পণ করেন। এসময় বিচারকের নির্দেশে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই
হারুণ অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

হারুন অর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও নিয়োজিত ছিলেন হারুন অর রশীদ। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নে।

রাষ্ট্র পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হারুন অর রশীদ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল এমপি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রশাসক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. মহসীন মোল্লাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের পরকীয়া ও মুতা বিয়ে ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “কোন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার দিক সংসদে আলোচনার বিষয় নয়।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে খোন্দকার আবু আশফাক বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলেন। বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলেন। কিন্তু গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাটি আসলে কী ছিল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন, “মুতা বিয়ে কী জিনিস আমি জানতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল এবং বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।

তার বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বলেন, “অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সংসদে না আনাই ভালো। যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।” মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “আমাকে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা না করাই ভালো।”

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, “উনি কোনো মুতা বিয়ে করেননি। তাকে হ্যারাস করা হয়েছিল।” বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও বক্তব্যটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার বলেন, “মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা চাই না।”

এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানও প্রসঙ্গটি থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মুতা বিয়ে একসময় ছিল, এখন তা নিষিদ্ধ ও হারাম।” শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এলিস/আমান